২৬ অগাস্ট ২০২৬, বুধবার, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
২৬ অগাস্ট ২০২৬, বুধবার, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে গৃহবন্দি করে রাখার হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর, রাষ্ট্রপতি-প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপের আবেদন মমতার

নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাতে রাস্তায় বের হতে না পারেন তার বন্দোবস্ত করবেন শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু অধিকারীর সেই হুমকির পরই পাল্টা দিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এই বিষয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ দাবি করলেন। তৃণমূলের দাবি, বাংলার রাজনীতিতে কালো দিন হয়ে থাকল এটি। একজন মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এ কেমন ভাষা? তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে বলছেন রাস্তায় বের হতে দেব না!
          সোমবার ফেসবুক লাইভ তৃণমূল সুপ্রিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “বিজেপি তাঁকে বারবার বাধা দিচ্ছে। মিটিং মিছিল করতে দিচ্ছে না। পুলিশ দিয়ে যতই ভয় দেখান, যতই আটকানোর চেষ্টা করুন, আমাকে আটকাতে পারবেন না। মানুষই শেষ কথা বলে, শেষ কথা স্বৈরাচার বলে না। অসহায় মানুষের পাশে আবার দাঁড়াব, আমার যেখানে ইচ্ছা সেখানে যাব। দেখা হবে রাস্তায়, রাস্তাই আমাদের রাস্তা দেখাবে।” এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আপনি বিকেলে ফেসবুক লাইভেই থাকুন। আপনাকে রাস্তায় বেরতে হবে না। আপনি যাতে রাস্তায় বেরতে না পারেন, তার ব্যবস্থা আমি করব।”
                 এরপরই সমালোচনা ঝড় বয়ে যায় রাজনৈতিক মহলে। এর আগে কোনও মুখ্যমন্ত্রী কোনওদিন এই ভাষায় কথা বলেননি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীদের সম্বন্ধে তো নয়ই। শুভেন্দু অধিকারীর এই ধরনের বক্তব্য সমর্থনযোগ্য নয় বলে সমস্ত রাজনৈতিক দলই তাঁর এহেন বক্তব্যের নিন্দা করেছেন। পাল্টা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, “দেশের রাজনৈতিক মহল নিম্নরুচির উদাহরণ দেখল সোমবার। এই ঔদ্ধত্যের জবাব দেবে মানুষ। সরকারি অফিসে বসে মুখ্যমন্ত্রী হুমকি দিচ্ছেন তিনবারের মুখ্যমন্ত্রীকে। বলছেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে গৃহবন্দি রাখার সব ব্যবস্থা তিনি করবেন। তিনি যাতে বের হতে না পারেন তার ব্যবস্থা করবেন!” এর প্রত্যুত্তরে তৃণমূল নেত্রী আরও বলেন, “আমি দেশের মাননীয় রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতি এবং জনতার কাছে জানতে চাইছি, আমাদের সংবিধান কি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে এই অধিকার দিয়েছেন?
প্রকাশ্যে রাজ্যের বিরোধী দলের শীর্ষ নেত্রীকে হুমকি দিচ্ছেন একজন মুখ্যমন্ত্রী৷ যে ভাষা তিনি ব্যবহার করছেন তাতে কোনও শালীনতা নেই। এটা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বা রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয় নয়৷ এর সঙ্গে গণতন্ত্র, বিরোধীদের অধিকার ও সাংবিধানিক স্বাধীনতার প্রশ্নও জড়িয়ে রয়েছে৷ বিজেপি আসলে বিরুদ্ধ মতকে দমন করতে চায়৷ হুমকি দিয়ে নিজেদের ঘরে টানতে চায়৷ বিপজ্জনক প্রবণতা৷ ভারতবর্ষ এক নিদারুণ স্বৈরাচারী সরকারকে দেখছে৷ ক্ষমতাসীনরা যেন মনে রাখে ক্ষমতা কখনওই চিরস্থায়ী নয়৷ শেষ কথা বলেন মানুষই৷” তৃণমূল সুপ্রিমো আরও বলেন, “বিজেপির ঔদ্ধত্য দিন দিন বাড়ছে৷ মরিয়া চেষ্টা করছে অন্যদের কণ্ঠস্বর চিরতরে বন্ধ করতে৷ আসলে ওদের শেষের সেদিন শুরু হয়ে গিয়েছে৷” তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ স্যোশাল মিডিয়া ভিডিও পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, “এ তো রীতিমতো হুমকি। একজন প্রাক্তন মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে গৃহবন্দি রাখার চেষ্টা। আমরা মহিলা ক্ষমতায়ন, নারী নিরাপত্তার কথা বলি। আর একজন প্রাক্তন মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে এ কী বললেন শুভেন্দুবাবু! এটা কোন গণতন্ত্রের ভাষা! নিজেদের পছন্দ মতো বিরোধী দলনেতা বিধানসভায় বসানোর পরেও এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভয় পাচ্ছে বিজেপি।” তিনি সোশ্যাল মিডিয়া আরও একটি পোস্টে লেখেন, “কোনও তুলনা নয়, শুধু ঘটনার উল্লেখ করছি।
১৯৪০-এ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে সামলাতে না পেরে গৃহবন্দি করেছিল ব্রিটিশ সরকার। আর ২০২৬-এ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামলাতে না পেরে তাঁর বেরনো বন্ধ করার কথা বলছে বিজেপি সরকার।”

ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য আফগানিস্তানের ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা, নেতৃত্ব দেবেন জাদরান

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে গৃহবন্দি করে রাখার হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর, রাষ্ট্রপতি-প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপের আবেদন মমতার

আপডেট : ২৬ অগাস্ট ২০২৬, বুধবার
নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাতে রাস্তায় বের হতে না পারেন তার বন্দোবস্ত করবেন শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু অধিকারীর সেই হুমকির পরই পাল্টা দিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এই বিষয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ দাবি করলেন। তৃণমূলের দাবি, বাংলার রাজনীতিতে কালো দিন হয়ে থাকল এটি। একজন মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এ কেমন ভাষা? তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে বলছেন রাস্তায় বের হতে দেব না!
          সোমবার ফেসবুক লাইভ তৃণমূল সুপ্রিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “বিজেপি তাঁকে বারবার বাধা দিচ্ছে। মিটিং মিছিল করতে দিচ্ছে না। পুলিশ দিয়ে যতই ভয় দেখান, যতই আটকানোর চেষ্টা করুন, আমাকে আটকাতে পারবেন না। মানুষই শেষ কথা বলে, শেষ কথা স্বৈরাচার বলে না। অসহায় মানুষের পাশে আবার দাঁড়াব, আমার যেখানে ইচ্ছা সেখানে যাব। দেখা হবে রাস্তায়, রাস্তাই আমাদের রাস্তা দেখাবে।” এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আপনি বিকেলে ফেসবুক লাইভেই থাকুন। আপনাকে রাস্তায় বেরতে হবে না। আপনি যাতে রাস্তায় বেরতে না পারেন, তার ব্যবস্থা আমি করব।”
                 এরপরই সমালোচনা ঝড় বয়ে যায় রাজনৈতিক মহলে। এর আগে কোনও মুখ্যমন্ত্রী কোনওদিন এই ভাষায় কথা বলেননি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীদের সম্বন্ধে তো নয়ই। শুভেন্দু অধিকারীর এই ধরনের বক্তব্য সমর্থনযোগ্য নয় বলে সমস্ত রাজনৈতিক দলই তাঁর এহেন বক্তব্যের নিন্দা করেছেন। পাল্টা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, “দেশের রাজনৈতিক মহল নিম্নরুচির উদাহরণ দেখল সোমবার। এই ঔদ্ধত্যের জবাব দেবে মানুষ। সরকারি অফিসে বসে মুখ্যমন্ত্রী হুমকি দিচ্ছেন তিনবারের মুখ্যমন্ত্রীকে। বলছেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে গৃহবন্দি রাখার সব ব্যবস্থা তিনি করবেন। তিনি যাতে বের হতে না পারেন তার ব্যবস্থা করবেন!” এর প্রত্যুত্তরে তৃণমূল নেত্রী আরও বলেন, “আমি দেশের মাননীয় রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতি এবং জনতার কাছে জানতে চাইছি, আমাদের সংবিধান কি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে এই অধিকার দিয়েছেন?
প্রকাশ্যে রাজ্যের বিরোধী দলের শীর্ষ নেত্রীকে হুমকি দিচ্ছেন একজন মুখ্যমন্ত্রী৷ যে ভাষা তিনি ব্যবহার করছেন তাতে কোনও শালীনতা নেই। এটা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বা রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয় নয়৷ এর সঙ্গে গণতন্ত্র, বিরোধীদের অধিকার ও সাংবিধানিক স্বাধীনতার প্রশ্নও জড়িয়ে রয়েছে৷ বিজেপি আসলে বিরুদ্ধ মতকে দমন করতে চায়৷ হুমকি দিয়ে নিজেদের ঘরে টানতে চায়৷ বিপজ্জনক প্রবণতা৷ ভারতবর্ষ এক নিদারুণ স্বৈরাচারী সরকারকে দেখছে৷ ক্ষমতাসীনরা যেন মনে রাখে ক্ষমতা কখনওই চিরস্থায়ী নয়৷ শেষ কথা বলেন মানুষই৷” তৃণমূল সুপ্রিমো আরও বলেন, “বিজেপির ঔদ্ধত্য দিন দিন বাড়ছে৷ মরিয়া চেষ্টা করছে অন্যদের কণ্ঠস্বর চিরতরে বন্ধ করতে৷ আসলে ওদের শেষের সেদিন শুরু হয়ে গিয়েছে৷” তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ স্যোশাল মিডিয়া ভিডিও পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, “এ তো রীতিমতো হুমকি। একজন প্রাক্তন মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে গৃহবন্দি রাখার চেষ্টা। আমরা মহিলা ক্ষমতায়ন, নারী নিরাপত্তার কথা বলি। আর একজন প্রাক্তন মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে এ কী বললেন শুভেন্দুবাবু! এটা কোন গণতন্ত্রের ভাষা! নিজেদের পছন্দ মতো বিরোধী দলনেতা বিধানসভায় বসানোর পরেও এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভয় পাচ্ছে বিজেপি।” তিনি সোশ্যাল মিডিয়া আরও একটি পোস্টে লেখেন, “কোনও তুলনা নয়, শুধু ঘটনার উল্লেখ করছি।
১৯৪০-এ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে সামলাতে না পেরে গৃহবন্দি করেছিল ব্রিটিশ সরকার। আর ২০২৬-এ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামলাতে না পেরে তাঁর বেরনো বন্ধ করার কথা বলছে বিজেপি সরকার।”