৩০ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩
৩০ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

এভাবেও ফিরে আসা যায়

দেবজিত মুখার্জী: যে বিজ্ঞান অভিশাপের, তা আশীর্বাদেরও। একথা প্রমাণিত হল রমেশ গঞ্জুর চমকে দেওয়া এই ঘটনায়। পারিবারিক বিবাদে দেড় দশক আগে ঘর ছাড়েন তিনি। একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের সূত্র ধরে তাঁকে ফিরে পেল আত্মীয়রা। এই ঘটনার কথা জানা গিয়েছে সমাজমাধ্যমে। যা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। একধিক সমাজমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৬ বছর আগে ঝাড়খণ্ডের চতরা জেলার বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হন পেশায় দিনমজুর রমেশ। তিনি মাদকাশক্ত হয়ে পড়েন, মানসিক বিকার দেখা দেয়। ভবঘুরে ওই ব্যক্তিকে গত ১৬ জুন চেন্নাইয়ের পুনমল্লী থেকে উদ্ধার করে একটি পুনর্বাসনকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসার ফলে কিছুটা ভালো হন রমেশ।

জানান তাঁর বাড়ি ঝাড়খণ্ডে। এরপরেই প্রযুক্তির কর্মকাণ্ড, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তাঁর ছবি এবং তথ্য ছড়িয়ে দেন। এতেই ম্যাজিকের মতো কাজ হয়। ঝাড়খণ্ডের এক মুদি দোকানদার রমেশকে চিনতে পারেন। তিনি রমেশের স্ত্রী মুন্না দেবীকে খবর দেন। পরবর্তী গল্প সিনেমার মতো। রমেশের বড় ছেলে নাগেশ্বর, যিনি কর্মসূত্রে চেন্নাই থাকেন, এমনকী যে পুনর্বাসন কেন্দ্রে রমেশের চিকিৎসা চলছিল, সেখান থেকে তাঁর বাড়ি কয়েক কিলোমিটার দূরে। তিনি মায়ের কাছ থেকে হারানো বাবার হদিশ জানতে পারেন। নাগেশ্বর আর দেরি করেননি। খবর পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ১৮ জুন পুনর্বাসন কেন্দ্রে হাজির হন। দেড় দশক পর বাবা-ছেলের পুরর্মিলন ঘটে। যে ছেলের ৫ বছর বয়সে ঘর ছেড়েছিলেন বাবা! এরপরের ঘটনা বাড়ি ফেরার। গত ২১ জুন রমেশ তাঁর গ্রামে ফিরে আসেন। একইসঙ্গে আনন্দ ও বেদনার নোনতা জলে ভাসেন মুন্না দেবী, নাগেশ্বর এবং তাঁর ভাই, অর্থাৎ কিনা রমেশের ছোট ছেলে। এভাবেও ফিরে আসা যায়… বলছে গোটা গ্রাম।

এভাবেও ফিরে আসা যায়

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

এভাবেও ফিরে আসা যায়

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার

দেবজিত মুখার্জী: যে বিজ্ঞান অভিশাপের, তা আশীর্বাদেরও। একথা প্রমাণিত হল রমেশ গঞ্জুর চমকে দেওয়া এই ঘটনায়। পারিবারিক বিবাদে দেড় দশক আগে ঘর ছাড়েন তিনি। একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের সূত্র ধরে তাঁকে ফিরে পেল আত্মীয়রা। এই ঘটনার কথা জানা গিয়েছে সমাজমাধ্যমে। যা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। একধিক সমাজমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৬ বছর আগে ঝাড়খণ্ডের চতরা জেলার বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হন পেশায় দিনমজুর রমেশ। তিনি মাদকাশক্ত হয়ে পড়েন, মানসিক বিকার দেখা দেয়। ভবঘুরে ওই ব্যক্তিকে গত ১৬ জুন চেন্নাইয়ের পুনমল্লী থেকে উদ্ধার করে একটি পুনর্বাসনকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসার ফলে কিছুটা ভালো হন রমেশ।

জানান তাঁর বাড়ি ঝাড়খণ্ডে। এরপরেই প্রযুক্তির কর্মকাণ্ড, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তাঁর ছবি এবং তথ্য ছড়িয়ে দেন। এতেই ম্যাজিকের মতো কাজ হয়। ঝাড়খণ্ডের এক মুদি দোকানদার রমেশকে চিনতে পারেন। তিনি রমেশের স্ত্রী মুন্না দেবীকে খবর দেন। পরবর্তী গল্প সিনেমার মতো। রমেশের বড় ছেলে নাগেশ্বর, যিনি কর্মসূত্রে চেন্নাই থাকেন, এমনকী যে পুনর্বাসন কেন্দ্রে রমেশের চিকিৎসা চলছিল, সেখান থেকে তাঁর বাড়ি কয়েক কিলোমিটার দূরে। তিনি মায়ের কাছ থেকে হারানো বাবার হদিশ জানতে পারেন। নাগেশ্বর আর দেরি করেননি। খবর পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ১৮ জুন পুনর্বাসন কেন্দ্রে হাজির হন। দেড় দশক পর বাবা-ছেলের পুরর্মিলন ঘটে। যে ছেলের ৫ বছর বয়সে ঘর ছেড়েছিলেন বাবা! এরপরের ঘটনা বাড়ি ফেরার। গত ২১ জুন রমেশ তাঁর গ্রামে ফিরে আসেন। একইসঙ্গে আনন্দ ও বেদনার নোনতা জলে ভাসেন মুন্না দেবী, নাগেশ্বর এবং তাঁর ভাই, অর্থাৎ কিনা রমেশের ছোট ছেলে। এভাবেও ফিরে আসা যায়… বলছে গোটা গ্রাম।