২৮ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩
২৮ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩

নির্বাক ২৫ শে বৈশাখ

সেখ আব্দুল মান্নান : আমার বসন্তগান তোমার বসন্তদিনে/ধ্বনিত হউক ক্ষণতরে—/ হৃদয়স্পন্দন তব, ভ্রমরগুঞ্জনে নব,/পল্লবমর্মরে/আজি হতে শতবর্ষ পরে’ কবি ‘১৪০০ সাল’ কবিতার শেষ পঙক্তিতে এমনই ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। আজ ২৫ শে বৈশাখের সকালে প্রকৃতির কোলে কবির সেই বাঞ্ছা কোথায় যেন অন্তরীণ। বসন্তদিনে প্রকৃতি আজ হারিয়েছে বসন্তবাহার। বসন্তগানের বিহনে সর্বত্র মুহ্যমান। থেমে গেছে কোকিলের তান। ভুলে গেছে ভ্রমরেরা গুনগুণ গান। মুক-বধির গাছেদের পল্লবরাজি। কবির জন্মদিনে চরাচরে যেন বিরাজমান রাশি রাশি বিষণ্ণতা । পাড়ায় পাড়ায়, ক্লাবে ক্লাবে কবির জন্মদিন উদযাপনের নেই কোন উদ্দামতা। কচি কাঁচাদের সমবেত তানে উচ্চারিবে না ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’। রবীন্দ্র অনুরাগীরা সভা সমিতিতে রবীন্দ্র ভাবাদর্শ আলোচনা করে সবাইকে ঋদ্ধ করা থেকেও বঞ্চিত। রবীন্দ্র অনুরাগে অনুরণিত হওয়ার হৃদস্পন্দনও যেন স্থবির। আজ এই বসন্তের মধুক্ষণ যেন বসন্তবিলাপে আচ্ছন্ন।কেমন করে করবে আজ কবিগুরুর জন্মদিনকে বরণ ! করোনার করাল গ্রাস যে কেড়ে নিয়েছে সবার হৃদয়ের রুপরস। সমগ্র হৃদয়জুড়ে কেবল মারণ ভাইরাসের ত্রাস। এই মহামারি ত্রাসকে তাড়াতেই বিশ্বমানবের আজ পৃথক পৃথক অবস্থান। সমবেতভাবে কবিকে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদনের নেই অবকাশ। কবি নিজেও শতবর্ষ আগে ( ইং ১৯১৮) এই বসন্তকালেই আক্রান্ত হয়েছিলেন অতিমারি ‘স্প্যানিশ ফ্লু’তে। যা সেদিন ‘যুদ্ধজ্বর’ হিসেবেও খ্যাতিলাভ করেছিল ওই ফ্লু। ওই জ্বর সেদিন কবির অনেক পরিজনকে কেড়ে নিলেও কাড়তে পারেনি আমাদের প্রিয় কবিকে। পারেনি বলেই কবি লিখে গেছেন অজস্র কাব্য, অজস্র গান, অজস্র গাথা। যা শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতিপ্রিয় বাঙ্গালির প্রেরণা। বেঁচে থাকার বৌদ্ধিক রসদ।কবি বোধহয় সেদিন কল্পনা করতে পারেননি পুনরায় আবার কোন মহামারিতে আক্রান্ত হবে পৃথিবী ! মানুষ নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে সরে যাবে দূরে। স্বামী স্ত্রী, মাতা পিতা, পুত্র কন্যা, প্রেমিক প্রেমিকা যেন কেউ কারো নয়। আলোকিত প্রকৃতি থেকে সবাই নিজেকে বন্দী করেবে বদ্ধঘরে। তাঁর জন্মদিন পালন করতে না পারার ব্যথায় কুঁকড়ে উঠবে তাদের মন।কবি, করোনার নামে আজ একি অস্পৃশ্যতা প্রতি ঘরে ঘরে ! আমরা তো চাইনি দূরে দূরে থেকে আজ স্মরণ করব তোমায়। তোমার জন্মদিনে আজ আমরা বড় অসহায়। সকালের সূর্য দেখ ম্লান। রশ্মি তার মেদুর। হয়ত অনিচ্ছা স্বত্বেও কেউ কেউ তোমাকে স্মরণ করবে ডিজিটালে। কিন্তু সেও তো বড় একান্তে, একলা। তবুও ভাগ্যিস ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ হয়ছিল আমাদের দেশ। নয়ত থাকত না আফসোসের শেষ। জানিনা আমরা কবে আবার মিলিত হবো একসাথে ! একসাথে কইব কথা। এক সাথে ভাগ করে নেব সুখ দুঃখ। একসাথে গাইব তোমার বসন্তগান। উদ্বেলিত হবে প্রাণ।

