০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

১২ বছর পর পাকিস্তানে যাবেন মোদী? ইসলামাবাদে SCO সম্মেলনে আমন্ত্রণ

নয়াদিল্লি, ২ সেপ্টেম্বর: আগামী বছর পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর শীর্ষ সম্মেলন। আর সেই সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ফলে ২০১৫ সালের পর ফের পাকিস্তানের মাটিতে মোদীর পা রাখার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক জল্পনা।
বিশকেকে ২৬তম SCO শীর্ষ সম্মেলন শেষ হওয়ার পরই পাকিস্তান সংগঠনটির পরবর্তী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছে। ২০২৬-২৭ মেয়াদে SCO-র সভাপতিত্ব করবে ইসলামাবাদ। নিয়ম অনুযায়ী, আগামী বছর পাকিস্তানে আয়োজিত রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মেলনে সদস্য দেশগুলির শীর্ষ নেতৃত্বকে আমন্ত্রণ জানানোর কথা। সেই তালিকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীও রয়েছেন।
আমন্ত্রণ পেলেও কি পাকিস্তান যাবেন মোদী?
আমন্ত্রণ জানানো হলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শেষ পর্যন্ত ইসলামাবাদে যাবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ভারতের সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে আগামী এক বছরে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক কোন দিকে এগোয় তার উপর।
ভারতের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই স্পষ্ট—সন্ত্রাসবাদ বন্ধ না হলে পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সম্ভব নয়। সীমান্তপারের সন্ত্রাসে পাকিস্তানের মদতের অভিযোগ তুলে একাধিক বার ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে নয়াদিল্লি।
ফলে SCO-র মতো বহুপাক্ষিক সম্মেলনে অংশ নেওয়া এবং পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা—দুই বিষয়কে একই ভাবে দেখছে না ভারত। প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে গেলে সেটি SCO-র বহুপাক্ষিক দায়িত্ব পালনের অংশ হতে পারে; কিন্তু তার অর্থ যে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে গেল, এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
২০২৪-এর SCO সম্মেলনে পাকিস্তানে যাননি মোদী
এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তানে SCO-র সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে যোগ দেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
২০২৭ সালের সম্মেলনে যদি মোদী নিজে ইসলামাবাদে যান, তবে সেটি হবে ২০১৫ সালের পর তাঁর প্রথম পাকিস্তান সফর। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত তিনি মাত্র এক বার পাকিস্তানে গিয়েছেন।
২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে আফগানিস্তান সফর শেষে আচমকাই লাহোরে নেমেছিলেন মোদী। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎও হয়েছিল। সেই আকস্মিক সফর ভারত-পাকিস্তান কূটনীতিতে যথেষ্ট আলোড়ন তৈরি করেছিল।
কিন্তু পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক দ্রুত অবনতি হয়। বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে গভীর টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়েছে।
বিশকেকে মুখোমুখি মোদী-শাহবাজ
২০২৬ সালের বিশকেক SCO সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। তবে দুই নেতার বক্তব্যে দুই দেশের অবস্থানের পার্থক্যও স্পষ্ট হয়েছে।
মোদী তাঁর বক্তব্যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘দ্বিচারিতা’ না করার বার্তা দেন। সন্ত্রাসের অর্থ জোগান, জঙ্গি নিয়োগ, কট্টরপন্থী প্রচার এবং জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়ের মতো গোটা পরিকাঠামো ধ্বংস করার আহ্বান জানান তিনি।
সরাসরি কোনও দেশের নাম না করলেও তাঁর বক্তব্যে সন্ত্রাসবাদে মদত এবং জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত দেশগুলির প্রতি স্পষ্ট বার্তা ছিল। মোদীর বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদ কোনও দেশের ‘কৌশলগত সম্পদ’ হতে পারে না।
অন্যদিকে শাহবাজ শরিফও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা বলেন। পাশাপাশি জলসম্পদকে রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করার বার্তাও দেন তিনি। ফলে একই সম্মেলনে উপস্থিত থাকলেও ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট ছিল।
ইসলামাবাদ সফর হলে কেন গুরুত্বপূর্ণ?
মোদী যদি ২০২৭ সালে ইসলামাবাদে SCO সম্মেলনে যোগ দেন, তা হলে সেটি নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ঘটনা হবে। দীর্ঘদিন পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানের মাটিতে পা রাখবেন। একই সঙ্গে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের বর্তমান টানাপোড়েনের মধ্যেই এমন সফর নানা দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে সফরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত পরিস্থিতি এবং দুই দেশের সামগ্রিক কূটনৈতিক সম্পর্ক খতিয়ে দেখবে নয়াদিল্লি বলেই মনে করা হচ্ছে।
অর্থাৎ পাকিস্তানের আমন্ত্রণ এসেছে, কিন্তু মোদীর ইসলামাবাদ সফর এখনও চূড়ান্ত নয়। আগামী এক বছরে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তার উপরই নির্ভর করবে ভারতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
এখন তাই কূটনৈতিক মহলের নজর ২০২৭ সালের ইসলামাবাদ SCO সম্মেলনের দিকে। একদিকে পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ, অন্যদিকে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের কঠোর অবস্থান—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখেই শেষ পর্যন্ত নয়াদিল্লিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কি সত্যিই ১২ বছর পর পাকিস্তানের মাটিতে পা রাখবেন?

