নাজমুল সর্দার, দক্ষিণ দিনাজপুর: কুমারগঞ্জ ব্লকের সাফানগর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত আমুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ৭০ বছরের শিতা অধিকারীর জীবন আজ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটছে। বার্ধক্যের ভারে নুয়ে পড়া শরীর, চলাফেরা করতেও কষ্ট হয়। অথচ এই বয়সেও তিনি এখনও সরকারি বয়স্ক ভাতার সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শিতা অধিকারী। তাঁর কণ্ঠে ধরা পড়ে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার যন্ত্রণা। তিনি বলেন, “আমার খোঁজ নেবে কে? আমার তো কেউ নেই। শুধু বয়স্ক ভাতাটা পেলে অন্তত দুবেলা খেয়ে বাঁচতে পারব।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বহু বছর আগেই তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। একমাত্র মেয়েও আর বেঁচে নেই। বর্তমানে আপন বলতে কেউ নেই তাঁর। গ্রামের একটি জরাজীর্ণ বাড়িতে একাই বসবাস করেন তিনি। নিয়মিত কোনো আয়ের উৎস না থাকায় প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করাই তাঁর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কখনও প্রতিবেশীদের সাহায্যে, আবার কখনও অভুক্ত অবস্থায় দিন কাটাতে হয় বলে জানান বৃদ্ধা।
অভিযোগ, বয়স্ক ভাতার জন্য একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো সরকারি সহায়তা পাননি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাঁর একমাত্র প্রত্যাশা, সরকারি এই সামান্য আর্থিক সহায়তা পেলে অন্তত ন্যূনতমভাবে জীবনযাপন করতে পারবেন।
প্রণব অধিকারী, বাপ্পা সরকার সহ গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ, শিতা অধিকারীর মতো একজন অসহায় ও প্রকৃত যোগ্য প্রবীণ নাগরিকের এখনও বয়স্ক ভাতা না পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে তিনি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পান।
স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রশাসনের কাছে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিষয়টি বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, একজন অসহায় বৃদ্ধার শেষ জীবনে ন্যূনতম সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।
এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দপ্তর শিতা অধিকারীর আবেদন কত দ্রুত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে তাঁকে বয়স্ক ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়। দীর্ঘদিনের এই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শেষ জীবনে সামান্য হলেও স্বস্তি ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশায় দিন গুনছেন অসহায় এই বৃদ্ধা।
নতুন গতি 

















