২৩ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
২৩ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

জিওকে সংযোগ না দেওয়ায় ৩০৫০ কোটি টাকা জরিমানা ভারতী এয়ারটেল ও ভোডাফোন আইডিয়া-কে

 নতুন গতি নিউজ ডেস্ক: রিলায়েন্স জিও-কে পয়েন্ট অফ ইন্টারকানেকশন (পিওআই) না দেওয়ায় ভারতী এয়ারটেল ও ভোডাফোন আইডিয়া-কে আর্থিক জরিমানা দিতে হবে। ডিজিটাল কমিউনিকেশনস কমিশন (ডিসিসি) সোমবার আর্থিক জরিমানা করার বিষয়টি অনুমোদন করেছে। তবে জরিমানা কার্যকর করার আগে ট্রাই যে ৩,০৫০ কোটি টাকার জরিমানা করার সুপারিশ করেছে, তা পুনর্বিবেচনার বিষয়ে টেলিকম নিয়ামক সংস্থার মত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

পাশাপাশি, রিলায়েন্স জিও গ্রাহকদের গুণগত পরিষেবা দিতে ব্যর্থ হয়েছে অভিযোগ তুলে একজন সচিব মুকেশ আম্বানির টেলিকম সংস্থাকে জরিমানা করার যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তাতে ভিন্নমত পোষণ করেছে ডিসিসি।

ট্রাই ২০১৬-র অক্টোবরে তখনকার তিন অপারেটর সংস্থা এয়ারটেল, ভোডাফোন ও আইডিয়া (বর্তমানে ভোডাফোন আইডিয়া)-কে ৩,০৫০ কোটি টাকার আর্থিক জরিমানা করার সুপারিশ করেছিল। রিলায়েন্স জিও-কে ইন্টারকানেক্টিভিটি দিতে ওই দুই সংস্থা অস্বীকার করাতেই ট্রাই জরিমানা করার সুপারিশ করে। এয়ারটেল ও ভোডাফোন-কে যথাক্রমে ১,০৫০ কোটি টাকা করে ও আইডিয়া-র বিরুদ্ধে ৯৫০ কোটি টাকা জরিমানা সুপারিশ করে ট্রাই। এখন যেহেতু ভোডাফোন ও আইডিয়া পরস্পরের সঙ্গে মিশে গিয়েছে, তাই সংযুক্ত সংস্থা ভোডাফোন আইডিয়া ওই দুই সংস্থার জরিমানার অর্থ ব্যয় বহন করবে। তবে অভিযুক্ত সংস্থাগুলির টেলিকম লাইসেন্স বাতিল করার সুপারিশ করেনি নিয়ামক সংস্থা।

ট্রাইয়ের কাছে জিও-র অভিযোগ ছিল, তাদের ৭৫ শতাংশের বেশি কল ব্যর্থ হচ্ছে ওই তিন অপারেটর সংস্থা যথেষ্ট সংখ্যায় পিওআই না দেওয়ায়। তিন বছর আগে ২০১৬ সালে বাণিজ্যিক টেলিকম পরিষেবা শুরু করে মুকেশ আম্বানির সংস্থা রিলায়েন্স জিও। তাদের আনলিমিটেড কল, এসএমএস ও প্রতিদিন ১ জিবি ডেটা সহ নানা ফ্রিবিস-এর ঠেলায় নাভিশ্বাস ওঠে ওই সময়কার গ্রাহক সংখ্যার বিচারে দেশের প্রথম তিন টেলিকম সংস্থা— এয়ারটেল, ভোডাফোন ও আইডিয়া-র। অত্যন্ত দ্রুত হারে তাদের গ্রাহক ক্ষরণ হতে থাকে। ট্রাইয়ের কাছে জিও যে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিল, তাতে তারা জানিয়েছিল, এয়ারটেল, ভোডাফোন ও আইডিয়া পর্যাপ্ত সংখ্যায় পিওআই না দেওয়ায় জিও গ্রাহকদের ওই তিন সংস্থার নেটওয়ার্কে করা বেশিরভাগ কল ব্যর্থ হচ্ছে। কোনও অপারেটর সংস্থার নেটওয়ার্ক থেকে অন্য কারও নেটওয়ার্কে কল হলে দ্বিতীয় অপারেটরকে তা কানেক্ট করার জন্য পিওআই দিতে হয়। অন্য দিকে, এয়ারটেল, ভোডাফোন ও আইডিয়া-র বক্তব্য ছিল, জিও-র নেটওয়ার্ক থেকে তাদের নেটওয়ার্কে বিপুল সংখ্যক কল যাওয়ায় যে জট সৃষ্টি হচ্ছে, সেই কারণে তাদের নেটওয়ার্ক বসে যাচ্ছে।

