অনির্বাণ মাইতি: বাংলার রাজনীতিতে বিধান রায় থেকে শুরু করে প্রফুল্ল সেন, অজয় মুখার্জি, সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় বা জ্যোতি বসু মূলত বাংলার উদ্বাস্তু আন্দোলনের ঝড় তো এঁরাই সামলেছেন। লাখে লাখে মানুষ এসে এই কলকাতায় ফুটপাথে, পার্কে বসতি স্থাপন করেছেন। কোনও মন্ত্রিসভার কেউ মানুষকে এভাবে অপমান করেনি। অনেক মানুষ বিরক্ত হয়েছে, নাক সিঁটকেছে, কিন্তু একজন সাধারণ নাগরিক ও ফুটপাথবাসীকে সেখান থেকে উৎখাত করার কথা কল্পনাতেও আনেনি।
সম্ভবত প্রথমবার অগ্নিমিত্রা পাল এই বিরল কৃতিত্বের অধিকারী হলেন। ফুটপাথবাসী এক মা তাঁর সন্তানের জন্য দুধ গরম করছিলেন, দলবল নিয়ে তাদের ওপর হামলা করলেন রীতিমতো। প্রশ্নগুলো শুনে গা ঘিনঘিন করছিল— “আপনাদের বাড়ি কোথায়? ফুটপাথে দুধ গরম করছেন কেন? এখানে সংসার পেতেছেন?”
অগ্নিমিত্রা পাল আপনার প্রতি ঠিক কতটা বিতৃষ্ণা জন্মাল তা হয়ত ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব হবে না। আমার মাতৃভাষায় সেই শব্দ নেই। কিন্তু আপনাকে একটি কথা মনে করিয়ে দিতে চাই। আপনার নেতা নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদি ২০১৪ সালে মানুষকে আশ্বাস দিয়েছিলেন ২০২০ সালের মধ্যে ভারতের প্রতিটা মানুষের মাথার ওপর ছাদ থাকবে। আজ ১২ বছর পর এই ফুটপাথবাসী মায়েরই তো আপনাকে প্রশ্ন করার কথা। তার বাড়ি কোথায়? সে রাস্তায় তার সন্তানের জন্য দুধ গরম করছে কেন? আপনার সঙ্গে থাকা আপনার পারিষদ এবং পুলিশরাও কোনও কথা বলতে পারছিলেন না।
দয়া করে যাদবপুরের বিধায়কের মতো আবার পালটি খেয়ে ক্ষমা চেয়ে বসবেন না যেন। আপনার মতো অভিজাত পরিবারের মানুষদের চরিত্র এটাই, এটাই আপনারা। ক্ষমা চাইলে সেটা নিজের সাথে শঠতা হবে। মানুষকে বুঝতে দিন, চোর তাড়াতে গিয়ে যাদের নিয়ে এসেছে তারা কারা?
ক্ষমতায় সবাই চিরকাল থাকবে না, আপনিও থাকবেন না। পরাজয়ের পরে হয়ত ফিরে যাবেন আবার নিজের পেশায়। কিন্তু এই ঘটনা মাথা থেকে কখনওই বেরোবে না। আপনার জন্য একরাশ করুণা রইল। আমৃত্যু আপনি একজন অসহনীয় মানুষ হয়ে থাকবেন। (মতামত নিজস্ব)
নতুন গতি 


















