২৬ মে ২০২৬, মঙ্গলবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
২৬ মে ২০২৬, মঙ্গলবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সুর্পণখা উবাচ – এক উপেক্ষিতার আত্মকথন

  • নতুন গতি
  • আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২২, শুক্রবার
  • 9

নতুন গতি নিউজ ডেস্ক: সূর্পণখা — রামায়ণের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ অথচ উপেক্ষিতা এক খল নারী চরিত্র, রাম-রাবনের যূদ্ধের প্রধান হোতা। লঙ্কারাজ রাবণের ভগিনী রক্ষোরাজকুমারী সূর্পণখার নাক-কান কাটা যায় রাম ও লক্ষ্মণকে প্রেমপ্রস্তাব দেবার ফলস্বরূপ রামানুজ লক্ষ্মণের হাতে। আর তারই প্রতিশোধ নিতে রাবণকে রামের বিরুদ্ধে প্ররোচনা দিয়ে মহাযুদ্ধের সূচনা করে এই সূর্পণখা। রামায়ণের এই গল্প অল্প-বিস্তর সকলেরই জানা। কিন্তু এই জানাটা কি সম্পূর্ণ জানা? নাকি, অনেক অজানা গল্প লুকিয়ে আছে মূল গল্পের আনাচে কানাচে? স্বরবৃত্ত ছন্দে রচিত কবি-সাহিত্যিক প্রশান্ত সেনের গবেষণামূলক কাব্য “সূর্পণখা উবাচ”-এ প্রকাশ পায় সেই অজানা তথ্যগুলো। স্বয়ং সূর্পণখার বয়ানে বাগুইআটি সহজিয়া নাট্যসংস্থার প্রযোজনায় এই কাব্যই নাট্যাকে প্রথমবার মঞ্চস্থ হয় সল্টলেকের ন্যাশেনাল মাইম ইনস্টিটিউটে, স্বয়ং প্রশান্ত সেনের নির্দেশনা ও সম্পাদনায়।

প্রতিবারের মতন এবারেও নতুনত্বের চমকে দর্শকদের মন জয় করেছে বাগুইআটি সহজিয়া নাট্যসংস্থা। নির্দেশক প্রশান্ত সেনের নিত্যনতুন ভাবনা, প্রয়োগের অভিনবত্ব, প্রথা ভাঙার অদম্য প্রবণতা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।

এবার আসা যাক অভিনয় প্রসঙ্গে। একক অভিনয়ে অর্ণিশা সেন তাঁর অভিনয়-দক্ষতায় মোহিত করেছেন দর্শকদের। তাঁর ভয়েস মডিউলেশন রীতিমতো শিক্ষণীয়। তাই সূর্পণখা ছাড়া তিনি অবলীলায় হয়ে ওঠেন রামায়ণের একেকটি চরিত্র। অভিনয়ের গতিকে এতটুকু মন্থর না করে আভরণের খোলা-পরায় কখনও তিনি রক্ষোরাজকুমারী, কখনো-বা শৃঙ্গারহীন দানববধূ, আবার কখনও মায়াবিনী অরণ্যচারিণী। সর্বমোট বারোটি পর্বে রচিত এই কাব্যে প্রয়োজনীয় স্বরের প্রক্ষেপণ ও আঙ্গিক অভিনয়ে নিরবিচ্ছিন্নভাবে দৃশ্যপট রচনা করে চলেন অর্ণিশা। অর্ণিশার অঙ্গ নির্দেশনা করেছেন শ্রীমতী শালিনী বোস। তন্ময় মণ্ডল ও জ্যোতিষ্ক চ্যাটার্জী যথাক্রমে নাল ও হারমোনিয়ামে যোগ্য সঙ্গত করেছেন মঞ্চে বসেই।
মঞ্চ ভাবনাতেও নির্দেশকের অভিনবত্বের ছোঁয়া‌। সূর্প বা কুলোর ওপর আঁকা রাক্ষসের মুখ যথেষ্ট ইঙ্গিতবহ। কুলোর ওপর এই কারুকাজ করেছে ঝিলাম রায়। মঞ্চের একদিকে দোয়াত-কলম ইত্যাদি যেন বাল্মিকীর প্রতীক অন্যদিকে যুদ্ধ বিধব্স্ত অস্ত্র-শস্ত্র যেমন তীর-ধনুক-বল্লম-তুনীর-ঢাল-তরোয়াল। নির্দেশকের মঞ্চভাবনাকে বাস্তবায়িত করেছে সুদান হালদার, কৃত্তিকা বোস, পপি দাস ও প্রত্যুষা সেন। মঞ্চে আলোকের মায়াজাল রচনা করেছে সুবল কর্মকার ও তার যোগ্য সহযোগী সৈকত মান্না। পোশাক ও রূপসজ্জায় তনিমা মুখার্জী ও পপি দাস। প্রপস ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনায় রেণু দাস ও পপি দাস।

রচনা-নির্দেশনা-মঞ্চ ভাবনা-আলোক পরিকল্পনা ও সর্বোপরি অর্ণিশার দাপুটে অভিনয় — সার্বিক বিচারে এই নাটকটি সহজিয়ার একটি অন্যতম সফল প্রযোজনা যা বহুবার বহুমঞ্চে অভিনীত হয়ে আরো দর্শকদের মন জয় করে নেবে।

