নতুন গতি প্রতিবেদন, দক্ষিণ দিনাজপুর: বালুরঘাট ব্লকের অমৃতখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের দিগড়া গ্রামে বাস করেন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন আদিবাসী পরিবার, যাদের মধ্যে সিংহভাগেরই সংসার চলে দিনমজুরি বা রাজমিস্ত্রির কাজের উপর। এমন পরিস্থিতিতে সন্তানদের পড়াশোনার জন্য গৃহ শিক্ষকের খরচ বহন করা চাপের হয়ে ওঠে। সেই জায়গায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন বালুরঘাট কলেজের শিক্ষক দুলাল বর্মন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি ছেলেমেয়েদের পারিশ্রমিক ছাড়াই পড়াচ্ছেন। ১৮ জন পড়ুয়া দিয়ে শুরু হতে এখন সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০।
জানা গিয়েছে দুলাল বর্মনের বাড়ি মালঞ্চায়। গ্রামের শিশুদের একপ্রকার সুখ-দুঃখের সঙ্গী তিনি। তাদের খোঁজখবর নেওয়ার সঙ্গে মাঝেমধ্যে পোশাক ও শিক্ষা সামগ্রী দিয়েও সাহায্য করেন। তবে শুধু শিক্ষা সামগ্রী দিয়ে যে সমস্যার সমাধান হয় না, তা বুঝেই তিনি শুরু করেন ‘বন্ধু পড়াঘর’। তিনি সোমবার ও বৃহস্পতিবার কলেজ শেষে গ্রামে যান। শুধু তাই নয়, ছুটির দিনেও এক গ্রামবাসীর বারান্দায় ক্লাস করান মাদুর পেতে। গ্রামের স্কুলছুটদেরও এর অংশ করার চেষ্টা চলছে।
‘বন্ধু পড়াঘর’এর দুই ছাত্রের বক্তব্য, “দীর্ঘদিন পড়াশোনা না করায় আমরা নিজেদের নাম পর্যন্ত লিখতে পারতাম না। এখন বাংলা ও ইংরেজিতে নিজের নাম লিখতে পারি।” দুলাল বর্মন বলেছেন, “ওরা আমাকে বন্ধু বলে ডাকত। ওদের মধ্যে প্রতিভার অভাব নেই। দরকার শুধু একটু সাহস, সহযোগিতা এবং সঠিক দিশার।”
নতুন গতি 























