২৯ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩
২৯ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

পঞ্জাবে বিষমদে খেয়ে মৃত বেড়ে ১০৪,দায় এড়াচ্ছে পাঞ্জাব সরকার

নতুন গতি নিউজ ডেস্ক: পঞ্জাবে বিষমদকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ১০৪। এখনও বিষমদ বিক্রেতাদের খোঁজে গোটা এলাকায় রেইড চলছে। বিষমদ তৈরির সামগ্রী, ৫৬০০ লিটার লাহান (মদ তৈরিতে ব্যবহৃত) ও বিষমদে ভরা ১২১২টি বোতন পাতিয়ালার বিভিন্ন গ্রাম থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

তরণ তারণের ডেপুটি কমিশনার কুলওয়ান্ত সিং জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ওই জেলাতেই ৭৫ জন বিষমদ খেয়ে মারা গিয়েছেন। চিকিত্‍‌সাধীন রয়েছেন ১২ জন। তবে তাঁদের অবস্থাও গুরুতর। তিনি বলেন, গ্রাউন্ড রিপোর্ট দেখে সংখ্যাটা ৭৫ বলা হচ্ছে। তবে অনেক পরিবারই প্রশাসনকে না-জানিয়েই দেহ জ্বালিয়ে দেওয়ায় সংখ্যাটা আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা। তিনি বলেন, ‘মাত্র ২৯ জনের কথা জানা গিয়েছে হাসপাতাল থেকে। প্রশাসন অন্য জায়গা থেকে বাকিদের খুঁজে বের করার পর সংখ্যাটা ৭৫ হয়েছে।’

এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বর্জার রেঞ্জের ইনস্পেক্টর জেনারেল এসপিএস পারমার জানিয়েছেন, অমৃতসর ও গুদাসপুর জেলা থেকেই ১২ জন করে লোকের মৃত্যু হয়েছে বিষমদে। তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পঞ্জাবে বিষমদে মৃত বেড়ে ৯৮, সিবিআই তদন্তের দাবিতে সরব কেজরিওয়াল

পাতিয়ালার রেইড অভিযান পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা এসএসপি বিক্রম জিত্‍‌ দুগ্গাল গত দু দিনে ১৩ জনেরও বেশি লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে। দায়ের করা হয়েছে ৩১টি মামলা। এ ছাড়াও চারটে অপারেটিং স্টিল, ৭,৪২০ লিটারেরও বেশি লাহান ও ১২১২ বোতল বিষমদ পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

বিষমদে মৃত্যুমিছিলের পাশাপাশি প্রশাসনের মাথাব্যথা বাড়িয়েছে নিহতদের পরিবারের অসহযোগিতাও। ডিসিপি কুলবন্ত সিংয়ের দাবি, অনেক পরিবারই বিষমদে মৃত্যুর খবর পুলিশ-প্রশাসনকে দিচ্ছেন না। অনেকে পরিবার আবার ময়নাতদন্তের জন্যেও এগিয়ে আসছে না। পুলিশ-প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখেই মৃতের শেষকৃত্য করছে। ফলে মৃত্যুর প্রকৃত ছবিটা বোঝা সম্ভব হচ্ছে না। শেষকৃত্যের ভিত্তিতে মৃতের সংখ্যা নির্ধারিত করতে হচ্ছে প্রশাসনকে। তাই বিষমদ খেয়ে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি বলেই মনে করছে পঞ্জাব প্রশাসন।

এই অবস্থায় কংগ্রেস শাসিত পঞ্জাব প্রশাসনের বিরুদ্ধে চাপ বাড়াতে শুরু করেছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল আম আদমি পার্টি। রবিবার বিষমদকাণ্ড দিয়ে পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। গোটা ঘটনায় সিবিআই তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি। ট্যুইটারে কেজরিল লেখেন, ‘

পঞ্জাবে বিষমদ খেয়ে মৃত্যুর ঘটনা দুঃখজনক। রাজ্য সরকারের উচিত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। এর আগের কোনও বিষমদকাণ্ডের তদন্ত শেষ করে উঠতে পারেনি স্থানীয় পুলিশ। তাই এই মামলাটি দ্রুত সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া উচিত।’ পাশাপাশি রাস্তায় নেমেও বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছে কেজরিওয়ালের দল আপ।

পিতা খুনে আসামি পুত্র কে ৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিল ডায়মন্ডহারবার আদালত 