সিউড়িতে ধর্ষণ অভিযোগে বিজেপি নেতা গ্রেফতার, চাঞ্চল্য বীরভূমে

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

নির্বাক ২৫ শে বৈশাখ

আপডেট : ৯ মে ২০২০, শনিবার

সেখ আব্দুল মান্নান : আমার বসন্তগান তোমার বসন্তদিনে/ধ্বনিত হউক ক্ষণতরে—/ হৃদয়স্পন্দন তব, ভ্রমরগুঞ্জনে নব,/পল্লবমর্মরে/আজি হতে শতবর্ষ পরে’ কবি ‘১৪০০ সাল’ কবিতার শেষ পঙক্তিতে এমনই ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। আজ ২৫ শে বৈশাখের সকালে প্রকৃতির কোলে কবির সেই বাঞ্ছা কোথায় যেন অন্তরীণ। বসন্তদিনে প্রকৃতি আজ হারিয়েছে বসন্তবাহার। বসন্তগানের বিহনে সর্বত্র মুহ্যমান। থেমে গেছে কোকিলের তান। ভুলে গেছে ভ্রমরেরা গুনগুণ গান। মুক-বধির গাছেদের পল্লবরাজি। কবির জন্মদিনে চরাচরে যেন বিরাজমান রাশি রাশি বিষণ্ণতা । পাড়ায় পাড়ায়, ক্লাবে ক্লাবে কবির জন্মদিন উদযাপনের নেই কোন উদ্দামতা। কচি কাঁচাদের সমবেত তানে উচ্চারিবে না ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’। রবীন্দ্র অনুরাগীরা সভা সমিতিতে রবীন্দ্র ভাবাদর্শ আলোচনা করে সবাইকে ঋদ্ধ করা থেকেও বঞ্চিত। রবীন্দ্র অনুরাগে অনুরণিত হওয়ার হৃদস্পন্দনও যেন স্থবির। আজ এই বসন্তের মধুক্ষণ যেন বসন্তবিলাপে আচ্ছন্ন।কেমন করে করবে আজ কবিগুরুর জন্মদিনকে বরণ ! করোনার করাল গ্রাস যে কেড়ে নিয়েছে সবার হৃদয়ের রুপরস। সমগ্র হৃদয়জুড়ে কেবল মারণ ভাইরাসের ত্রাস। এই মহামারি ত্রাসকে তাড়াতেই বিশ্বমানবের আজ পৃথক পৃথক অবস্থান। সমবেতভাবে কবিকে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদনের নেই অবকাশ। কবি নিজেও শতবর্ষ আগে ( ইং ১৯১৮) এই বসন্তকালেই আক্রান্ত হয়েছিলেন অতিমারি ‘স্প্যানিশ ফ্লু’তে। যা সেদিন ‘যুদ্ধজ্বর’ হিসেবেও খ্যাতিলাভ করেছিল ওই ফ্লু। ওই জ্বর সেদিন কবির অনেক পরিজনকে কেড়ে নিলেও কাড়তে পারেনি আমাদের প্রিয় কবিকে। পারেনি বলেই কবি লিখে গেছেন অজস্র কাব্য, অজস্র গান, অজস্র গাথা। যা শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতিপ্রিয় বাঙ্গালির প্রেরণা। বেঁচে থাকার বৌদ্ধিক রসদ।কবি বোধহয় সেদিন কল্পনা করতে পারেননি পুনরায় আবার কোন মহামারিতে আক্রান্ত হবে পৃথিবী ! মানুষ নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে সরে যাবে দূরে। স্বামী স্ত্রী, মাতা পিতা, পুত্র কন্যা, প্রেমিক প্রেমিকা যেন কেউ কারো নয়। আলোকিত প্রকৃতি থেকে সবাই নিজেকে বন্দী করেবে বদ্ধঘরে। তাঁর জন্মদিন পালন করতে না পারার ব্যথায় কুঁকড়ে উঠবে তাদের মন।কবি, করোনার নামে আজ একি অস্পৃশ্যতা প্রতি ঘরে ঘরে ! আমরা তো চাইনি দূরে দূরে থেকে আজ স্মরণ করব তোমায়। তোমার জন্মদিনে আজ আমরা বড় অসহায়। সকালের সূর্য দেখ ম্লান। রশ্মি তার মেদুর। হয়ত অনিচ্ছা স্বত্বেও কেউ কেউ তোমাকে স্মরণ করবে ডিজিটালে। কিন্তু সেও তো বড় একান্তে, একলা। তবুও ভাগ্যিস ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ হয়ছিল আমাদের দেশ। নয়ত থাকত না আফসোসের শেষ। জানিনা আমরা কবে আবার মিলিত হবো একসাথে ! একসাথে কইব কথা। এক সাথে ভাগ করে নেব সুখ দুঃখ। একসাথে গাইব তোমার বসন্তগান। উদ্বেলিত হবে প্রাণ।