২৪ জুন ২০২৬, বুধবার, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩
২৪ জুন ২০২৬, বুধবার, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩

সায়নী ঘোষের কলকাতায় টু দিল্লি এয়ারপোর্ট লুক একদম বদলে গেছে

আনজুম মুনির, কলকাতা: ইদানিং অনেকেই সায়নী ঘোষের মধ্যে দ্বিতীয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখছিলেন। সেই সাদা শাড়ি, পায়ে হাওয়াই চটি, শব্দ ব্যবহারেও সেই ঝাঁজ। কিন্তু হঠাৎ সায়নী নিজেকে আবার পুরো পাল্টে ফেললেন। তৃণমূলের ভরাডুবির পর সায়নী ঘোষের কলকাতা টু দিল্লির এয়ারপোর্ট লুক একেবারেই এতদিনের তৃণমূলের ঘরানা থুরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণা থেকে একেবারে হটকে। তা কেন একসময় তৃণমূল সুপ্রিমোর লুক আ লাইক হয়ে উঠেছিলেন সায়নী? রুপোলি পর্দা থেকে রাজনীতির মঞ্চে আসার পর কেনই বা সাজগোজে ছিল মমতার ছোঁয়া। দীর্ঘদিন ধরেই সায়নী ঘোষকে চেনা ছকে দেখা যেত—সুতির সাদামাটা শাড়ি, কপালে ছোট টিপ আর চুলে সাধারণ খোঁপা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই লুক ছিল আদতে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিরপরিচিত সাদাসিধে সাজের এক সযত্ন অনুকরণ। শীর্ষ নেতৃত্বের ভাবমূর্তির সঙ্গে নিজেকে একাত্ম করে মাটির কাছাকাছি থাকার একটা চেষ্টা ছিল তাঁর এই অবয়বে। তবে বিধানসভা নির্বাচনে দলের ধাক্কা খাওয়ার পর থেকেই যেন এক অন্য সায়নীকে দেখছে রাজ্য রাজনীতি।

প্রথাগত ‘রাজনৈতিক ইউনিফর্ম’ ঝেড়ে ফেলে সায়নী এখন ধরা দিচ্ছেন সম্পূর্ণ আধুনিক অবতারে। চুলে এসেছে নতুন ছোট ছাঁট । শাড়ির বদলে কখনও তাঁকে দেখা যাচ্ছে জিনস-টি শার্টে, আবার কখনো ক্যাজুয়াল সালোয়ার-কামিজে। অথচ মমতার মতো এই সাজপোশাক ধারণ করা নিয়ে সায়নীর নিজের যুক্তি ছিল বেশ জোরালো। গত বছর নভেম্বর মাসে ‘টিভি নাইন বাংলা’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই ‘দিদিপন্থী’ লুক নিয়ে মুখ খুলেছিলেন সায়নী ঘোষ। তিনি জানিয়েছিলেন, “আমি যে নেত্রীর দল করি, ওর দল করতে করতে আমাকে নরেন্দ্র মোদীর মতো দেখতে হলে মুশকিল হয়ে যাবে। বা ওর দল করতে করতে আমাকে যদি সিপিএমের নেতার মতো দেখতে লাগে বা সনিয়া গান্ধীর মতো দেখতে লাগে, সেটা তো সমস্যা। আমি যাঁর দল করি, আমাকে তাঁর মতো দেখতে লাগে, আমি তাঁর মতো সাধারণ থাকতে চাই। তাঁর মতোই মাটির কাছাকাছি থাকতে চাই। আমি কোনওদিনই, খুব বাড়াবাড়ি সাজতাম না। অভিনয় যখন করতাম, তখনও খুব সাধারণ সাজতাম। দিদিকে যত দেখছি, ততই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধারণ হওয়াটা আমার উপর ভর করে যাচ্ছে।”

বোলপুরে ধৃত দাপুটে তৃণমূল নেতা আব্দুল মান্নান সহ ৪, ডিম ছুঁড়ে বিক্ষোভ

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

সায়নী ঘোষের কলকাতায় টু দিল্লি এয়ারপোর্ট লুক একদম বদলে গেছে

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬, সোমবার

আনজুম মুনির, কলকাতা: ইদানিং অনেকেই সায়নী ঘোষের মধ্যে দ্বিতীয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখছিলেন। সেই সাদা শাড়ি, পায়ে হাওয়াই চটি, শব্দ ব্যবহারেও সেই ঝাঁজ। কিন্তু হঠাৎ সায়নী নিজেকে আবার পুরো পাল্টে ফেললেন। তৃণমূলের ভরাডুবির পর সায়নী ঘোষের কলকাতা টু দিল্লির এয়ারপোর্ট লুক একেবারেই এতদিনের তৃণমূলের ঘরানা থুরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণা থেকে একেবারে হটকে। তা কেন একসময় তৃণমূল সুপ্রিমোর লুক আ লাইক হয়ে উঠেছিলেন সায়নী? রুপোলি পর্দা থেকে রাজনীতির মঞ্চে আসার পর কেনই বা সাজগোজে ছিল মমতার ছোঁয়া। দীর্ঘদিন ধরেই সায়নী ঘোষকে চেনা ছকে দেখা যেত—সুতির সাদামাটা শাড়ি, কপালে ছোট টিপ আর চুলে সাধারণ খোঁপা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই লুক ছিল আদতে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিরপরিচিত সাদাসিধে সাজের এক সযত্ন অনুকরণ। শীর্ষ নেতৃত্বের ভাবমূর্তির সঙ্গে নিজেকে একাত্ম করে মাটির কাছাকাছি থাকার একটা চেষ্টা ছিল তাঁর এই অবয়বে। তবে বিধানসভা নির্বাচনে দলের ধাক্কা খাওয়ার পর থেকেই যেন এক অন্য সায়নীকে দেখছে রাজ্য রাজনীতি।

প্রথাগত ‘রাজনৈতিক ইউনিফর্ম’ ঝেড়ে ফেলে সায়নী এখন ধরা দিচ্ছেন সম্পূর্ণ আধুনিক অবতারে। চুলে এসেছে নতুন ছোট ছাঁট । শাড়ির বদলে কখনও তাঁকে দেখা যাচ্ছে জিনস-টি শার্টে, আবার কখনো ক্যাজুয়াল সালোয়ার-কামিজে। অথচ মমতার মতো এই সাজপোশাক ধারণ করা নিয়ে সায়নীর নিজের যুক্তি ছিল বেশ জোরালো। গত বছর নভেম্বর মাসে ‘টিভি নাইন বাংলা’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই ‘দিদিপন্থী’ লুক নিয়ে মুখ খুলেছিলেন সায়নী ঘোষ। তিনি জানিয়েছিলেন, “আমি যে নেত্রীর দল করি, ওর দল করতে করতে আমাকে নরেন্দ্র মোদীর মতো দেখতে হলে মুশকিল হয়ে যাবে। বা ওর দল করতে করতে আমাকে যদি সিপিএমের নেতার মতো দেখতে লাগে বা সনিয়া গান্ধীর মতো দেখতে লাগে, সেটা তো সমস্যা। আমি যাঁর দল করি, আমাকে তাঁর মতো দেখতে লাগে, আমি তাঁর মতো সাধারণ থাকতে চাই। তাঁর মতোই মাটির কাছাকাছি থাকতে চাই। আমি কোনওদিনই, খুব বাড়াবাড়ি সাজতাম না। অভিনয় যখন করতাম, তখনও খুব সাধারণ সাজতাম। দিদিকে যত দেখছি, ততই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধারণ হওয়াটা আমার উপর ভর করে যাচ্ছে।”