০৪ জুলাই ২০২৬, শনিবার, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
০৪ জুলাই ২০২৬, শনিবার, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩

বিপুল বিনিয়োগেও বিশ্বকাপে ব্যর্থ উপসাগরীয় দেশগুলো

শান্তি রায়চৌধুরী: বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকে বাদ পড়েছে সৌদি আরব ও কাতার। উপসাগরীয় এই দুটি দেশের ফুটবল ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের পরও কাঙিক্ষত সাফল্য দেখা পেল না বিশ্বকাপে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে কেবল প্রচুর অর্থ থাকলেই সাফল্যের নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না।

সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, নেইমার ও করিম বেনজেমা ছাড়া আরো অনেক বিশ্বসেরা ফুটবল তারকাদের দলে ভেড়ানোর বিশাল এক উদ্যোগের মাধ্যমে সৌদি আরব ক্লাব ফুটবলের দৃশ্যপট ওলটপালট করে দিয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে—বিশেষ করে ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের আগে—তাদের এখনও অনেকটা পথ পাড়ি দেওয়া বাকি।

চার বছর আগে আয়োজক দেশ হিসেবে অংশ নেওয়া কাতারও মাত্র তিনটি ম্যাচ খেলেই বিদায় নিয়েছে। একই পরিণতি হয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দুই দেশ ইরান ও ইরাকেরও। এই বিশ্বকাপে আফ্রিকান দলগুলোর ১০টির মধ্যে ৯টি দল নকআউট নিশ্চিত করেছে। এর বিপরীতে উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের ছাপ রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।

২০৩৪ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব পাওয়ার পর সৌদি আরবের ক্ষেত্রেও এখন মূল মনোযোগ ভবিষ্যতের ওপরই নিবদ্ধ। বিশ্বজুড়ে খেলাধুলার জগতে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে তারা কাজ করে যাচ্ছে—যার মধ্যে রয়েছে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব নিউক্যাসল কেনা, ‘লিভ গলফ’ চালু করা এবং বিশ্বমানের বক্সিং ও ফর্মুলা ১-এর মতো ইভেন্ট আয়োজন করা। _তেলের_ ওপর অত্যধিক নির্ভরতা কমিয়ে আয়ের নতুন উৎস খোঁজার প্রচেষ্টা তারা চালাচ্ছে, তাতে বিশ্বকাপ আয়োজন হতে পারে তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

তারা চায় ঘরের মাঠে আয়োজিত টুর্নামেন্টে তাদের জাতীয় দল যেন নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দেয়। রোনালদোর মতো সুপারস্টারদের দলে ভেড়ানোর ফলে যেমন তাদের লিগের পরিচিতি বেড়েছে। তেমনি আশা করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে খেলার মানও উন্নত হবে।

অথচ চার বছর আগে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হওয়া আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম বড় অঘটন ঘটানোর পর, এবার তাদের পারফরম্যান্সে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত দেখা যায়নি—বরং টানা ষষ্ঠবারের মতো তারা গ্রুপ পর্ব পার হতে ব্যর্থ হয়েছে।

সৌদি কোচ জর্জিওস দানিস বলেছেন, আরব লিগে যখন এমন সব তারকা খেলোয়াড় খেলেন, তখন প্রতিযোগিতা যত তীব্র হয়, আমাদের খেলোয়াড়রাও ততটাই ভালো হয়ে ওঠেন। তবে জাতীয় দলের হয়ে খেলার বিষয়টি ভিন্ন, কারণ জাতীয় দলে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর জন্য বিশেষ এক মানসিকতার প্রয়োজন হয়।