সর্বাধিক পাঠিত

বীরভূমে ৭ লক্ষ টাকার জাল লটারির টিকিট উদ্ধার, গ্রেফতার ১

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

জিওকে সংযোগ না দেওয়ায় ৩০৫০ কোটি টাকা জরিমানা ভারতী এয়ারটেল ও ভোডাফোন আইডিয়া-কে

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার

 নতুন গতি নিউজ ডেস্ক: রিলায়েন্স জিও-কে পয়েন্ট অফ ইন্টারকানেকশন (পিওআই) না দেওয়ায় ভারতী এয়ারটেল ও ভোডাফোন আইডিয়া-কে আর্থিক জরিমানা দিতে হবে। ডিজিটাল কমিউনিকেশনস কমিশন (ডিসিসি) সোমবার আর্থিক জরিমানা করার বিষয়টি অনুমোদন করেছে। তবে জরিমানা কার্যকর করার আগে ট্রাই যে ৩,০৫০ কোটি টাকার জরিমানা করার সুপারিশ করেছে, তা পুনর্বিবেচনার বিষয়ে টেলিকম নিয়ামক সংস্থার মত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

পাশাপাশি, রিলায়েন্স জিও গ্রাহকদের গুণগত পরিষেবা দিতে ব্যর্থ হয়েছে অভিযোগ তুলে একজন সচিব মুকেশ আম্বানির টেলিকম সংস্থাকে জরিমানা করার যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তাতে ভিন্নমত পোষণ করেছে ডিসিসি।

ট্রাই ২০১৬-র অক্টোবরে তখনকার তিন অপারেটর সংস্থা এয়ারটেল, ভোডাফোন ও আইডিয়া (বর্তমানে ভোডাফোন আইডিয়া)-কে ৩,০৫০ কোটি টাকার আর্থিক জরিমানা করার সুপারিশ করেছিল। রিলায়েন্স জিও-কে ইন্টারকানেক্টিভিটি দিতে ওই দুই সংস্থা অস্বীকার করাতেই ট্রাই জরিমানা করার সুপারিশ করে। এয়ারটেল ও ভোডাফোন-কে যথাক্রমে ১,০৫০ কোটি টাকা করে ও আইডিয়া-র বিরুদ্ধে ৯৫০ কোটি টাকা জরিমানা সুপারিশ করে ট্রাই। এখন যেহেতু ভোডাফোন ও আইডিয়া পরস্পরের সঙ্গে মিশে গিয়েছে, তাই সংযুক্ত সংস্থা ভোডাফোন আইডিয়া ওই দুই সংস্থার জরিমানার অর্থ ব্যয় বহন করবে। তবে অভিযুক্ত সংস্থাগুলির টেলিকম লাইসেন্স বাতিল করার সুপারিশ করেনি নিয়ামক সংস্থা।

ট্রাইয়ের কাছে জিও-র অভিযোগ ছিল, তাদের ৭৫ শতাংশের বেশি কল ব্যর্থ হচ্ছে ওই তিন অপারেটর সংস্থা যথেষ্ট সংখ্যায় পিওআই না দেওয়ায়। তিন বছর আগে ২০১৬ সালে বাণিজ্যিক টেলিকম পরিষেবা শুরু করে মুকেশ আম্বানির সংস্থা রিলায়েন্স জিও। তাদের আনলিমিটেড কল, এসএমএস ও প্রতিদিন ১ জিবি ডেটা সহ নানা ফ্রিবিস-এর ঠেলায় নাভিশ্বাস ওঠে ওই সময়কার গ্রাহক সংখ্যার বিচারে দেশের প্রথম তিন টেলিকম সংস্থা— এয়ারটেল, ভোডাফোন ও আইডিয়া-র। অত্যন্ত দ্রুত হারে তাদের গ্রাহক ক্ষরণ হতে থাকে। ট্রাইয়ের কাছে জিও যে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিল, তাতে তারা জানিয়েছিল, এয়ারটেল, ভোডাফোন ও আইডিয়া পর্যাপ্ত সংখ্যায় পিওআই না দেওয়ায় জিও গ্রাহকদের ওই তিন সংস্থার নেটওয়ার্কে করা বেশিরভাগ কল ব্যর্থ হচ্ছে। কোনও অপারেটর সংস্থার নেটওয়ার্ক থেকে অন্য কারও নেটওয়ার্কে কল হলে দ্বিতীয় অপারেটরকে তা কানেক্ট করার জন্য পিওআই দিতে হয়। অন্য দিকে, এয়ারটেল, ভোডাফোন ও আইডিয়া-র বক্তব্য ছিল, জিও-র নেটওয়ার্ক থেকে তাদের নেটওয়ার্কে বিপুল সংখ্যক কল যাওয়ায় যে জট সৃষ্টি হচ্ছে, সেই কারণে তাদের নেটওয়ার্ক বসে যাচ্ছে।