নিউজ ডেস্ক: দিল্লি, রাঁচির পর এবার পাটনা। বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশন (বিপিএসসি) পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে ছাত্র বিক্ষোভে উত্তাল বিহারের রাজধানী শহর। প্রশ্নফাঁস বিতর্কে পরীক্ষা বাতিলের দাবি নিয়ে মঙ্গলবার মহামিছিল করেন আন্দোলনকারীরা। পাটনার গান্ধী ময়দান থেকে রাজভবনের দিকে মিছিল যাওয়ার সময় পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলেন। তারপর মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর বাসভবনের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যান ছাত্র-যুবরা। বাধা দেয় পুলিশ। পুলিশ তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বেধে যায়। রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। ব্যবহার করে জলকামানও। এর মধ্যেও মিছিল এগিয়ে নিয়ে যান বিক্ষোভকারীরা। শেষ পর্যন্ত বিহার সরকারের সঙ্গে ছাত্র প্রতিনিধিদের আলোচনার পরেই বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত রাখার কথা ঘোষণা করা হয়। ছাত্রনেতা সৌরভ কুমার জানিয়েছেন, সরকার তাঁদের দাবি মেনে নিয়েছে। আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে। তবে একক পরীক্ষা আয়োজনের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনকারীরা তাঁদের আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। বিক্ষোভ চলাকালীন এক ছাত্রনেতা বলেন, “আমরা বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করতে চাই। কারণ সরকার বারবারই আমাদের নীচুস্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে পাঠায় এবং এরপরই বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। যদি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার সুযোগ দেওয়া হয় এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়, তবে আমরা আমাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করতে প্রস্তুত। আমাদের প্রথম দাবি হল সম্রাট চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া। দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ চাই। এর বাইরে অন্য কারও সঙ্গে আমরা দেখা করব না।”
এদিন সরকারি আধিকারিকের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠকের পরই শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অভিযোগ ও সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে বিহার সরকার মঙ্গলবার থেকে মাসিক ‘শিক্ষার্থী সহযোগিতা শিবির’ চালুর ঘোষণা করে। মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রতি মাসের চতুর্থ মঙ্গলবার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই শিবিরগুলির আয়োজন করা হবে। এতে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে সরাসরি তাঁদের সমস্যা ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরতে পারবেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ‘শিক্ষার্থী সহযোগিতা শিবির’ চালুর কথা জানান। এই লক্ষ্যে একটি বিশেষ পোর্টাল চালু করা হয়। হেল্পলাইন নম্বর ১১০০-র মাধ্যমে অনলাইনে অভিযোগ জানানো যাবে সেখানে। অভিযোগের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও খোঁজখবর নেওয়া যাবে পোর্টালে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যেই বিহার সরকার মঙ্গলবার থেকে এই উদ্যোগ গ্রহণ করল বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন গতি 





























