১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সোমবার, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সোমবার, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

বাঘ স্বামীকে কেড়ে নিলেও থামেনি জীবন

হাসান লস্কর, কুলতলী, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সুন্দরবন মানেই নদী-খাঁড়ি, ম্যানগ্রোভ অরণ্য ও রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের অপরূপ সহাবস্থান। কিন্তু এই অরণ্যই বহু পরিবারের কাছে জীবিকার প্রধান ভরসা। মাছ, কাঁকড়া ও মধু সংগ্রহ করতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জঙ্গলে পাড়ি দেন বহু মানুষ। বাঘের হামলায় স্বামীকে হারিয়েও সেই লড়াই থেকে পিছিয়ে যাননি সুন্দরবনের বহু নারী।
স্বামীকে হারানোর পর সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে সন্তানদের মুখে অন্ন জোগাতে তাঁদের অনেককেই ফের নদী-খাঁড়ি ও জঙ্গলের পথে নামতে হয়। কারও হাতে মাছ ধরার জাল, কারও ঝুড়িতে কাঁকড়া, কেউ বা মধু সংগ্রহের কাজে যুক্ত। সামনে থাকে বাঘের আতঙ্ক, জোয়ার-ভাটা, উত্তাল নদী, কাদামাটি এবং অনিশ্চিত উপার্জন। তবুও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে থেমে থাকেন না তাঁরা।
সামনেই দুর্গাপূজা। শহর-গ্রামে যখন উৎসবের প্রস্তুতি তুঙ্গে, তখন সুন্দরবনের এই ‘দুর্গাদের’ কাছে বড় চাওয়া—সন্তানদের দু’বেলা খাবার ও সামান্য নতুন পোশাক। তাঁদের কাছে উৎসবের আনন্দও সন্তানদের মুখের হাসিতে।
তবে এই নারীদের জীবনে বদল আনতে প্রয়োজন বিকল্প কর্মসংস্থান, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সুযোগ, সামাজিক সুরক্ষা এবং সন্তানদের শিক্ষার নিশ্চয়তা। বাঘ স্বামীকে কেড়ে নিয়েছে, কিন্তু মাতৃত্ব ও বেঁচে থাকার অদম্য লড়াইকে কেড়ে নিতে পারেনি। দুর্গাপূজায় তাই প্রতিমার পাশাপাশি সুন্দরবনের এই সংগ্রামী ‘দুর্গাদের’ কথাও মনে রাখা জরুরি।

ফের উত্তপ্ত বীরভূমের পাঁড়ুই এলাকায়

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বাঘ স্বামীকে কেড়ে নিলেও থামেনি জীবন

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সোমবার
হাসান লস্কর, কুলতলী, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সুন্দরবন মানেই নদী-খাঁড়ি, ম্যানগ্রোভ অরণ্য ও রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের অপরূপ সহাবস্থান। কিন্তু এই অরণ্যই বহু পরিবারের কাছে জীবিকার প্রধান ভরসা। মাছ, কাঁকড়া ও মধু সংগ্রহ করতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জঙ্গলে পাড়ি দেন বহু মানুষ। বাঘের হামলায় স্বামীকে হারিয়েও সেই লড়াই থেকে পিছিয়ে যাননি সুন্দরবনের বহু নারী।
স্বামীকে হারানোর পর সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে সন্তানদের মুখে অন্ন জোগাতে তাঁদের অনেককেই ফের নদী-খাঁড়ি ও জঙ্গলের পথে নামতে হয়। কারও হাতে মাছ ধরার জাল, কারও ঝুড়িতে কাঁকড়া, কেউ বা মধু সংগ্রহের কাজে যুক্ত। সামনে থাকে বাঘের আতঙ্ক, জোয়ার-ভাটা, উত্তাল নদী, কাদামাটি এবং অনিশ্চিত উপার্জন। তবুও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে থেমে থাকেন না তাঁরা।
সামনেই দুর্গাপূজা। শহর-গ্রামে যখন উৎসবের প্রস্তুতি তুঙ্গে, তখন সুন্দরবনের এই ‘দুর্গাদের’ কাছে বড় চাওয়া—সন্তানদের দু’বেলা খাবার ও সামান্য নতুন পোশাক। তাঁদের কাছে উৎসবের আনন্দও সন্তানদের মুখের হাসিতে।
তবে এই নারীদের জীবনে বদল আনতে প্রয়োজন বিকল্প কর্মসংস্থান, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সুযোগ, সামাজিক সুরক্ষা এবং সন্তানদের শিক্ষার নিশ্চয়তা। বাঘ স্বামীকে কেড়ে নিয়েছে, কিন্তু মাতৃত্ব ও বেঁচে থাকার অদম্য লড়াইকে কেড়ে নিতে পারেনি। দুর্গাপূজায় তাই প্রতিমার পাশাপাশি সুন্দরবনের এই সংগ্রামী ‘দুর্গাদের’ কথাও মনে রাখা জরুরি।