১২ বছর পর পাকিস্তানে যাবেন মোদী? ইসলামাবাদে SCO সম্মেলনে আমন্ত্রণ

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

১২ বছর পর পাকিস্তানে যাবেন মোদী? ইসলামাবাদে SCO সম্মেলনে আমন্ত্রণ

আপডেট : ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার
নয়াদিল্লি, ২ সেপ্টেম্বর: আগামী বছর পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর শীর্ষ সম্মেলন। আর সেই সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ফলে ২০১৫ সালের পর ফের পাকিস্তানের মাটিতে মোদীর পা রাখার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক জল্পনা।
বিশকেকে ২৬তম SCO শীর্ষ সম্মেলন শেষ হওয়ার পরই পাকিস্তান সংগঠনটির পরবর্তী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছে। ২০২৬-২৭ মেয়াদে SCO-র সভাপতিত্ব করবে ইসলামাবাদ। নিয়ম অনুযায়ী, আগামী বছর পাকিস্তানে আয়োজিত রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মেলনে সদস্য দেশগুলির শীর্ষ নেতৃত্বকে আমন্ত্রণ জানানোর কথা। সেই তালিকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীও রয়েছেন।
আমন্ত্রণ পেলেও কি পাকিস্তান যাবেন মোদী?
আমন্ত্রণ জানানো হলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শেষ পর্যন্ত ইসলামাবাদে যাবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ভারতের সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে আগামী এক বছরে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক কোন দিকে এগোয় তার উপর।
ভারতের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই স্পষ্ট—সন্ত্রাসবাদ বন্ধ না হলে পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সম্ভব নয়। সীমান্তপারের সন্ত্রাসে পাকিস্তানের মদতের অভিযোগ তুলে একাধিক বার ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে নয়াদিল্লি।
ফলে SCO-র মতো বহুপাক্ষিক সম্মেলনে অংশ নেওয়া এবং পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা—দুই বিষয়কে একই ভাবে দেখছে না ভারত। প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে গেলে সেটি SCO-র বহুপাক্ষিক দায়িত্ব পালনের অংশ হতে পারে; কিন্তু তার অর্থ যে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে গেল, এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
২০২৪-এর SCO সম্মেলনে পাকিস্তানে যাননি মোদী
এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তানে SCO-র সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে যোগ দেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
২০২৭ সালের সম্মেলনে যদি মোদী নিজে ইসলামাবাদে যান, তবে সেটি হবে ২০১৫ সালের পর তাঁর প্রথম পাকিস্তান সফর। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত তিনি মাত্র এক বার পাকিস্তানে গিয়েছেন।
২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে আফগানিস্তান সফর শেষে আচমকাই লাহোরে নেমেছিলেন মোদী। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎও হয়েছিল। সেই আকস্মিক সফর ভারত-পাকিস্তান কূটনীতিতে যথেষ্ট আলোড়ন তৈরি করেছিল।
কিন্তু পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক দ্রুত অবনতি হয়। বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে গভীর টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়েছে।
বিশকেকে মুখোমুখি মোদী-শাহবাজ
২০২৬ সালের বিশকেক SCO সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। তবে দুই নেতার বক্তব্যে দুই দেশের অবস্থানের পার্থক্যও স্পষ্ট হয়েছে।
মোদী তাঁর বক্তব্যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘দ্বিচারিতা’ না করার বার্তা দেন। সন্ত্রাসের অর্থ জোগান, জঙ্গি নিয়োগ, কট্টরপন্থী প্রচার এবং জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়ের মতো গোটা পরিকাঠামো ধ্বংস করার আহ্বান জানান তিনি।
সরাসরি কোনও দেশের নাম না করলেও তাঁর বক্তব্যে সন্ত্রাসবাদে মদত এবং জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত দেশগুলির প্রতি স্পষ্ট বার্তা ছিল। মোদীর বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদ কোনও দেশের ‘কৌশলগত সম্পদ’ হতে পারে না।
অন্যদিকে শাহবাজ শরিফও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা বলেন। পাশাপাশি জলসম্পদকে রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করার বার্তাও দেন তিনি। ফলে একই সম্মেলনে উপস্থিত থাকলেও ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট ছিল।
ইসলামাবাদ সফর হলে কেন গুরুত্বপূর্ণ?
মোদী যদি ২০২৭ সালে ইসলামাবাদে SCO সম্মেলনে যোগ দেন, তা হলে সেটি নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ঘটনা হবে। দীর্ঘদিন পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানের মাটিতে পা রাখবেন। একই সঙ্গে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের বর্তমান টানাপোড়েনের মধ্যেই এমন সফর নানা দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে সফরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত পরিস্থিতি এবং দুই দেশের সামগ্রিক কূটনৈতিক সম্পর্ক খতিয়ে দেখবে নয়াদিল্লি বলেই মনে করা হচ্ছে।
অর্থাৎ পাকিস্তানের আমন্ত্রণ এসেছে, কিন্তু মোদীর ইসলামাবাদ সফর এখনও চূড়ান্ত নয়। আগামী এক বছরে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তার উপরই নির্ভর করবে ভারতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
এখন তাই কূটনৈতিক মহলের নজর ২০২৭ সালের ইসলামাবাদ SCO সম্মেলনের দিকে। একদিকে পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ, অন্যদিকে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের কঠোর অবস্থান—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখেই শেষ পর্যন্ত নয়াদিল্লিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কি সত্যিই ১২ বছর পর পাকিস্তানের মাটিতে পা রাখবেন?