বিশেশ্বর রায়, ময়নাগুড়ি: ময়নাগুড়ির উল্লাডাবরি এলাকায় সাম্প্রতিক মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ভাঙারহাটের যুবক সজল সরকারের বাড়িতে শুক্রবার পৌঁছালেন ময়নাগুড়ির বিধায়ক ডালিমচন্দ্র রায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী বিকাশ রায়। শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁরা গভীর সমবেদনা জানান এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সজল সরকার ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী। সংসারের আর্থিক দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে প্রায় পাঁচ বছর আগে কর্মসূত্রে শিলিগুড়িতে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। বাবা-মা, ভাই-বোনের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়েই কঠোর পরিশ্রম করছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন মুহূর্তের মধ্যেই ভেঙে যায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়।
গত রবিবার ছুটির দিনে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে শিলিগুড়ি থেকে কোচবিহারগামী একটি সরকারি বাসে বাড়ি ফিরছিলেন সজল। পথে ময়নাগুড়ির উল্লাডাবরি এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেলারের সঙ্গে বাসটির ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন তিনি। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে মৃত্যু হয় তাঁর।
শুক্রবার নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন বিধায়ক ডালিমচন্দ্র রায়। পরিবারের শোক ভাগ করে নিয়ে তিনি তাঁদের সাহস জোগান এবং প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগতভাবে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। সমাজসেবী বিকাশ রায়ও পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে প্রয়োজনে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।
একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে আজ দিশেহারা সজল সরকারের পরিবার। ঘরের প্রতিটি কোণজুড়ে এখন শুধুই শোক আর নীরবতা। এলাকার মানুষও এই অকাল মৃত্যুর ঘটনায় স্তব্ধ। বিধায়কের এই সফর শোকাহত পরিবারের পাশে সমাজের সহমর্মিতার এক মানবিক বার্তা বহন করেছে।
নতুন গতি 

















