২৫ মে ২০২৬, সোমবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
২৫ মে ২০২৬, সোমবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মণীশার আগুন এখনও নেভায়নি এর মধ্যেই পুনরায় ৪ বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণ হাতরাসে

নতুন গতি ওয়েব ডেস্ক: হাথরস কাণ্ড নিয়ে এখন তোলপাড় গোটা দেশ। যদিও এদিনও সুপ্রিম কোর্টে যোগী আদিত্যনাথের সরকার দাবি করেছে, ‘মৃতা তরুণীর ধর্ষণই হয়নি’, এমনকী উটকো ঝামেলা এড়াতেই মাঝরাতে দেহ সৎকার করে দেওয়া বলে অভিযোগ যোগী সরকারের। কিন্তু হাথরস আছে আতঙ্কপুরী হয়েই। হাথরসেরই তুতো দাদার লালসার শিকার হল বছর চারেকের এক শিশু। আর বেশ কয়েকদিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা কষে অবশেষে মৃত্যু হল তাঁর। সোমবার দিল্লির সফদরজঙ্গ হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে ওই শিশুকন্যার।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪ বছরের ওই শিশুটিকে তার মাসির বাড়িতে বেশ কয়েকদিন বন্দি করে রাখা হয়েছিল। শেষমেশ গত ১৭ সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ের ইগলাসের মাসির বাড়ি থেকে শিশুটিকে পুলিশ উদ্ধার করে। আলিগড়ের সিনিয়র সুপারিন্টেন্ডেন্ট জি মুনিরের কথায়, ‘একটি এনজিও’র থেকে অভিযোগ পেয়ে আমরা বাড়িটিতে তল্লাশি চালাই। ওই বাড়িটি নিগৃহীতা শিশুটির এক আত্মীয়ের। সেখানেই শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া যায়।’

 

পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধারের পর শিশুটির অবস্থা মোটেই ভালো ছিল না। তাই তাকে প্রথমে জওহরলাল নেহরু মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তাকে দিল্লির সফদরজঙ্গ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। ওই হাসপাতালেই মৃত্যু হল শিশুটির। ওই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ১৫ বছরের এক কিশোর। তাকে ইতোমধ্যে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। এমনকী জেরায় ধৃত নিজের অপরাধের কথা কিশোরটি স্বীকারও করেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ডাক্তারি পরীক্ষায় শিশুটিকে ধর্ষণের প্রমাণও মিলছে বলে খবর।এদিকে হাথরসের নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বুলগড়হি গ্রামে আক্রমণের মুখে পড়লেন আপের সাংসদ সঞ্জয় সিং। পরিবারের সঙ্গে দেখা করে বেরোনোর পর সঞ্জয় এবং আপ বিধায়ক রাখি বিড়লা যখন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন, তখন সঞ্জয়ের মুখে ছোড়া হল কালি। আপ বিধায়করা সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্ত দীপক শর্মাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে সঞ্জয় টুইট করেন, ‘যোগীজি আপনি ঠাকুর নন, কাপুরুষ! আমাকে মারুন, আমার বিরুদ্ধে মামলা করুন, আমাকে খুন করে দিলেও ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই থামবে না।’

 

অপরদিকে, ২০১২ নির্ভয়া মামলায় চার ধর্ষকের হয়ে সওয়াল করা আইনজীবী এপি সিং-ই হাথরস মামলায় অভিযুক্তদের হয়ে লড়বেন! উচ্চবর্ণের সংগঠন ‘অখিল ভারতীয় ক্ষত্রিয় মহাসভা’ এই মামলার জন্য এপি সিংকে নিয়োগ করেছে। এই মহাসভার সভাপতি তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজা মানবেন্দ্র সিং জানান, হাথরস মামলার মাধ্যমে উচ্চবর্ণ বিশেষ করে রাজপুত সম্প্রদায়কে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চলছে। তার বিরুদ্ধে লড়বেন এপি সিং। তাঁর পারিশ্রমিক মেটাতে মহাসভার তরফেই সংগৃহীত হয়েছে অর্থ। প্রসঙ্গত, হাথরসের নিগৃহীতার হয়ে লড়ছেন নির্ভয়ার আইনজীবী সীমা কুশওয়াহা।