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

পঞ্জাবে বিষমদে খেয়ে মৃত বেড়ে ১০৪,দায় এড়াচ্ছে পাঞ্জাব সরকার

আপডেট : ৫ অগাস্ট ২০২০, বুধবার

নতুন গতি নিউজ ডেস্ক: পঞ্জাবে বিষমদকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ১০৪। এখনও বিষমদ বিক্রেতাদের খোঁজে গোটা এলাকায় রেইড চলছে। বিষমদ তৈরির সামগ্রী, ৫৬০০ লিটার লাহান (মদ তৈরিতে ব্যবহৃত) ও বিষমদে ভরা ১২১২টি বোতন পাতিয়ালার বিভিন্ন গ্রাম থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

তরণ তারণের ডেপুটি কমিশনার কুলওয়ান্ত সিং জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ওই জেলাতেই ৭৫ জন বিষমদ খেয়ে মারা গিয়েছেন। চিকিত্‍‌সাধীন রয়েছেন ১২ জন। তবে তাঁদের অবস্থাও গুরুতর। তিনি বলেন, গ্রাউন্ড রিপোর্ট দেখে সংখ্যাটা ৭৫ বলা হচ্ছে। তবে অনেক পরিবারই প্রশাসনকে না-জানিয়েই দেহ জ্বালিয়ে দেওয়ায় সংখ্যাটা আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা। তিনি বলেন, ‘মাত্র ২৯ জনের কথা জানা গিয়েছে হাসপাতাল থেকে। প্রশাসন অন্য জায়গা থেকে বাকিদের খুঁজে বের করার পর সংখ্যাটা ৭৫ হয়েছে।’

এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বর্জার রেঞ্জের ইনস্পেক্টর জেনারেল এসপিএস পারমার জানিয়েছেন, অমৃতসর ও গুদাসপুর জেলা থেকেই ১২ জন করে লোকের মৃত্যু হয়েছে বিষমদে। তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পঞ্জাবে বিষমদে মৃত বেড়ে ৯৮, সিবিআই তদন্তের দাবিতে সরব কেজরিওয়াল

পাতিয়ালার রেইড অভিযান পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা এসএসপি বিক্রম জিত্‍‌ দুগ্গাল গত দু দিনে ১৩ জনেরও বেশি লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে। দায়ের করা হয়েছে ৩১টি মামলা। এ ছাড়াও চারটে অপারেটিং স্টিল, ৭,৪২০ লিটারেরও বেশি লাহান ও ১২১২ বোতল বিষমদ পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

বিষমদে মৃত্যুমিছিলের পাশাপাশি প্রশাসনের মাথাব্যথা বাড়িয়েছে নিহতদের পরিবারের অসহযোগিতাও। ডিসিপি কুলবন্ত সিংয়ের দাবি, অনেক পরিবারই বিষমদে মৃত্যুর খবর পুলিশ-প্রশাসনকে দিচ্ছেন না। অনেকে পরিবার আবার ময়নাতদন্তের জন্যেও এগিয়ে আসছে না। পুলিশ-প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখেই মৃতের শেষকৃত্য করছে। ফলে মৃত্যুর প্রকৃত ছবিটা বোঝা সম্ভব হচ্ছে না। শেষকৃত্যের ভিত্তিতে মৃতের সংখ্যা নির্ধারিত করতে হচ্ছে প্রশাসনকে। তাই বিষমদ খেয়ে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি বলেই মনে করছে পঞ্জাব প্রশাসন।

এই অবস্থায় কংগ্রেস শাসিত পঞ্জাব প্রশাসনের বিরুদ্ধে চাপ বাড়াতে শুরু করেছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল আম আদমি পার্টি। রবিবার বিষমদকাণ্ড দিয়ে পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। গোটা ঘটনায় সিবিআই তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি। ট্যুইটারে কেজরিল লেখেন, ‘

পঞ্জাবে বিষমদ খেয়ে মৃত্যুর ঘটনা দুঃখজনক। রাজ্য সরকারের উচিত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। এর আগের কোনও বিষমদকাণ্ডের তদন্ত শেষ করে উঠতে পারেনি স্থানীয় পুলিশ। তাই এই মামলাটি দ্রুত সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া উচিত।’ পাশাপাশি রাস্তায় নেমেও বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছে কেজরিওয়ালের দল আপ।