০১ জুলাই ২০২৬, বুধবার, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
০১ জুলাই ২০২৬, বুধবার, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

এই মুহুর্তে চার কন্যা সন্তানকে নিয়ে বড়ো বিপদে চন্দনা মন্ডল

বাবলু হাসান লস্কর দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা : বিগত ৩০/১২/২০২০তে অভয় মন্ডল দুই সঙ্গী লক্ষণ মন্ডল, যাদব মন্ডলকে নিয়ে সুন্দর বনের বাগমারি জঙ্গল সন্নিকট খাড়িতে বৈধ কাগজ নিয়ে কাঁকড়া ধরতে যায়, কাঁকড়া ধরার মুহূর্তে বাঘ অভয়ের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সাথে থাকা দুই সঙ্গীদের সঙ্গে বাঘে মানুষে যুদ্ধ, অবশেষে বাঘ অভয়কে ছেড়ে জঙ্গলে ফিরে যায়। সঙ্গীরা সাথে সাথে তাকে নৌকায় তুলে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। দীর্ঘ সময় ধরে নৌকা চালিয়ে কুলতলির দেউলবাড়ি গ্রামে পৌঁছায়। গ্রামের মানুষদের সহযোগিতায় জয়নগর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। ডাক্তার বাবু অভয়কে দেখে মৃত ঘোষণা করেন। পরে কুলতলী থানায় অফিসার অভয় মন্ডলের দেহ টিকে নিয়ে যায় ও পোস্টমডামের ব্যবস্থা করেন। অভয়ের স্ত্রী চন্দনা মন্ডল চার কন্যা সন্তানকে নিয়ে নাজেহাল। বড়ো মেয়ে মাধবী মন্ডল ১৭ বছরের, মিনতি মন্ডল ১৩ বছরের, শ্রাবন্তী মন্ডল ১০ বছরের, প্রতিমা মন্ডল ৫ বছরের। আবাস যোজনার ঘর ছাড়া আর কিছু নেই চন্দনা মন্ডলের। যে বসতবাড়িতে তারা এই মুহূর্তে আছে এখনো পর্যন্ত তাদের নামে কোন বৈধ কাগজ না থাকায় সমস্যার মধ্যে দিন গুনছেন তারা। একদিকে স্বামী না থাকায় চারটি মেয়েকে নিয়ে চিন্তায় আছেন তিনি। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দ্বারা ও দিনমজুরি করে চলে চন্দনার সংসার। এই মুহূর্তে কি করবেন তা ভাবতেই পাচ্ছেন না তিনি। সন্তানদের নিয়ে তিনি কলকাতায় চলে যাবেন, কিন্তু সেখানে কোথায় থাকবেন? কোথায় কেমনে রোজগার করবে?

স্থানীয় দেউলবাড়ী দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে এখনো কোনোরুপ সুবিধা মেলেনি। কুলতলীর সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক বীরেন্দ্র অধিকারীকে জানিয়ে এখন পর্যন্ত কিছু সুরাহ হয়নি। বিভিন্ন দপ্তরে প্রশাসনিক আধিকারিককে জানিয়ে কোন সুরাহা হয়নি । স্থানীয় পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সদস্য মুখে কুলুপ এঁটেছেন। দুশ্চিন্তার মধ্যে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি । বিভিন্ন যুক্তিবাদী মঞ্চ তাদেরকে সহযোগিতা করলেও এই মুহূর্তে নিরুপায় চন্দনা। কেমনে চলবে তার সংসার? ১৭ বছরের মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে পরে ঠিকমতো টিউশন মাস্টারের মাইনা না দিতে পেরে পড়াশোনা বন্ধ হতে চলেছে। অন্য মাস্টারের মাইনে না দেওয়ায় সমস্যায় আছে বাকি আরো দুটো মেয়ে, তারাও পড়াশোনা করে। পরিবারের চার সন্তানকে নিয়ে এই মুহূর্তে বিপদে। স্থানীয় পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসনকে জানিয়ে এখনো পর্যন্ত সহযোগিতার আশ্বাস মেলেনি। আগামী দিনগুলিতে এই পরিবারটি এই ভাবে নিজেদের অস্তিত্ব কিভাবে টিকিয়ে রাখবে ভেবে স্বেচ্ছামৃত্যুবরণ করবেন এমনই জানায়।

