০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সোমবার, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সোমবার, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

জন্মশতবর্ষে চলচ্চিত্রের অবিসংবাদিত মহানায়কের স্মৃতিচারণ, খেলার মাঠের উত্তমকুমার

শান্তি রায় চৌধুরী: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালে পূর্ণ হলো বাংলা চলচ্চিত্রের অবিসংবাদিত মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্ম শতবার্ষিকী। ১৯২৬ সালের এই দিনে কলকাতার আহিরীটোলায় জন্ম নেওয়া অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায় রূপালি পর্দায় ‘উত্তম কুমার’ হয়ে বাঙালির আবেগ, ভালোবাসা আর নস্টালজিয়ার চিরস্থায়ী ঠিকানা হয়ে রয়েছেন।
বেঁচে থাকলে তাঁর বয়স হতো ১০০ বছর। তিনি নেই ৪৬ বছর , অথচ আজও তিনি অমলিন বাঙালির হৃদয়ে। উত্তম কুমার আজও বাঙালির আবেগ, জীবনের আরাধ্য।
এই কিংবদন্তিকে আমরা সিনেমার পর্দায় দেখেছি। কিন্তু আমরা কি জানি খেলাধুলোর প্রতি তার কতটা ভালোবাসা ছিল? আমরা কিন্তু মহানায়কের এই দিকটা নিয়ে অনেকেই জানিনা।
সুঠাম ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এই মহানায়কের জীবন ছিল একজন ক্রীড়াবিদের মত। অভিনয়ের পাশাপাশি ক্রীড়াজগতেও তাঁর গভীর অনুরাগ ও দক্ষতা ছিল।
তাই জন্ম শতবার্ষিকীতে এসে এই মহানায়কের খেলাধুলার প্রতি তাঁর যে ভালোবাসা ছিল সেগুলোর দিকে একটু দৃষ্টি দেব।
তিনি নিজে একজন ভালো ফুটবলার ছিলেন। খেলতেন রক্ষণভাগের রাইট-ব্যাক পজিশনে। তিনি কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহনবাগানের কট্টর সমর্থক ছিলেন। ‘ধন্যী মেয়ে’ চলচ্চিত্রে তাঁর ফুটবল প্রেম চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। এছাড়া ‘সপ্তপদী’ ছবির একটি ফুটবল দৃশ্যের জন্য সহ-অভিনেত্রী সুচিত্রা সেনের অনুরোধে তিনি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের জার্সিও পরেছিলেন। আসলে তিনি ছিলেন মোহনবাগান প্রেমি। আর অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন ছিলেন ইস্টবেঙ্গল প্রেমি। তাই হয়তো অভিনেত্রীর কথা তিনি ফেলতে পারেননি।
সাঁতারেও তিনি চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। উত্তম কুমার হলিউড তারকা জনি ওয়াইসমুলারের ভক্ত ছিলেন। তিনি ভবানীপুর সুইমিং অ্যাসোসিয়েশনে পরপর তিন মরসুম ১০০ গজ ফ্রিস্টাইল সাঁতারে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন।
রুপালি পর্দার রোমান্টিক নায়ক হওয়ার অনেক আগেই তাঁর এই অ্যাথলেটিক বা খেলোয়াড়সুলভ সুঠাম শরীর তৈরি হয়েছিল এই সাঁতারের মাধ্যমেই। পরবর্তী জীবনেও তিনি তাঁর শরীর ও ফিটনেস ধরে রাখতে সাঁতারকেই বেছে নিয়েছিলেন।
টেনিস খেলাটা উত্তম কুমার খুবই ভালবাসতেন।সাউথ ক্লাবের সদস্য ছিলেন। শুটিং সেরে স্টুডিও থেকে পোশাক বদলে চলে যেতেন সাউথ ক্লাবে। বেশ ক’দিন খেলতে খেলতে খেলাটা রপ্ত করে ফেলেছিলেন। বিচারক ছবির পরিচালক প্রভাত মুখোপাধ্যায় শুটিংয়ে টেনিস খেলার শট নিতে গিয়ে উত্তম কুমারের সাবলীল বিচরণ এবং টেনিস খেলার টেকনিক দেখে রীতিমতো চমকে গিয়েছিলেন। পরে জানতে পারেন, টেনিস খেলা শেখার জন্য উত্তমকুমার সাউথ ক্লাবের সদস্য ছিলেন। নিয়মিত ক্লাবে গিয়ে প্র্যাকটিস করতেন। তবে তা অবশ্য তিনি করতেন শরীর চর্চার জন্য।
ফুটবল,সাঁতার,টেনিস ছাড়াও তিনি ভলিবল, ক্রিকেট, কুস্তি, যোগব্যায়াম এবং বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলাতেও পারদর্শী ছিলেন।
১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি,পশ্চিমবঙ্গের বন্যা দুর্গতদের জন্য তহবিল গঠনে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ‘বম্বে ক্লিপ ইন্ডাস্ট্রিজ বনাম টালিগঞ্জ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিজ একটি চ্যারিটি ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছিল।
বম্বে দলে দিলীপ কুমারের নেতৃত্বে খেলেন অমিতাভ বচ্চন, জিতেন্দ্র, বিনোদ খান্নারা, আর কলকাতার নেতা উত্তম কুমার সহ গোটা দল।
মহানায়কের জন্মশতবর্ষে এসে স্মৃতিচারণ করতে হচ্ছে সিনেমার পাশাপাশি তার ফেলে আসা অন্য কাহিনীগুলোর কথা।

