নিউজ ডেস্ক: যাদবপুর-কাণ্ডে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। এবার খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে একটি ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখনের ভিডিও পোস্ট করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবার হুঁশিয়ারি দিলেন। সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে ওই ভিডিও পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের বয়েজ হস্টেলে ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখন রয়েছে। তিনি আরও জানান, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন পড়ুয়া এই মর্মে অভিযোগ জানিয়েছন মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ সেলে। যদি অভিযোগগুলো সত্যি হয়, তবে এই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশ গিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং উচ্চশিক্ষা দফতরের প্রধান সচিবের কাছেও। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা, “কোনও অবস্থাতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস চত্বরকে বিকৃত প্রচার এবং ভারত-বিরোধী মনোভাব ছড়ানোর মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, ”তদন্তের প্রথম ধাপ হিসেবে ওই হস্টেল চত্বরে গিয়ে বিষয়টা যাচাই করতে হবে। যদি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা যায়, তবে এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে হবে।” শুভেন্দুর বক্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আপত্তিকর, দেশবিরোধী দেওয়াল লিখন এবং ছবি জমা পড়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হল শেখা, শিক্ষাগত উৎকর্ষতা এবং জাতি গঠনের পবিত্র স্থান। কোনও অবস্থাতেই ক্যাম্পাসের প্রাঙ্গণকে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার ও ভারতবিরোধী মনোভাব ছড়ানোর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। আমি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রধান সচিব এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে তদন্ত শুরুর অনুরোধ জানাচ্ছি।” তিনি আরও নির্দেশ দিয়েছেন, “যদি এমন দেশবিরোধী বার্তা এবং বিকৃত মানসিকতার ছবির উপস্থিতি প্রমাণিত হয়, তবে অবিলম্বে সেই দেওয়াল লিখন মুছে ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে অবশ্যই মেধা এবং শৃঙ্খলার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বজায় রাখতে হবে। নজর রাখতে হবে যাতে কখনওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি অসামাজিক কার্যকলাপের ক্ষেত্র হয়ে না-ওঠে।”
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে জিবি বৈঠককে ঘিরে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ফেটসুর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি। তারা জোর করে জিবি বৈঠকে ঢুকে পড়ে উস্কানি দিতে থাকে বলে অভিযোগ। তারপরই বাড়তে থাকে উত্তেজনা। যা শেষ পর্যন্ত হাতাহাতিতে গড়ায়। এরপর থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে চড়তে থাকে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ। দোষারোপ পাল্টা দোষারোপে সরগরম হয় রাজ্য-রাজনীতি। শাসকদলের নেতামন্ত্রীরা বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ তোলেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রথম থেকেই করা কড়া অবস্থান নেন। তিনি বলেন, “যাদবপুরে কিষেণজি রেড স্যালুট চলবে না। রাষ্ট্রবাদী কাজ করতে হবে।”
যদিও শাসকদলের নেতাদের পাল্টা দিতে ছাড়েনি বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলো। তাদের বক্তব্য, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে গেরুয়া বানানোর দিবাস্বপ্ন দেখছে আরএসএস-বিজেপি। কোনওরকম প্ররোচনা ছাড়াই এখানে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। বামপন্থীরা রুখে দাঁড়ানোয় ‘গেরুয়া সন্ত্রাস’ চালাচ্ছে তারা। ছাত্রছাত্রীদের মারধোর করছে। তাদের মতে, বিজেপি যদি মনে করে এইভাবে তারা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দখল নেবে ভাবে, তবে সে গুড়ে বালি। কারণ, যাদবপুর কখনও স্বৈরাচারী-ফ্যাসিস্টদের কাছে মাথা নত করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।
নতুন গতি 




















