১৮ অগাস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার, ১ ভাদ্র ১৪৩৩
১৮ অগাস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার, ১ ভাদ্র ১৪৩৩

গঙ্গায় মিলছে না ইলিশ, হতাশ উলুবেড়িয়া-শ্যামপুরের মৎস্যজীবীরা

আক্তারুল খান, উলুবেড়িয়া: বর্ষা আর ইলিশ বাঙালির কাছে যেন একে অপরের পরিপূরক। বছরের এই সময়ে গঙ্গায় ইলিশের আশায় জাল ফেলেন উলুবেড়িয়া ও শ্যামপুর এলাকার কয়েকশো মৎস্যজীবী। কিন্তু চলতি মরশুমে সেই আশায় যেন ভাটা পড়েছে। বারবার নদীতে জাল ফেলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা না মেলায় হতাশ মৎস্যজীবী পরিবারগুলি।উলুবেড়িয়া ও শ্যামপুর এলাকার বহু পরিবার দীর্ঘদিন ধরে গঙ্গায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। ইঞ্জিনচালিত নৌকার পাশাপাশি ছোট নৌকা নিয়েও প্রতিদিন নদীতে পাড়ি দেন তাঁরা। কিন্তু একদিকে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, অন্যদিকে জাল ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় এমনিতেই আর্থিক সমস্যায় রয়েছেন মৎস্যজীবীরা। তার উপর বর্ষার মরশুমেও জালে ইলিশ না ওঠায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
উলুবেড়িয়ার দক্ষিণ জগদীশপুরের মৎস্যজীবী আনন্দ ধুলে প্রায় দুই দশক ধরে গঙ্গায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তাঁর কথায়, এমন পরিস্থিতি আগে কখনও দেখেননি। একসময় গঙ্গায় প্রচুর ইলিশ পাওয়া যেত। সেই মাছ আড়তদার কিংবা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে ভালোই আয় হত। কিন্তু চলতি বছরে একাধিকবার নদীতে গিয়েও কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না।শুধু আনন্দ ধুলে নন, তাঁর মতো বহু মৎস্যজীবীর মুখেই এখন হতাশার সুর। মৎস্যজীবীদের একাংশের দাবি, গঙ্গায় যেভাবে দূষণ বেড়ে চলেছে ইলিশের সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। তাঁদের অভিযোগ, নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নৌকার তেল, জাল এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচও অনেক সময় উঠছে না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকে এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যাওয়ার কথা ভাবছেন।
তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ইলিশের আশা পুরোপুরি ছাড়তে নারাজ মৎস্যজীবীরা। সামনে রান্নাপুজোর মরশুম। বাঙালির পাতেও তখন ইলিশের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। তাই শেষ পর্যন্ত গঙ্গা মুখ তুলে তাকাবে, নদীতে ফিরবে কাঙ্ক্ষিত রুপোলি শস্য এই আশাতেই বুক বাঁধছেন উলুবেড়িয়া ও শ্যামপুর এলাকার কয়েকশো মৎস্যজীবী।

১৫ আগস্টের তিন দিন পর, নদিয়ার ‘স্বাধীনতা দিবস’

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

গঙ্গায় মিলছে না ইলিশ, হতাশ উলুবেড়িয়া-শ্যামপুরের মৎস্যজীবীরা

আপডেট : ১৮ অগাস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার
আক্তারুল খান, উলুবেড়িয়া: বর্ষা আর ইলিশ বাঙালির কাছে যেন একে অপরের পরিপূরক। বছরের এই সময়ে গঙ্গায় ইলিশের আশায় জাল ফেলেন উলুবেড়িয়া ও শ্যামপুর এলাকার কয়েকশো মৎস্যজীবী। কিন্তু চলতি মরশুমে সেই আশায় যেন ভাটা পড়েছে। বারবার নদীতে জাল ফেলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা না মেলায় হতাশ মৎস্যজীবী পরিবারগুলি।উলুবেড়িয়া ও শ্যামপুর এলাকার বহু পরিবার দীর্ঘদিন ধরে গঙ্গায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। ইঞ্জিনচালিত নৌকার পাশাপাশি ছোট নৌকা নিয়েও প্রতিদিন নদীতে পাড়ি দেন তাঁরা। কিন্তু একদিকে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, অন্যদিকে জাল ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় এমনিতেই আর্থিক সমস্যায় রয়েছেন মৎস্যজীবীরা। তার উপর বর্ষার মরশুমেও জালে ইলিশ না ওঠায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
উলুবেড়িয়ার দক্ষিণ জগদীশপুরের মৎস্যজীবী আনন্দ ধুলে প্রায় দুই দশক ধরে গঙ্গায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তাঁর কথায়, এমন পরিস্থিতি আগে কখনও দেখেননি। একসময় গঙ্গায় প্রচুর ইলিশ পাওয়া যেত। সেই মাছ আড়তদার কিংবা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে ভালোই আয় হত। কিন্তু চলতি বছরে একাধিকবার নদীতে গিয়েও কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না।শুধু আনন্দ ধুলে নন, তাঁর মতো বহু মৎস্যজীবীর মুখেই এখন হতাশার সুর। মৎস্যজীবীদের একাংশের দাবি, গঙ্গায় যেভাবে দূষণ বেড়ে চলেছে ইলিশের সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। তাঁদের অভিযোগ, নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নৌকার তেল, জাল এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচও অনেক সময় উঠছে না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকে এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যাওয়ার কথা ভাবছেন।
তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ইলিশের আশা পুরোপুরি ছাড়তে নারাজ মৎস্যজীবীরা। সামনে রান্নাপুজোর মরশুম। বাঙালির পাতেও তখন ইলিশের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। তাই শেষ পর্যন্ত গঙ্গা মুখ তুলে তাকাবে, নদীতে ফিরবে কাঙ্ক্ষিত রুপোলি শস্য এই আশাতেই বুক বাঁধছেন উলুবেড়িয়া ও শ্যামপুর এলাকার কয়েকশো মৎস্যজীবী।