২৬ অগাস্ট ২০২৬, বুধবার, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
২৬ অগাস্ট ২০২৬, বুধবার, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

দলত্যাগ বনাম সাংবিধানিক এক্তিয়ার: তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্বে ২০ বিক্ষুব্ধ সাংসদকে সুপ্রিম নোটিস

নিউজ ডেস্ক : দলবদল নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবার সরাসরি পৌঁছাল দেশের শীর্ষ আদালতে। লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের সদস্যপদ খারিজের দাবিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মামলায় সংশ্লিষ্ট সাংসদদের নোটিস পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ প্রদান করেছেন। আগামী দ্বি-সপ্তাহিক সময়সীমার মধ্যে সকল সাংসদকে স্বীয় বক্তব্য ও আইনি অবস্থান হলফনামা আকারে শীর্ষ আদালতে দাখিল করার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পরেই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
            মামলার মূল অভিঘাত ও অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সংবিধানের দশম তফসিল—অর্থাৎ দলত্যাগ-বিরোধী আইনের কঠোর প্রয়োগ। তৃণমূল শিবিরের সুস্পষ্ট অভিযোগ, এই ২০ জন সাংসদ ঘাসফুল প্রতীকে জয়ী হওয়ার পর দল ছেড়ে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্‌স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-তে যোগ দিয়েছেন। তাই সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী দলত্যাগ-বিরোধী আইন কার্যকর করে তাঁদের সাংসদপদ খারিজ করা উচিত। গত জুলাই মাসে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে এই দাবি নিয়ে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে অগস্টে ফের স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেন অভিষেক। পুনরায় সাক্ষাৎকালে তাঁদের পক্ষ থেকে জোরালো যুক্তি তুলে ধরা হয় যে, সাংসদেরা প্রকাশ্যে নিজেদের এনসিপিআই-এর প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করলেও সংসদীয় নথিতে দলীয় পরিচয় এখনও এআইটিসি রূপেই বহাল রেখেছেন—যা একাধারে স্ববিরোধী, অনৈতিক ও আইনত সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
       স্পিকারের কাছে আবেদন দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকায় শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেন অভিষেক। তাঁর দাবি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দলত্যাগ সংক্রান্ত আবেদনের নিষ্পত্তি করতে হবে স্পিকারকে। অন্যদিকে, বিদ্রোহী সাংসদদের পক্ষে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পাল্টা বক্তব্য, লোকসভার সাংসদদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার কেবল স্পিকারেরই রয়েছে, সেখানে অন্য কারও হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। শীর্ষ আদালতের নোটিসের পর এই রাজনৈতিক ও আইনি সংঘাত নতুন মাত্রা পেল। পাশাপাশি শীর্ষ আদালতের এই নোটিস জারির ফলে অধ্যক্ষের সাংবিধানিক এক্তিয়ার বনাম আদালতের বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার সীমানা নিয়ে সংসদীয় রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন আইনি বিতর্ক সৃষ্টি হলো। আগামী শুনানিতে শীর্ষ আদালত কী রূপরেখা নির্ধারণ করে, সেদিকেই নিবদ্ধ সমগ্র রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি।

রাজবংশী-কামতাপুরী মহিলাদের নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য, প্রতিবাদে শিলিগুড়িতে মিছিল

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

দলত্যাগ বনাম সাংবিধানিক এক্তিয়ার: তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্বে ২০ বিক্ষুব্ধ সাংসদকে সুপ্রিম নোটিস

আপডেট : ২৬ অগাস্ট ২০২৬, বুধবার
নিউজ ডেস্ক : দলবদল নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবার সরাসরি পৌঁছাল দেশের শীর্ষ আদালতে। লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের সদস্যপদ খারিজের দাবিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মামলায় সংশ্লিষ্ট সাংসদদের নোটিস পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ প্রদান করেছেন। আগামী দ্বি-সপ্তাহিক সময়সীমার মধ্যে সকল সাংসদকে স্বীয় বক্তব্য ও আইনি অবস্থান হলফনামা আকারে শীর্ষ আদালতে দাখিল করার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পরেই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
            মামলার মূল অভিঘাত ও অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সংবিধানের দশম তফসিল—অর্থাৎ দলত্যাগ-বিরোধী আইনের কঠোর প্রয়োগ। তৃণমূল শিবিরের সুস্পষ্ট অভিযোগ, এই ২০ জন সাংসদ ঘাসফুল প্রতীকে জয়ী হওয়ার পর দল ছেড়ে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্‌স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-তে যোগ দিয়েছেন। তাই সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী দলত্যাগ-বিরোধী আইন কার্যকর করে তাঁদের সাংসদপদ খারিজ করা উচিত। গত জুলাই মাসে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে এই দাবি নিয়ে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে অগস্টে ফের স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেন অভিষেক। পুনরায় সাক্ষাৎকালে তাঁদের পক্ষ থেকে জোরালো যুক্তি তুলে ধরা হয় যে, সাংসদেরা প্রকাশ্যে নিজেদের এনসিপিআই-এর প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করলেও সংসদীয় নথিতে দলীয় পরিচয় এখনও এআইটিসি রূপেই বহাল রেখেছেন—যা একাধারে স্ববিরোধী, অনৈতিক ও আইনত সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
       স্পিকারের কাছে আবেদন দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকায় শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেন অভিষেক। তাঁর দাবি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দলত্যাগ সংক্রান্ত আবেদনের নিষ্পত্তি করতে হবে স্পিকারকে। অন্যদিকে, বিদ্রোহী সাংসদদের পক্ষে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পাল্টা বক্তব্য, লোকসভার সাংসদদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার কেবল স্পিকারেরই রয়েছে, সেখানে অন্য কারও হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। শীর্ষ আদালতের নোটিসের পর এই রাজনৈতিক ও আইনি সংঘাত নতুন মাত্রা পেল। পাশাপাশি শীর্ষ আদালতের এই নোটিস জারির ফলে অধ্যক্ষের সাংবিধানিক এক্তিয়ার বনাম আদালতের বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার সীমানা নিয়ে সংসদীয় রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন আইনি বিতর্ক সৃষ্টি হলো। আগামী শুনানিতে শীর্ষ আদালত কী রূপরেখা নির্ধারণ করে, সেদিকেই নিবদ্ধ সমগ্র রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি।