২৫ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
২৫ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

সোনারপুরে রাস্তার কাজ আর যেন সমাপ্তই হচ্ছে না! দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের

নিজস্ব প্রতিনিধি : সোনারপুর উত্তর বিধানসভা এবং রাজপুর সোনারপুর পৌরসভার অর্ন্তগত, কামালগাজী থেকে সোনারপুরগামী অতি গুরুত্বপূর্ণ এই সাড়ে তিন কি.মি রাস্তাটির অবস্থা প্রায় দীর্ঘ দু’বছর যাবৎ খুবই শোচনীয়। রাস্তার কাজ আর যেন সমাপ্তই হচ্ছে না! বিভিন্ন অজুহাতে কাজ বন্ধ থাকে। এই রাস্তা সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকার প্রতিটা রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ! কোথাও অর্ধেক রাস্তায় ইট পাতা হয়েছে তো কোথাও কেবলই ড্রেনের মাটি কেটে ফেলে রাখা হয়েছে! বাসিন্দাদের অভিযোগের কোনো সীমা নেই, হাজারো অভিযোগ অথচ কোনো সুরাহা নেই।

এলাকার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ বন্ধ। ছোট ছোট বাচ্চাদের টিউশন পড়া বন্ধ। জলের কারণে গৃহবন্দী মানুষ কাজে বের হতে পারছেন না। এলাকার বিভিন্ন দোকানপাট-বাজার বন্ধ। যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক নয়। হাঁটুর উপর দিয়ে জল বইছে। দূর থেকে দেখে বোঝাই যাবে না এটা রাস্তা নাকি পুকুর!! অথচ এটা পৌরসভা এলাকা!!

এলাকার প্রায় প্রতিটি রাস্তা, এমনই জলের নীচে থাকে প্রতিটা বর্ষায়। রাস্তায় আর জল জমবে না, হাইড্রেন বসবে, রাস্তা ঝকঝকে চকচকে হবে– এই সমস্ত প্রতিশ্রুতিতেই প্রতিটা নির্বাচন পেরিয়ে যায় আর তারপরে যেমন ছিলো তেমনই থাকে!!

এলাকা বাসীর কথা “নির্বাচনের আগে দরজায় দরজায় ভোট ভিক্ষে চাইতে আসা নেতা-নেত্রীদের এখন একবারও দেখা নেই। এলাকাবাসীর এমন দুর্দশায় তাঁরা জলে নেমে জনতার খবর জানতে আসছেন না! যেন ধরিব মাছ অথচ ছুঁইবো না জল!! এমনই তাঁদের মতিগতি। আর যে’টুকু কাজ হয়েছে তাও খুবই হাস্যকর এবং সন্দেহজনক কারণ যে সমস্ত জলের-পাইপ বসানো হয়েছে তা পরিকল্পনা মাফিক নয়। একটা পাইপের সংযোগস্থলের সাথে আর একটা পাইপের সংযোগস্থলের মধ্যে সামঞ্জস্য নেই, এটা উপর দিয়ে দেখেই বোঝা যাচ্ছে”।

প্রতিদিনই কর্মব্যস্ত মানুষ, প্রাণ বাজি রেখে পথ চলাচল করছেন অথচ প্রশাসনের যেন তেমন কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই। উৎসবের মরশুমেও এই করুণ অবস্থার কোনো পরিবর্তন নেই। উৎসবের কয়েকদিন আগে থেকে তুমুল ব্যস্ততায় রাস্তা সারাইয়ের কাজ শুরু হয় এবং উৎসব পেরিয়ে গেলে কাজও থেমে যায়!

অটোর জন্য প্রায় ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করাটা এখন রোজকার রুটিনে পরিণত তবে প্রতিদিনই সন্ধ্যার পরে সেই অপেক্ষাটা বেড়ে প্রায় ১-২ ঘন্টায় দাঁড়ায়।
কামালগাজীর মোড়ে প্রতিদিনই সন্ধ্যার পরে প্রায় ৩০-৪০ জন যাত্রীর সুদীর্ঘ সর্পিল লাইন দেখতে পাবেনই…। অটোতে বসেও মনে শান্তি নেই, যেন এই বুঝি তিনচাকা উল্টে যায় যায় অবস্থা…!

সামান্য বৃষ্টিতেই সমগ্র রাস্তাটি যেন মৃত্যু উপত্যকা…। যে’দিন কোনো অ্যাকসিডেন্ট হচ্ছে, ক্ষিপ্ত এলাকাবাসী পথ-অবরোধ করছেন সে’দিন অথবা তার পরেরদিন দেখি রাস্তার ধারে জেসিবি, ইট ভাঙা/বেছানো চলছে, সারাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে আবার ক’টাদিন পরে থমকে গিয়েছে…! যেন সার্কাস চলছে…!!