সোনা পাপ্পু, শান্তনু সিনহার পরে এবার লক্ষ্য আরো ৩০ পুলিশ আধিকারিক

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

সুর্পণখা উবাচ – এক উপেক্ষিতার আত্মকথন

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২২, শুক্রবার

নতুন গতি নিউজ ডেস্ক: সূর্পণখা — রামায়ণের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ অথচ উপেক্ষিতা এক খল নারী চরিত্র, রাম-রাবনের যূদ্ধের প্রধান হোতা। লঙ্কারাজ রাবণের ভগিনী রক্ষোরাজকুমারী সূর্পণখার নাক-কান কাটা যায় রাম ও লক্ষ্মণকে প্রেমপ্রস্তাব দেবার ফলস্বরূপ রামানুজ লক্ষ্মণের হাতে। আর তারই প্রতিশোধ নিতে রাবণকে রামের বিরুদ্ধে প্ররোচনা দিয়ে মহাযুদ্ধের সূচনা করে এই সূর্পণখা। রামায়ণের এই গল্প অল্প-বিস্তর সকলেরই জানা। কিন্তু এই জানাটা কি সম্পূর্ণ জানা? নাকি, অনেক অজানা গল্প লুকিয়ে আছে মূল গল্পের আনাচে কানাচে? স্বরবৃত্ত ছন্দে রচিত কবি-সাহিত্যিক প্রশান্ত সেনের গবেষণামূলক কাব্য “সূর্পণখা উবাচ”-এ প্রকাশ পায় সেই অজানা তথ্যগুলো। স্বয়ং সূর্পণখার বয়ানে বাগুইআটি সহজিয়া নাট্যসংস্থার প্রযোজনায় এই কাব্যই নাট্যাকে প্রথমবার মঞ্চস্থ হয় সল্টলেকের ন্যাশেনাল মাইম ইনস্টিটিউটে, স্বয়ং প্রশান্ত সেনের নির্দেশনা ও সম্পাদনায়।

প্রতিবারের মতন এবারেও নতুনত্বের চমকে দর্শকদের মন জয় করেছে বাগুইআটি সহজিয়া নাট্যসংস্থা। নির্দেশক প্রশান্ত সেনের নিত্যনতুন ভাবনা, প্রয়োগের অভিনবত্ব, প্রথা ভাঙার অদম্য প্রবণতা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।

এবার আসা যাক অভিনয় প্রসঙ্গে। একক অভিনয়ে অর্ণিশা সেন তাঁর অভিনয়-দক্ষতায় মোহিত করেছেন দর্শকদের। তাঁর ভয়েস মডিউলেশন রীতিমতো শিক্ষণীয়। তাই সূর্পণখা ছাড়া তিনি অবলীলায় হয়ে ওঠেন রামায়ণের একেকটি চরিত্র। অভিনয়ের গতিকে এতটুকু মন্থর না করে আভরণের খোলা-পরায় কখনও তিনি রক্ষোরাজকুমারী, কখনো-বা শৃঙ্গারহীন দানববধূ, আবার কখনও মায়াবিনী অরণ্যচারিণী। সর্বমোট বারোটি পর্বে রচিত এই কাব্যে প্রয়োজনীয় স্বরের প্রক্ষেপণ ও আঙ্গিক অভিনয়ে নিরবিচ্ছিন্নভাবে দৃশ্যপট রচনা করে চলেন অর্ণিশা। অর্ণিশার অঙ্গ নির্দেশনা করেছেন শ্রীমতী শালিনী বোস। তন্ময় মণ্ডল ও জ্যোতিষ্ক চ্যাটার্জী যথাক্রমে নাল ও হারমোনিয়ামে যোগ্য সঙ্গত করেছেন মঞ্চে বসেই।
মঞ্চ ভাবনাতেও নির্দেশকের অভিনবত্বের ছোঁয়া‌। সূর্প বা কুলোর ওপর আঁকা রাক্ষসের মুখ যথেষ্ট ইঙ্গিতবহ। কুলোর ওপর এই কারুকাজ করেছে ঝিলাম রায়। মঞ্চের একদিকে দোয়াত-কলম ইত্যাদি যেন বাল্মিকীর প্রতীক অন্যদিকে যুদ্ধ বিধব্স্ত অস্ত্র-শস্ত্র যেমন তীর-ধনুক-বল্লম-তুনীর-ঢাল-তরোয়াল। নির্দেশকের মঞ্চভাবনাকে বাস্তবায়িত করেছে সুদান হালদার, কৃত্তিকা বোস, পপি দাস ও প্রত্যুষা সেন। মঞ্চে আলোকের মায়াজাল রচনা করেছে সুবল কর্মকার ও তার যোগ্য সহযোগী সৈকত মান্না। পোশাক ও রূপসজ্জায় তনিমা মুখার্জী ও পপি দাস। প্রপস ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনায় রেণু দাস ও পপি দাস।

রচনা-নির্দেশনা-মঞ্চ ভাবনা-আলোক পরিকল্পনা ও সর্বোপরি অর্ণিশার দাপুটে অভিনয় — সার্বিক বিচারে এই নাটকটি সহজিয়ার একটি অন্যতম সফল প্রযোজনা যা বহুবার বহুমঞ্চে অভিনীত হয়ে আরো দর্শকদের মন জয় করে নেবে।