নিজস্ব সংবাদদাতা : নিজের নামে বাড়ি থাকা সত্ত্বেও সেই বাড়িতে ঠাঁই পেলেন না ৬২ বছরের বৃদ্ধা। অসহায় বৃদ্ধাকে মারধর করে নিজের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল তার ছেলে ছেলের বউ এবং নাতির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নদিয়া জেলার রানাঘাট থানার অন্তর্গত পায়রাডাঙ্গা বেলঘড়িয়া এলাকার। জানা যায় ৬২ বছরের অসহায় ওই বৃদ্ধা আগে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ছিলেন। গত জুন মাসে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। অসহায় ঐ বৃদ্ধার অভিযোগ তার ছেলে সমীর বসু, বৌমা সন্ধ্যা বসু, এবং নাতি শুভ্রজ্যোতি বসু দিনের পর দিন শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করত। কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়ার পরে অত্যাচারের মাত্রা ছাড়িয়ে যায়।তিনি অভিযোগ জানান তার ছেলের বউ অকথ্য ভাষায় তাকে দিনের পর দিন গালিগালাজ করত। খিদের জ্বালায় কিছু খেতে চাইলে পরে ওই বৃদ্ধাকে শুনতে হতো অকথ্য গালিগালাজ, এমনকি চলতো শারীরিক অত্যাচারও। ওই বৃদ্ধা জানান দিনের পর দিন ছেলে, বৌমা ও নাতির শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের পরেও তিনি মুখ বুজে সহ্য করে এসেছেন শুধুমাত্র একটু আশায় যে হয়তো একদিন সমস্ত কিছু ঠিক হয়ে যাবে। তবে ক্রমেই বাড়তে থাকে অত্যাচারের সীমা।বৃদ্ধার অভিযোগ, গত ০৭/০৯/২০২২ তারিখে তার ছেলে, ছেলের বৌমা এবং নাতি আনুমানিক রাত দশটা নাগাদ ওই বৃদ্ধার ব্যাঙ্কের যাবতীয় তথ্য, বৃদ্ধার ফোন, গয়নাগাটি, টাকা পয়সা সমস্ত কেড়ে নিয়ে মারতে মারতে তাকে নিজের বাড়ি থেকে বের করে দেয়। অসহায় বৃদ্ধা এরপর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা এবং পঞ্চায়েত প্রধানের দারস্তও হন বলে জানান। কিন্তু তেমন কোন উপকার তিনি পান না, অবশেষে প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেন তিনি।তিনি জানান দীর্ঘ পাঁচ দিন যাবৎ সেভাবে কিছু খাননি। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়িয়েছেন শুধুমাত্র সঠিক বিচারের আশায়। তিনি আশাবাদী ছিলেন হয়তো তাঁর ঘরে পুনরায় তিনি ঠাঁই পাবেন। বেশ কয়েকদিন কেটে গেলেও কোন সুরাহা না হওয়ার ফলে রবিবার রানাঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তার ছেলে, বৌমা ও নাতির বিরুদ্ধে। অসহায় বৃদ্ধার প্রশাসনের কাছে একান্ত অনুরোধ দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দিয়ে তিনি পুনরায় তার বাড়ি এবং সমস্ত সম্পত্তি ফিরে পান।
২৬ মে ২০২৬, মঙ্গলবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
BREAKING :
নিজের নামে বাড়ি থাকা সত্ত্বেও সেই বাড়িতে ঠাঁই পেলেন না ৬২ বছরের বৃদ্ধা
-
নতুন গতি - আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার
- 5
সর্বাধিক পাঠিত
নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder





