অবশেষে গ্রেফতার তৃণমূলের দাপুটে কাউন্সিলার সুদীপ পোল্লে

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

মণীশার আগুন এখনও নেভায়নি এর মধ্যেই পুনরায় ৪ বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণ হাতরাসে

আপডেট : ৭ অক্টোবর ২০২০, বুধবার

নতুন গতি ওয়েব ডেস্ক: হাথরস কাণ্ড নিয়ে এখন তোলপাড় গোটা দেশ। যদিও এদিনও সুপ্রিম কোর্টে যোগী আদিত্যনাথের সরকার দাবি করেছে, ‘মৃতা তরুণীর ধর্ষণই হয়নি’, এমনকী উটকো ঝামেলা এড়াতেই মাঝরাতে দেহ সৎকার করে দেওয়া বলে অভিযোগ যোগী সরকারের। কিন্তু হাথরস আছে আতঙ্কপুরী হয়েই। হাথরসেরই তুতো দাদার লালসার শিকার হল বছর চারেকের এক শিশু। আর বেশ কয়েকদিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা কষে অবশেষে মৃত্যু হল তাঁর। সোমবার দিল্লির সফদরজঙ্গ হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে ওই শিশুকন্যার।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪ বছরের ওই শিশুটিকে তার মাসির বাড়িতে বেশ কয়েকদিন বন্দি করে রাখা হয়েছিল। শেষমেশ গত ১৭ সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ের ইগলাসের মাসির বাড়ি থেকে শিশুটিকে পুলিশ উদ্ধার করে। আলিগড়ের সিনিয়র সুপারিন্টেন্ডেন্ট জি মুনিরের কথায়, ‘একটি এনজিও’র থেকে অভিযোগ পেয়ে আমরা বাড়িটিতে তল্লাশি চালাই। ওই বাড়িটি নিগৃহীতা শিশুটির এক আত্মীয়ের। সেখানেই শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া যায়।’

 

পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধারের পর শিশুটির অবস্থা মোটেই ভালো ছিল না। তাই তাকে প্রথমে জওহরলাল নেহরু মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তাকে দিল্লির সফদরজঙ্গ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। ওই হাসপাতালেই মৃত্যু হল শিশুটির। ওই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ১৫ বছরের এক কিশোর। তাকে ইতোমধ্যে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। এমনকী জেরায় ধৃত নিজের অপরাধের কথা কিশোরটি স্বীকারও করেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ডাক্তারি পরীক্ষায় শিশুটিকে ধর্ষণের প্রমাণও মিলছে বলে খবর।এদিকে হাথরসের নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বুলগড়হি গ্রামে আক্রমণের মুখে পড়লেন আপের সাংসদ সঞ্জয় সিং। পরিবারের সঙ্গে দেখা করে বেরোনোর পর সঞ্জয় এবং আপ বিধায়ক রাখি বিড়লা যখন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন, তখন সঞ্জয়ের মুখে ছোড়া হল কালি। আপ বিধায়করা সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্ত দীপক শর্মাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে সঞ্জয় টুইট করেন, ‘যোগীজি আপনি ঠাকুর নন, কাপুরুষ! আমাকে মারুন, আমার বিরুদ্ধে মামলা করুন, আমাকে খুন করে দিলেও ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই থামবে না।’

 

অপরদিকে, ২০১২ নির্ভয়া মামলায় চার ধর্ষকের হয়ে সওয়াল করা আইনজীবী এপি সিং-ই হাথরস মামলায় অভিযুক্তদের হয়ে লড়বেন! উচ্চবর্ণের সংগঠন ‘অখিল ভারতীয় ক্ষত্রিয় মহাসভা’ এই মামলার জন্য এপি সিংকে নিয়োগ করেছে। এই মহাসভার সভাপতি তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজা মানবেন্দ্র সিং জানান, হাথরস মামলার মাধ্যমে উচ্চবর্ণ বিশেষ করে রাজপুত সম্প্রদায়কে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চলছে। তার বিরুদ্ধে লড়বেন এপি সিং। তাঁর পারিশ্রমিক মেটাতে মহাসভার তরফেই সংগৃহীত হয়েছে অর্থ। প্রসঙ্গত, হাথরসের নিগৃহীতার হয়ে লড়ছেন নির্ভয়ার আইনজীবী সীমা কুশওয়াহা।