২৬ মে ২০২৬, মঙ্গলবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
২৬ মে ২০২৬, মঙ্গলবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আমতায় যৌথ পরিবেশ মঞ্চ ও ডট ফাউন্ডেশনের তৎপরতায় কলঘরের জলনালা থেকে কেউটের বাচ্চা উদ্ধার

আনজুম মুনির, হাওড়া: আবারও লোকালয় থেকে একটি বিষধর সাপের বাচ্চা অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় নজির গড়ল হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চের সাথী সংগঠন ‘ডট ফাউন্ডেশন’। হাওড়া জেলার আমতা ২ নম্বর ব্লকের জাগলগড়ি গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। পরিবেশ কর্মীদের এই তাৎক্ষণিক তৎপরতায় একদিকে যেমন একটি বন্যপ্রাণের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে, তেমনই নিশ্চিত হয়েছে একটি পরিবারের সুরক্ষাও।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাগলগড়ি গ্রামের বাসিন্দা শ্রী মৃত্যুঞ্জয় রীত মহাশয়ের বাড়ির কলঘরের জলনালায় আচমকাই একটি কেউটে সাপের বাচ্চা ঢুকে পড়ে। বাড়ির গৃহবধূ পাপিয়া রীত যখন কলঘরে মাছ ধুতে যান, তখন হঠাৎই সাপের বাচ্চাটি তাঁর নজরে আসে। বসতবাড়ির ভেতরে বিষধর সাপ দেখে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়ায়, তবে পরিবারের সদস্যরা সাপটিকে কোনরকম আঘাত না করে চরম ধৈর্য ও শুভবুদ্ধির পরিচয় দেন।

খবর পেয়ে কালবিলম্ব না করে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান স্থানীয় বন্যপ্রাণী উদ্ধার কর্মী ও পরিবেশ কর্মী কুন্তল মুখোপাধ্যায়। তিনি প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে সাপটিকে একটি অত্যন্ত বিষধর কেউটে সাপের বাচ্চা হিসেবে চিহ্নিত করেন। বিষয়ের সংবেদনশীলতা ও ঝুঁকি বিবেচনা করে কুন্তল বাবু বনদপ্তরের আগাম অনুমতি সাপেক্ষে তৎক্ষণাৎ যোগাযোগ করেন বিশিষ্ট সর্প ও বিষ গবেষক শুভেন্দু গাঙ্গুলীর সাথে।

খবর পাওয়ামাত্রই দ্রুত জাগলগড়ি গ্রামে এসে উপস্থিত হন গবেষক শুভেন্দু বাবু এবং অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সাপের বাচ্চাটিকে সুরক্ষিতভাবে উদ্ধার করেন। উদ্ধারকার্যের পর গবেষক শুভেন্দু গাঙ্গুলী জানান, উদ্ধার হওয়া কেউটে সাপটির বয়স আনুমানিক ১ বছর। সাধারণ মানুষের এই সচেতনতার প্রশংসা করে তিনি পরিবেশের এক গভীর সংকটের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বর্তমানে আমাদের প্রকৃতিতে কেউটে ও গোখরো সাপের সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পাওয়ার কারণেই চন্দ্রবোড়া ও কালাচের মতো সাপের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকৃতির স্বাভাবিক খাদ্যশৃঙ্খল সচল রাখতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে এই কেউটে জাতীয় সাপদের বাঁচিয়ে রাখা আজ অত্যন্ত জরুরি।”

একটি অবলা প্রাণীর জীবন রক্ষা করার জন্য এবং বন্যপ্রাণের প্রতি সংবেদনশীলতা দেখানোর জন্য যৌথ পরিবেশ মঞ্চ ও ডট ফাউন্ডেশনের তরফ থেকে মৃত্যুঞ্জয় রীতের স্ত্রী পাপিয়া রীত এবং পরিবারের সদস্য রীয়া রীতকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানানো হয়েছে। পরিবেশ কর্মীদের মতে, গ্রামীণ স্তরে সাধারণ মানুষের এমন পরিবেশ সচেতনতা ও সদইচ্ছা আগামীদিনে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের লড়াইকে আরও মজবুত করবে।আজকের এই পুরো উদ্ধার কার্যটি পরিচালনা করেন ডট ও যৌথ পরিবেশ মঞ্চের সদস্যা ডক্টর রিমা মুখার্জি।

