২৮ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩
২৮ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩

বিচারকের সামনে সাক্ষীকে গুলি করে খুন! ১২ বছর পর দোষীকে যাবজ্জীবনের সাজা দিল চন্দননগর আদালত

নিজস্ব সংবাদদাতা : ভরা আদালতে বিচারকের সামনে সাক্ষীকে গুলি করে খুন করেছিল। ১২ বছর পর দোষীকে যাবজ্জীবনের সাজা দিল চন্দননগর আদালত ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি চন্দননগর আদালতে  একটি মামলায় সাক্ষ্য দিতে এসেছিলেন সোমনাথ কোলে নামে এক ব্যক্তি। তিনি যখন এজলাসে দাঁড়িয়ে বিচারকের সামনে সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন সেই সময়ে আরশাদ শেখ নামে এক আততায়ী এসে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

 

গুলি চলতেই গোটা কোর্ট রুমে তখন হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। সকলেই ছোটাছুটি করতে থাকেন। এদিকে পুলিশ আরশাদকে ধরে ফেলে। তার হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্রটি ছিনিয়ে নেয়। সোমনাথকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। সেই সময় থেকে আরশাদ জেল হেফাজতেই ছিল।

আরশাদ আদতে মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা। রাজমিস্ত্রির কাজ করত। কাজের সূত্রে সে সিঙ্গুরের নসিবপুরে থাকত। সেখানে এক যুবতীর সঙ্গে তাঁর প্রেম হয়। পরে যুবতী সোমনাথ কোলেকে বিয়ে করে নেয়।

এরপর থেকে যুবতীকে উত্যক্ত করত আরশাদ। একদিন যুবতীকে রাস্তায় একা পেয়ে তাঁকে মারধর করে। সিঙ্গুর থানায় সেই ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ওই যুবতী। আরশাদের বিরুদ্ধে ৩০৭ ও ৩২৬ ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ। ঘটনার দিন সেই মামলায় চন্দননগর আদালতে স্বাক্ষ্য দিতে গিয়েছিলেন সোমনাথ। সেখানেই তাঁকে খুন করা হয়।

মামলার সরকারি আইনজীবী গোপাল পাত্র ও গদাধর নন্দী জানিয়েছেন, সেদিন সোমনাথের পিছন পিছন আদালতে ঢোকে আরশাদ।পকেট থেকে পিস্তল বের করে একটা গুলি সাক্ষীর বুকের বাঁদিকে চালিয়ে দেয় সে। আদালতের নিরাপত্তারক্ষী আততায়ীকে ধরে ফেলে তার কাছ থেকে একটি চাইনিজ পিস্তল পাওয়া যায়। যার ভিতর দুই রাউন্ড গুলি ছিল। গুলিবিদ্ধ সোমনাথকে চন্দননগর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। ফরেনসিক তদন্তে ১৪ জনের সাক্ষ্য নেওয়ার পর অভিযুক্ত আরশাদকে ৩০৭ ও ২৫/২৭ অস্ত্র আইনে দোষী সাব্যস্ত করে চন্দননগরের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট।

 

 

সিউড়িতে ধর্ষণ অভিযোগে বিজেপি নেতা গ্রেফতার, চাঞ্চল্য বীরভূমে

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বিচারকের সামনে সাক্ষীকে গুলি করে খুন! ১২ বছর পর দোষীকে যাবজ্জীবনের সাজা দিল চন্দননগর আদালত

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩, রবিবার

নিজস্ব সংবাদদাতা : ভরা আদালতে বিচারকের সামনে সাক্ষীকে গুলি করে খুন করেছিল। ১২ বছর পর দোষীকে যাবজ্জীবনের সাজা দিল চন্দননগর আদালত ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি চন্দননগর আদালতে  একটি মামলায় সাক্ষ্য দিতে এসেছিলেন সোমনাথ কোলে নামে এক ব্যক্তি। তিনি যখন এজলাসে দাঁড়িয়ে বিচারকের সামনে সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন সেই সময়ে আরশাদ শেখ নামে এক আততায়ী এসে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

 

গুলি চলতেই গোটা কোর্ট রুমে তখন হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। সকলেই ছোটাছুটি করতে থাকেন। এদিকে পুলিশ আরশাদকে ধরে ফেলে। তার হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্রটি ছিনিয়ে নেয়। সোমনাথকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। সেই সময় থেকে আরশাদ জেল হেফাজতেই ছিল।

আরশাদ আদতে মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা। রাজমিস্ত্রির কাজ করত। কাজের সূত্রে সে সিঙ্গুরের নসিবপুরে থাকত। সেখানে এক যুবতীর সঙ্গে তাঁর প্রেম হয়। পরে যুবতী সোমনাথ কোলেকে বিয়ে করে নেয়।

এরপর থেকে যুবতীকে উত্যক্ত করত আরশাদ। একদিন যুবতীকে রাস্তায় একা পেয়ে তাঁকে মারধর করে। সিঙ্গুর থানায় সেই ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ওই যুবতী। আরশাদের বিরুদ্ধে ৩০৭ ও ৩২৬ ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ। ঘটনার দিন সেই মামলায় চন্দননগর আদালতে স্বাক্ষ্য দিতে গিয়েছিলেন সোমনাথ। সেখানেই তাঁকে খুন করা হয়।

মামলার সরকারি আইনজীবী গোপাল পাত্র ও গদাধর নন্দী জানিয়েছেন, সেদিন সোমনাথের পিছন পিছন আদালতে ঢোকে আরশাদ।পকেট থেকে পিস্তল বের করে একটা গুলি সাক্ষীর বুকের বাঁদিকে চালিয়ে দেয় সে। আদালতের নিরাপত্তারক্ষী আততায়ীকে ধরে ফেলে তার কাছ থেকে একটি চাইনিজ পিস্তল পাওয়া যায়। যার ভিতর দুই রাউন্ড গুলি ছিল। গুলিবিদ্ধ সোমনাথকে চন্দননগর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। ফরেনসিক তদন্তে ১৪ জনের সাক্ষ্য নেওয়ার পর অভিযুক্ত আরশাদকে ৩০৭ ও ২৫/২৭ অস্ত্র আইনে দোষী সাব্যস্ত করে চন্দননগরের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট।