১৮ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩
১৮ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

লকডাউন অমান্য করে দেদার ভাবে লরি বোঝাই করে সিমেন্ট সরবরাহ

মালদা, ২৬ মে: করোনা পরিস্থিতির মধ্যে লকডাউন অমান্য করে গৌড় মালদা স্টেশনের রেক পয়েন্ট থেকে দেদার ভাবে লরি বোঝাই করে সিমেন্ট সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ব্যবসায়ী সংগঠনের কয়েকজন বড় মাথা জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ। পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করেছেন তৃণমূলের ইংরেজবাজারের টাউন সভাপতি তথা প্রাক্তন চেয়ারম্যান নরেন্দ্রনাথ তেওয়ারি। লকডাউন পরিস্থিতিতে ওই রেক পয়েন্ট থেকে শুধুমাত্র কেন সিমেন্ট বোঝাই লরি চলাচল করছে সে ব্যাপারেও প্রশাসনকে জানিয়েছেন ইংরেজবাজার পুরসভার তৃণমূলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান নরেন্দ্রনাথবাবু। যদিও এ প্রসঙ্গে প্রশাসন পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

মালদা টাউন স্টেশন সংলগ্ন রেক পয়েন্ট থেকেই মূলত বিভিন্ন ধরনের পণ্য সামগ্রী লরি বোঝাই করে জেলা তথা জেলার বাইরের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করে থাকে। কিন্তু লকডাউন পরিস্থিতিতে আপাতত ওই এলাকায় রেক পয়েন্ট বন্ধ রাখা হয়েছে। সেই সুযোগেই কোভিড বিধি লংঘন করে ইংরেজবাজার থানার সুস্থানি মোড় সংলগ্ন গৌড় মালদা স্টেশনের রেক পয়েন্টে মালগাড়ি থেকেই শুধুমাত্র সিমেন্ট লোডিং করা হচ্ছে বিভিন্ন লরিগুলিতে বলে অভিযোগ। এরপরে সেগুলি শহরের বিভিন্ন গোডাউনে চলে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে ব্যবসায়ী মহলের কয়েকজন বড় মাথা জড়িত রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এমনকি গত মঙ্গলবার পুরাতন মালদার মঙ্গলবাড়ী এলাকায় সিমেন্ট বোঝাই একটি লরি আটক করে ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা এবং একাংশ লরির মালিক ও ব্যবসায়ীরা। সেখানে লরি চালক এবং মালিক মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের সম্পাদকের স্বাক্ষর করে দেওয়া একটি চিঠির অনুমতি দেখিয়ে সিমেন্ট সরবরাহ করার বিষয়টি জানান।  আর এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে জেলার কিছু ব্যবসায়ীরা।  তাঁদের অভিযোগ, লকডাউনের সময় সবাই নিজেদের ব্যবসা বন্ধ রেখেছে। কারো পোশাকের দোকান, কারোর গহনার দোকান সবই বন্ধ রয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের কয়েকজন বড় মাথা দেদার ভাবে নিজেদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। লকডাউনের মধ্যে কোথাও সিমেন্ট সরবরাহ করার অনুমতি নেই। সেক্ষেত্রে মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের অনুমতি পত্র কিভাবে ব্যবহার করে কেউ কেউ ব্যবসা করছে, তা নিয়েও বিস্তর অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে গৌড় মালদা স্টেশনে সিন্ডিকেট রাজের মাধ্যমেই চলছে লরি বোঝায় সিমেন্ট সরবরাহের কাজ বলেও অভিযোগ উঠেছে। এক্ষেত্রেও জেলার ব্যবসায়ীদের কয়েকজন বড় মাথাও যুক্ত রয়েছে বলে অভিযোগ।

পুরো বিষয়টি নিয়ে ক্ষিপ্ত ব্যবসায়ী থেকে জেলার তৃণমূলের একাংশ।

ইংরেজবাজার পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা তৃণমূলের টাউন সভাপতি নরেন্দ্রনাথ তেওয়ারি ফোনে বলেন , লকডাউনের মধ্যে আমার এলাকার  মালদা টাউন  স্টেশনের রেক পয়েন্টের লরি চলাচল করছিল। সেটা কোনোভাবেই আমরা মেনে নেই নি। রেলের মার্চেন্ট কমিটিকে বলে সেটি বন্ধ করা হয়েছে। আর এই সুযোগেই এখন সুস্থানি মোড় সংলগ্ন গৌড় মালদা স্টেশনে রেক পয়েন্ট লাগিয়েই সেখানকার মালগাড়ি থেকেই লরি বোঝাই করে সিমেন্ট শহরের বিভিন্ন এলাকায় রপ্তানি করা হচ্ছে।
এদিকে মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের সম্পাদক জয়ন্ত কুন্ডু জানিয়েছেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে কাউকে কোন রকম অনুমতি দেওয়া হয় নি। এখন কে কোথায় কী ধরনের সামগ্রী সরবরাহ করছে তা বলতে পারব না।

একাই ২ ফ্রন্টে লড়াই, মাঠ কাঁপাচ্ছেন সামিম আহমেদ!

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

লকডাউন অমান্য করে দেদার ভাবে লরি বোঝাই করে সিমেন্ট সরবরাহ

আপডেট : ২৭ মে ২০২১, বৃহস্পতিবার

মালদা, ২৬ মে: করোনা পরিস্থিতির মধ্যে লকডাউন অমান্য করে গৌড় মালদা স্টেশনের রেক পয়েন্ট থেকে দেদার ভাবে লরি বোঝাই করে সিমেন্ট সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ব্যবসায়ী সংগঠনের কয়েকজন বড় মাথা জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ। পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করেছেন তৃণমূলের ইংরেজবাজারের টাউন সভাপতি তথা প্রাক্তন চেয়ারম্যান নরেন্দ্রনাথ তেওয়ারি। লকডাউন পরিস্থিতিতে ওই রেক পয়েন্ট থেকে শুধুমাত্র কেন সিমেন্ট বোঝাই লরি চলাচল করছে সে ব্যাপারেও প্রশাসনকে জানিয়েছেন ইংরেজবাজার পুরসভার তৃণমূলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান নরেন্দ্রনাথবাবু। যদিও এ প্রসঙ্গে প্রশাসন পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

মালদা টাউন স্টেশন সংলগ্ন রেক পয়েন্ট থেকেই মূলত বিভিন্ন ধরনের পণ্য সামগ্রী লরি বোঝাই করে জেলা তথা জেলার বাইরের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করে থাকে। কিন্তু লকডাউন পরিস্থিতিতে আপাতত ওই এলাকায় রেক পয়েন্ট বন্ধ রাখা হয়েছে। সেই সুযোগেই কোভিড বিধি লংঘন করে ইংরেজবাজার থানার সুস্থানি মোড় সংলগ্ন গৌড় মালদা স্টেশনের রেক পয়েন্টে মালগাড়ি থেকেই শুধুমাত্র সিমেন্ট লোডিং করা হচ্ছে বিভিন্ন লরিগুলিতে বলে অভিযোগ। এরপরে সেগুলি শহরের বিভিন্ন গোডাউনে চলে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে ব্যবসায়ী মহলের কয়েকজন বড় মাথা জড়িত রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এমনকি গত মঙ্গলবার পুরাতন মালদার মঙ্গলবাড়ী এলাকায় সিমেন্ট বোঝাই একটি লরি আটক করে ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা এবং একাংশ লরির মালিক ও ব্যবসায়ীরা। সেখানে লরি চালক এবং মালিক মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের সম্পাদকের স্বাক্ষর করে দেওয়া একটি চিঠির অনুমতি দেখিয়ে সিমেন্ট সরবরাহ করার বিষয়টি জানান।  আর এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে জেলার কিছু ব্যবসায়ীরা।  তাঁদের অভিযোগ, লকডাউনের সময় সবাই নিজেদের ব্যবসা বন্ধ রেখেছে। কারো পোশাকের দোকান, কারোর গহনার দোকান সবই বন্ধ রয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের কয়েকজন বড় মাথা দেদার ভাবে নিজেদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। লকডাউনের মধ্যে কোথাও সিমেন্ট সরবরাহ করার অনুমতি নেই। সেক্ষেত্রে মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের অনুমতি পত্র কিভাবে ব্যবহার করে কেউ কেউ ব্যবসা করছে, তা নিয়েও বিস্তর অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে গৌড় মালদা স্টেশনে সিন্ডিকেট রাজের মাধ্যমেই চলছে লরি বোঝায় সিমেন্ট সরবরাহের কাজ বলেও অভিযোগ উঠেছে। এক্ষেত্রেও জেলার ব্যবসায়ীদের কয়েকজন বড় মাথাও যুক্ত রয়েছে বলে অভিযোগ।

পুরো বিষয়টি নিয়ে ক্ষিপ্ত ব্যবসায়ী থেকে জেলার তৃণমূলের একাংশ।

ইংরেজবাজার পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা তৃণমূলের টাউন সভাপতি নরেন্দ্রনাথ তেওয়ারি ফোনে বলেন , লকডাউনের মধ্যে আমার এলাকার  মালদা টাউন  স্টেশনের রেক পয়েন্টের লরি চলাচল করছিল। সেটা কোনোভাবেই আমরা মেনে নেই নি। রেলের মার্চেন্ট কমিটিকে বলে সেটি বন্ধ করা হয়েছে। আর এই সুযোগেই এখন সুস্থানি মোড় সংলগ্ন গৌড় মালদা স্টেশনে রেক পয়েন্ট লাগিয়েই সেখানকার মালগাড়ি থেকেই লরি বোঝাই করে সিমেন্ট শহরের বিভিন্ন এলাকায় রপ্তানি করা হচ্ছে।
এদিকে মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের সম্পাদক জয়ন্ত কুন্ডু জানিয়েছেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে কাউকে কোন রকম অনুমতি দেওয়া হয় নি। এখন কে কোথায় কী ধরনের সামগ্রী সরবরাহ করছে তা বলতে পারব না।