সর্বাধিক পাঠিত

মেমারিতে মর্মান্তিক মৃত্যু ১. ৫ বছরের কন্যা সন্তানের

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

আমতায় যৌথ পরিবেশ মঞ্চ ও ডট ফাউন্ডেশনের তৎপরতায় কলঘরের জলনালা থেকে কেউটের বাচ্চা উদ্ধার

আপডেট : ২৬ মে ২০২৬, মঙ্গলবার

আনজুম মুনির, হাওড়া: আবারও লোকালয় থেকে একটি বিষধর সাপের বাচ্চা অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় নজির গড়ল হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চের সাথী সংগঠন ‘ডট ফাউন্ডেশন’। হাওড়া জেলার আমতা ২ নম্বর ব্লকের জাগলগড়ি গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। পরিবেশ কর্মীদের এই তাৎক্ষণিক তৎপরতায় একদিকে যেমন একটি বন্যপ্রাণের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে, তেমনই নিশ্চিত হয়েছে একটি পরিবারের সুরক্ষাও।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাগলগড়ি গ্রামের বাসিন্দা শ্রী মৃত্যুঞ্জয় রীত মহাশয়ের বাড়ির কলঘরের জলনালায় আচমকাই একটি কেউটে সাপের বাচ্চা ঢুকে পড়ে। বাড়ির গৃহবধূ পাপিয়া রীত যখন কলঘরে মাছ ধুতে যান, তখন হঠাৎই সাপের বাচ্চাটি তাঁর নজরে আসে। বসতবাড়ির ভেতরে বিষধর সাপ দেখে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়ায়, তবে পরিবারের সদস্যরা সাপটিকে কোনরকম আঘাত না করে চরম ধৈর্য ও শুভবুদ্ধির পরিচয় দেন।

খবর পেয়ে কালবিলম্ব না করে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান স্থানীয় বন্যপ্রাণী উদ্ধার কর্মী ও পরিবেশ কর্মী কুন্তল মুখোপাধ্যায়। তিনি প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে সাপটিকে একটি অত্যন্ত বিষধর কেউটে সাপের বাচ্চা হিসেবে চিহ্নিত করেন। বিষয়ের সংবেদনশীলতা ও ঝুঁকি বিবেচনা করে কুন্তল বাবু বনদপ্তরের আগাম অনুমতি সাপেক্ষে তৎক্ষণাৎ যোগাযোগ করেন বিশিষ্ট সর্প ও বিষ গবেষক শুভেন্দু গাঙ্গুলীর সাথে।

খবর পাওয়ামাত্রই দ্রুত জাগলগড়ি গ্রামে এসে উপস্থিত হন গবেষক শুভেন্দু বাবু এবং অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সাপের বাচ্চাটিকে সুরক্ষিতভাবে উদ্ধার করেন। উদ্ধারকার্যের পর গবেষক শুভেন্দু গাঙ্গুলী জানান, উদ্ধার হওয়া কেউটে সাপটির বয়স আনুমানিক ১ বছর। সাধারণ মানুষের এই সচেতনতার প্রশংসা করে তিনি পরিবেশের এক গভীর সংকটের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বর্তমানে আমাদের প্রকৃতিতে কেউটে ও গোখরো সাপের সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পাওয়ার কারণেই চন্দ্রবোড়া ও কালাচের মতো সাপের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকৃতির স্বাভাবিক খাদ্যশৃঙ্খল সচল রাখতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে এই কেউটে জাতীয় সাপদের বাঁচিয়ে রাখা আজ অত্যন্ত জরুরি।”

একটি অবলা প্রাণীর জীবন রক্ষা করার জন্য এবং বন্যপ্রাণের প্রতি সংবেদনশীলতা দেখানোর জন্য যৌথ পরিবেশ মঞ্চ ও ডট ফাউন্ডেশনের তরফ থেকে মৃত্যুঞ্জয় রীতের স্ত্রী পাপিয়া রীত এবং পরিবারের সদস্য রীয়া রীতকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানানো হয়েছে। পরিবেশ কর্মীদের মতে, গ্রামীণ স্তরে সাধারণ মানুষের এমন পরিবেশ সচেতনতা ও সদইচ্ছা আগামীদিনে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের লড়াইকে আরও মজবুত করবে।আজকের এই পুরো উদ্ধার কার্যটি পরিচালনা করেন ডট ও যৌথ পরিবেশ মঞ্চের সদস্যা ডক্টর রিমা মুখার্জি।