১৬ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
১৬ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

দুবরাজপুর থানায় যুবকের রহস্যমৃত্যু, উত্তেজনা-বিক্ষোভ 

 

খান আরশাদ, নতুন গতি, বীরভূম :

বীরভূমের দুবরাজপুরে এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল। মৃতের নাম বরজাহান শাহ (৩৫)। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের মারধরেই তার মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে পুলিশের দাবি, চোর সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হয়েছিলেন ওই যুবক।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রাতে, দুবরাজপুর থানার যশপুর পঞ্চায়েতের পছিয়াড়া গ্রামে। মৃতের ছেলে ইসমাইল, জানায় সিসি ক্যামেরায় সে দেখেছে পুলিশ তার বাবাকে মারছে। এটা শুধু সে একা না, গ্রামের অনেক লোক দেখেছে। তার বাবা পাশের পাড়ায় মদ খেতে গিয়েছিল, ওই পাড়ার লোকেরা তাকে চোর ভেবে ধরে পুলিশের হাতে দেয়। মৃতের স্ত্রী তাজমিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন পুলিশের মারধরেই স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। স্বামী পার্শ্ববর্তী পাড়ায় গিয়েছিলেন। সেখানে স্থানীয়রা তাকে চোর সন্দেহে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

অভিযোগ, এরপর থানায় নিয়ে গিয়ে পুলিশই তাকে বেধড়ক মারধর করে তাঁর আরও অভিযোগ, মৃত্যুর পর পুলিশ ঘটনাটি জনতার মারধর বলে চালানোর চেষ্টা করছে এবং জোর করে মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দিতে দেয়। পরিবারের লোকজন তাঁকে দুবরাজপুর মানসায়ের হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষী পুলিশ কর্মীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে পরিবার।পরিবারের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বোলপুর) অভিষেক রায় জানান, “ওই ব্যক্তি যশপুর গ্রামে একটি বাড়িতে ঢুকেছিল। কী কারণে ঢুকেছিল তা তদন্তের বিষয়। তবে ওঁকে চোর সন্দেহে গণপিটুনি দেওয়া হয়। পুলিশ উদ্ধার করে।” তিনি আরও জানান, ওই যুবকের বিরুদ্ধে নেশা করা ও ছোটখাটো কিছু অপরাধ করার অভিযোগ আগেও ছিল। বাকি যা অভিযোগ উঠেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বরজাহানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বৃহস্পতিবার রাত থেকেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। মৃতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা দুবরাজপুর থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

অপরদিকে মৃতের সম্পর্কিত শ্বশুর মোবারক খান দুবরাজপুর থানায় ছয় জনের নামে লিখিত অভিযোগ করে জানান, ওই ছয় জন ব্যক্তি চোর সন্দেহে বরজাহান শাহকে বেধড়ক মারধর করে।

গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, যদি সত্যিই চুরির ঘটনা হয়ে থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল, গণপিটুনি বা হেফাজতে মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।

 

দুবরাজপুর থানায় যুবকের রহস্যমৃত্যু, উত্তেজনা-বিক্ষোভ 

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

দুবরাজপুর থানায় যুবকের রহস্যমৃত্যু, উত্তেজনা-বিক্ষোভ 

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার

 

খান আরশাদ, নতুন গতি, বীরভূম :

বীরভূমের দুবরাজপুরে এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল। মৃতের নাম বরজাহান শাহ (৩৫)। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের মারধরেই তার মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে পুলিশের দাবি, চোর সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হয়েছিলেন ওই যুবক।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রাতে, দুবরাজপুর থানার যশপুর পঞ্চায়েতের পছিয়াড়া গ্রামে। মৃতের ছেলে ইসমাইল, জানায় সিসি ক্যামেরায় সে দেখেছে পুলিশ তার বাবাকে মারছে। এটা শুধু সে একা না, গ্রামের অনেক লোক দেখেছে। তার বাবা পাশের পাড়ায় মদ খেতে গিয়েছিল, ওই পাড়ার লোকেরা তাকে চোর ভেবে ধরে পুলিশের হাতে দেয়। মৃতের স্ত্রী তাজমিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন পুলিশের মারধরেই স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। স্বামী পার্শ্ববর্তী পাড়ায় গিয়েছিলেন। সেখানে স্থানীয়রা তাকে চোর সন্দেহে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

অভিযোগ, এরপর থানায় নিয়ে গিয়ে পুলিশই তাকে বেধড়ক মারধর করে তাঁর আরও অভিযোগ, মৃত্যুর পর পুলিশ ঘটনাটি জনতার মারধর বলে চালানোর চেষ্টা করছে এবং জোর করে মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দিতে দেয়। পরিবারের লোকজন তাঁকে দুবরাজপুর মানসায়ের হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষী পুলিশ কর্মীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে পরিবার।পরিবারের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বোলপুর) অভিষেক রায় জানান, “ওই ব্যক্তি যশপুর গ্রামে একটি বাড়িতে ঢুকেছিল। কী কারণে ঢুকেছিল তা তদন্তের বিষয়। তবে ওঁকে চোর সন্দেহে গণপিটুনি দেওয়া হয়। পুলিশ উদ্ধার করে।” তিনি আরও জানান, ওই যুবকের বিরুদ্ধে নেশা করা ও ছোটখাটো কিছু অপরাধ করার অভিযোগ আগেও ছিল। বাকি যা অভিযোগ উঠেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বরজাহানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বৃহস্পতিবার রাত থেকেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। মৃতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা দুবরাজপুর থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

অপরদিকে মৃতের সম্পর্কিত শ্বশুর মোবারক খান দুবরাজপুর থানায় ছয় জনের নামে লিখিত অভিযোগ করে জানান, ওই ছয় জন ব্যক্তি চোর সন্দেহে বরজাহান শাহকে বেধড়ক মারধর করে।

গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, যদি সত্যিই চুরির ঘটনা হয়ে থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল, গণপিটুনি বা হেফাজতে মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।