গতকাল প্রায় সারারাত ব্যাপী বৃষ্টির ফলে পার্শ্ববর্তী পুরো এলাকা জলমগ্ন হয়ে যায় এবং লোকের বাড়ির মধ্যে জলও ঢুকে পড়ে। তার জেরে আজ বেলা ১টা নাগাদ পথ অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

চলাচল ব্যস্ত এই রাস্তাটিকে যথাসম্ভব দ্রুত তার পূর্বের মসৃণ অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের কাছে বিনম্র অনুরোধ জানায় স্থানীয় বাসিন্দারা, “দয়া করে বিষয়টির উপরে যথাযথ আলোকপাত করবেন”।

তারাতলায় বিপর্যয়, ভেঙে পড়লো বেসরকারি গুদামঘরের ছাদ

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

সোনারপুরে রাস্তার কাজ আর যেন সমাপ্তই হচ্ছে না! দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের

আপডেট : ১৫ অগাস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার

নিজস্ব প্রতিনিধি : সোনারপুর উত্তর বিধানসভা এবং রাজপুর সোনারপুর পৌরসভার অর্ন্তগত, কামালগাজী থেকে সোনারপুরগামী অতি গুরুত্বপূর্ণ এই সাড়ে তিন কি.মি রাস্তাটির অবস্থা প্রায় দীর্ঘ দু’বছর যাবৎ খুবই শোচনীয়। রাস্তার কাজ আর যেন সমাপ্তই হচ্ছে না! বিভিন্ন অজুহাতে কাজ বন্ধ থাকে। এই রাস্তা সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকার প্রতিটা রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ! কোথাও অর্ধেক রাস্তায় ইট পাতা হয়েছে তো কোথাও কেবলই ড্রেনের মাটি কেটে ফেলে রাখা হয়েছে! বাসিন্দাদের অভিযোগের কোনো সীমা নেই, হাজারো অভিযোগ অথচ কোনো সুরাহা নেই।

এলাকার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ বন্ধ। ছোট ছোট বাচ্চাদের টিউশন পড়া বন্ধ। জলের কারণে গৃহবন্দী মানুষ কাজে বের হতে পারছেন না। এলাকার বিভিন্ন দোকানপাট-বাজার বন্ধ। যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক নয়। হাঁটুর উপর দিয়ে জল বইছে। দূর থেকে দেখে বোঝাই যাবে না এটা রাস্তা নাকি পুকুর!! অথচ এটা পৌরসভা এলাকা!!

এলাকার প্রায় প্রতিটি রাস্তা, এমনই জলের নীচে থাকে প্রতিটা বর্ষায়। রাস্তায় আর জল জমবে না, হাইড্রেন বসবে, রাস্তা ঝকঝকে চকচকে হবে– এই সমস্ত প্রতিশ্রুতিতেই প্রতিটা নির্বাচন পেরিয়ে যায় আর তারপরে যেমন ছিলো তেমনই থাকে!!

এলাকা বাসীর কথা “নির্বাচনের আগে দরজায় দরজায় ভোট ভিক্ষে চাইতে আসা নেতা-নেত্রীদের এখন একবারও দেখা নেই। এলাকাবাসীর এমন দুর্দশায় তাঁরা জলে নেমে জনতার খবর জানতে আসছেন না! যেন ধরিব মাছ অথচ ছুঁইবো না জল!! এমনই তাঁদের মতিগতি। আর যে’টুকু কাজ হয়েছে তাও খুবই হাস্যকর এবং সন্দেহজনক কারণ যে সমস্ত জলের-পাইপ বসানো হয়েছে তা পরিকল্পনা মাফিক নয়। একটা পাইপের সংযোগস্থলের সাথে আর একটা পাইপের সংযোগস্থলের মধ্যে সামঞ্জস্য নেই, এটা উপর দিয়ে দেখেই বোঝা যাচ্ছে”।

প্রতিদিনই কর্মব্যস্ত মানুষ, প্রাণ বাজি রেখে পথ চলাচল করছেন অথচ প্রশাসনের যেন তেমন কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই। উৎসবের মরশুমেও এই করুণ অবস্থার কোনো পরিবর্তন নেই। উৎসবের কয়েকদিন আগে থেকে তুমুল ব্যস্ততায় রাস্তা সারাইয়ের কাজ শুরু হয় এবং উৎসব পেরিয়ে গেলে কাজও থেমে যায়!

অটোর জন্য প্রায় ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করাটা এখন রোজকার রুটিনে পরিণত তবে প্রতিদিনই সন্ধ্যার পরে সেই অপেক্ষাটা বেড়ে প্রায় ১-২ ঘন্টায় দাঁড়ায়।
কামালগাজীর মোড়ে প্রতিদিনই সন্ধ্যার পরে প্রায় ৩০-৪০ জন যাত্রীর সুদীর্ঘ সর্পিল লাইন দেখতে পাবেনই…। অটোতে বসেও মনে শান্তি নেই, যেন এই বুঝি তিনচাকা উল্টে যায় যায় অবস্থা…!

সামান্য বৃষ্টিতেই সমগ্র রাস্তাটি যেন মৃত্যু উপত্যকা…। যে’দিন কোনো অ্যাকসিডেন্ট হচ্ছে, ক্ষিপ্ত এলাকাবাসী পথ-অবরোধ করছেন সে’দিন অথবা তার পরেরদিন দেখি রাস্তার ধারে জেসিবি, ইট ভাঙা/বেছানো চলছে, সারাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে আবার ক’টাদিন পরে থমকে গিয়েছে…! যেন সার্কাস চলছে…!!

গতকাল প্রায় সারারাত ব্যাপী বৃষ্টির ফলে পার্শ্ববর্তী পুরো এলাকা জলমগ্ন হয়ে যায় এবং লোকের বাড়ির মধ্যে জলও ঢুকে পড়ে। তার জেরে আজ বেলা ১টা নাগাদ পথ অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

চলাচল ব্যস্ত এই রাস্তাটিকে যথাসম্ভব দ্রুত তার পূর্বের মসৃণ অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের কাছে বিনম্র অনুরোধ জানায় স্থানীয় বাসিন্দারা, “দয়া করে বিষয়টির উপরে যথাযথ আলোকপাত করবেন”।