দলীপ ট্রফির ফাইনাল রবিবার, ১০০তম প্রথম-শ্রেণির ম্যাচ পূর্ণ করার সময় শামীকে অভিনন্দন জানাবে সিএবি

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

জন্মশতবর্ষে চলচ্চিত্রের অবিসংবাদিত মহানায়কের স্মৃতিচারণ, খেলার মাঠের উত্তমকুমার

আপডেট : ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সোমবার
শান্তি রায় চৌধুরী: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালে পূর্ণ হলো বাংলা চলচ্চিত্রের অবিসংবাদিত মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্ম শতবার্ষিকী। ১৯২৬ সালের এই দিনে কলকাতার আহিরীটোলায় জন্ম নেওয়া অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায় রূপালি পর্দায় ‘উত্তম কুমার’ হয়ে বাঙালির আবেগ, ভালোবাসা আর নস্টালজিয়ার চিরস্থায়ী ঠিকানা হয়ে রয়েছেন।
বেঁচে থাকলে তাঁর বয়স হতো ১০০ বছর। তিনি নেই ৪৬ বছর , অথচ আজও তিনি অমলিন বাঙালির হৃদয়ে। উত্তম কুমার আজও বাঙালির আবেগ, জীবনের আরাধ্য।
এই কিংবদন্তিকে আমরা সিনেমার পর্দায় দেখেছি। কিন্তু আমরা কি জানি খেলাধুলোর প্রতি তার কতটা ভালোবাসা ছিল? আমরা কিন্তু মহানায়কের এই দিকটা নিয়ে অনেকেই জানিনা।
সুঠাম ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এই মহানায়কের জীবন ছিল একজন ক্রীড়াবিদের মত। অভিনয়ের পাশাপাশি ক্রীড়াজগতেও তাঁর গভীর অনুরাগ ও দক্ষতা ছিল।
তাই জন্ম শতবার্ষিকীতে এসে এই মহানায়কের খেলাধুলার প্রতি তাঁর যে ভালোবাসা ছিল সেগুলোর দিকে একটু দৃষ্টি দেব।
তিনি নিজে একজন ভালো ফুটবলার ছিলেন। খেলতেন রক্ষণভাগের রাইট-ব্যাক পজিশনে। তিনি কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহনবাগানের কট্টর সমর্থক ছিলেন। ‘ধন্যী মেয়ে’ চলচ্চিত্রে তাঁর ফুটবল প্রেম চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। এছাড়া ‘সপ্তপদী’ ছবির একটি ফুটবল দৃশ্যের জন্য সহ-অভিনেত্রী সুচিত্রা সেনের অনুরোধে তিনি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের জার্সিও পরেছিলেন। আসলে তিনি ছিলেন মোহনবাগান প্রেমি। আর অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন ছিলেন ইস্টবেঙ্গল প্রেমি। তাই হয়তো অভিনেত্রীর কথা তিনি ফেলতে পারেননি।
সাঁতারেও তিনি চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। উত্তম কুমার হলিউড তারকা জনি ওয়াইসমুলারের ভক্ত ছিলেন। তিনি ভবানীপুর সুইমিং অ্যাসোসিয়েশনে পরপর তিন মরসুম ১০০ গজ ফ্রিস্টাইল সাঁতারে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন।
রুপালি পর্দার রোমান্টিক নায়ক হওয়ার অনেক আগেই তাঁর এই অ্যাথলেটিক বা খেলোয়াড়সুলভ সুঠাম শরীর তৈরি হয়েছিল এই সাঁতারের মাধ্যমেই। পরবর্তী জীবনেও তিনি তাঁর শরীর ও ফিটনেস ধরে রাখতে সাঁতারকেই বেছে নিয়েছিলেন।
টেনিস খেলাটা উত্তম কুমার খুবই ভালবাসতেন।সাউথ ক্লাবের সদস্য ছিলেন। শুটিং সেরে স্টুডিও থেকে পোশাক বদলে চলে যেতেন সাউথ ক্লাবে। বেশ ক’দিন খেলতে খেলতে খেলাটা রপ্ত করে ফেলেছিলেন। বিচারক ছবির পরিচালক প্রভাত মুখোপাধ্যায় শুটিংয়ে টেনিস খেলার শট নিতে গিয়ে উত্তম কুমারের সাবলীল বিচরণ এবং টেনিস খেলার টেকনিক দেখে রীতিমতো চমকে গিয়েছিলেন। পরে জানতে পারেন, টেনিস খেলা শেখার জন্য উত্তমকুমার সাউথ ক্লাবের সদস্য ছিলেন। নিয়মিত ক্লাবে গিয়ে প্র্যাকটিস করতেন। তবে তা অবশ্য তিনি করতেন শরীর চর্চার জন্য।
ফুটবল,সাঁতার,টেনিস ছাড়াও তিনি ভলিবল, ক্রিকেট, কুস্তি, যোগব্যায়াম এবং বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলাতেও পারদর্শী ছিলেন।
১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি,পশ্চিমবঙ্গের বন্যা দুর্গতদের জন্য তহবিল গঠনে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ‘বম্বে ক্লিপ ইন্ডাস্ট্রিজ বনাম টালিগঞ্জ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিজ একটি চ্যারিটি ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছিল।
বম্বে দলে দিলীপ কুমারের নেতৃত্বে খেলেন অমিতাভ বচ্চন, জিতেন্দ্র, বিনোদ খান্নারা, আর কলকাতার নেতা উত্তম কুমার সহ গোটা দল।
মহানায়কের জন্মশতবর্ষে এসে স্মৃতিচারণ করতে হচ্ছে সিনেমার পাশাপাশি তার ফেলে আসা অন্য কাহিনীগুলোর কথা।