মুরারইয়ের বাঁশলই নদীতে স্নান করতে নেমে মৃত্যু দুই শিশুর

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

এই মুহুর্তে চার কন্যা সন্তানকে নিয়ে বড়ো বিপদে চন্দনা মন্ডল

আপডেট : ৭ ডিসেম্বর ২০২১, মঙ্গলবার

বাবলু হাসান লস্কর দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা : বিগত ৩০/১২/২০২০তে অভয় মন্ডল দুই সঙ্গী লক্ষণ মন্ডল, যাদব মন্ডলকে নিয়ে সুন্দর বনের বাগমারি জঙ্গল সন্নিকট খাড়িতে বৈধ কাগজ নিয়ে কাঁকড়া ধরতে যায়, কাঁকড়া ধরার মুহূর্তে বাঘ অভয়ের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সাথে থাকা দুই সঙ্গীদের সঙ্গে বাঘে মানুষে যুদ্ধ, অবশেষে বাঘ অভয়কে ছেড়ে জঙ্গলে ফিরে যায়। সঙ্গীরা সাথে সাথে তাকে নৌকায় তুলে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। দীর্ঘ সময় ধরে নৌকা চালিয়ে কুলতলির দেউলবাড়ি গ্রামে পৌঁছায়। গ্রামের মানুষদের সহযোগিতায় জয়নগর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। ডাক্তার বাবু অভয়কে দেখে মৃত ঘোষণা করেন। পরে কুলতলী থানায় অফিসার অভয় মন্ডলের দেহ টিকে নিয়ে যায় ও পোস্টমডামের ব্যবস্থা করেন। অভয়ের স্ত্রী চন্দনা মন্ডল চার কন্যা সন্তানকে নিয়ে নাজেহাল। বড়ো মেয়ে মাধবী মন্ডল ১৭ বছরের, মিনতি মন্ডল ১৩ বছরের, শ্রাবন্তী মন্ডল ১০ বছরের, প্রতিমা মন্ডল ৫ বছরের। আবাস যোজনার ঘর ছাড়া আর কিছু নেই চন্দনা মন্ডলের। যে বসতবাড়িতে তারা এই মুহূর্তে আছে এখনো পর্যন্ত তাদের নামে কোন বৈধ কাগজ না থাকায় সমস্যার মধ্যে দিন গুনছেন তারা। একদিকে স্বামী না থাকায় চারটি মেয়েকে নিয়ে চিন্তায় আছেন তিনি। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দ্বারা ও দিনমজুরি করে চলে চন্দনার সংসার। এই মুহূর্তে কি করবেন তা ভাবতেই পাচ্ছেন না তিনি। সন্তানদের নিয়ে তিনি কলকাতায় চলে যাবেন, কিন্তু সেখানে কোথায় থাকবেন? কোথায় কেমনে রোজগার করবে?

স্থানীয় দেউলবাড়ী দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে এখনো কোনোরুপ সুবিধা মেলেনি। কুলতলীর সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক বীরেন্দ্র অধিকারীকে জানিয়ে এখন পর্যন্ত কিছু সুরাহ হয়নি। বিভিন্ন দপ্তরে প্রশাসনিক আধিকারিককে জানিয়ে কোন সুরাহা হয়নি । স্থানীয় পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সদস্য মুখে কুলুপ এঁটেছেন। দুশ্চিন্তার মধ্যে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি । বিভিন্ন যুক্তিবাদী মঞ্চ তাদেরকে সহযোগিতা করলেও এই মুহূর্তে নিরুপায় চন্দনা। কেমনে চলবে তার সংসার? ১৭ বছরের মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে পরে ঠিকমতো টিউশন মাস্টারের মাইনা না দিতে পেরে পড়াশোনা বন্ধ হতে চলেছে। অন্য মাস্টারের মাইনে না দেওয়ায় সমস্যায় আছে বাকি আরো দুটো মেয়ে, তারাও পড়াশোনা করে। পরিবারের চার সন্তানকে নিয়ে এই মুহূর্তে বিপদে। স্থানীয় পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসনকে জানিয়ে এখনো পর্যন্ত সহযোগিতার আশ্বাস মেলেনি। আগামী দিনগুলিতে এই পরিবারটি এই ভাবে নিজেদের অস্তিত্ব কিভাবে টিকিয়ে রাখবে ভেবে স্বেচ্ছামৃত্যুবরণ করবেন এমনই জানায়।