এখন বিদেশি তারকা খেলোয়াড়দের দলে ভেড়ানোর হার কমেছে এবং নেইমারের মতো আরও বড় বড় নাম ইতোমধ্যে চলে গেছে। সৌদি আরবে প্রতিভা বিকাশের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইউএস সকারের স্পোর্টিং ডিরেক্টর ম্যাট ক্রকারকে নিয়ে আসা হয়েছে এবং গত তিন বছরে যুব পর্যায়ে বিনিয়োগ দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিপুল অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে সৌদি আরব ও কাতার যেখানে ক্রীড়াজগতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, সেখানে ইরান ১৯৭৮ সাল থেকেই বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের জেরে প্রস্তুতি ও যাতায়াত সংক্রান্ত নানা জটিলতার মোকাবিলা
করতে হয়েছে তাদের। এরপরও তিনটি ম্যাচ ড্র করার সুবাদে ‘সেরা তৃতীয় দল’ হিসেবে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। বিশ্বকাপে সাতবার অংশ নিলেও তারা কখনোই গ্রুপ পর্বের গণ্ডি পেরোতে পারেনি।

৪০ বছরের ব্যবধানে দুবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ইরাকের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। ৪৮ দলের বিশাল পরিসরের বিশ্বকাপে যখন কেপ ভার্দে বা কঙ্গোর মতো দেশগুলোর ইতিহাস গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তখন উপসাগরীয় দেশগুলো এখনও তাদের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় রয়েছে।

কোন কারণে কমিশন ঋতব্রতদের সঙ্গে আলোচনায় বসলেন? প্রশ্ন তুলেছেন সৌগত

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বিপুল বিনিয়োগেও বিশ্বকাপে ব্যর্থ উপসাগরীয় দেশগুলো

আপডেট : ৩ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার

শান্তি রায়চৌধুরী: বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকে বাদ পড়েছে সৌদি আরব ও কাতার। উপসাগরীয় এই দুটি দেশের ফুটবল ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের পরও কাঙিক্ষত সাফল্য দেখা পেল না বিশ্বকাপে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে কেবল প্রচুর অর্থ থাকলেই সাফল্যের নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না।

সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, নেইমার ও করিম বেনজেমা ছাড়া আরো অনেক বিশ্বসেরা ফুটবল তারকাদের দলে ভেড়ানোর বিশাল এক উদ্যোগের মাধ্যমে সৌদি আরব ক্লাব ফুটবলের দৃশ্যপট ওলটপালট করে দিয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে—বিশেষ করে ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের আগে—তাদের এখনও অনেকটা পথ পাড়ি দেওয়া বাকি।

চার বছর আগে আয়োজক দেশ হিসেবে অংশ নেওয়া কাতারও মাত্র তিনটি ম্যাচ খেলেই বিদায় নিয়েছে। একই পরিণতি হয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দুই দেশ ইরান ও ইরাকেরও। এই বিশ্বকাপে আফ্রিকান দলগুলোর ১০টির মধ্যে ৯টি দল নকআউট নিশ্চিত করেছে। এর বিপরীতে উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের ছাপ রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।

২০৩৪ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব পাওয়ার পর সৌদি আরবের ক্ষেত্রেও এখন মূল মনোযোগ ভবিষ্যতের ওপরই নিবদ্ধ। বিশ্বজুড়ে খেলাধুলার জগতে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে তারা কাজ করে যাচ্ছে—যার মধ্যে রয়েছে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব নিউক্যাসল কেনা, ‘লিভ গলফ’ চালু করা এবং বিশ্বমানের বক্সিং ও ফর্মুলা ১-এর মতো ইভেন্ট আয়োজন করা। _তেলের_ ওপর অত্যধিক নির্ভরতা কমিয়ে আয়ের নতুন উৎস খোঁজার প্রচেষ্টা তারা চালাচ্ছে, তাতে বিশ্বকাপ আয়োজন হতে পারে তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

তারা চায় ঘরের মাঠে আয়োজিত টুর্নামেন্টে তাদের জাতীয় দল যেন নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দেয়। রোনালদোর মতো সুপারস্টারদের দলে ভেড়ানোর ফলে যেমন তাদের লিগের পরিচিতি বেড়েছে। তেমনি আশা করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে খেলার মানও উন্নত হবে।

অথচ চার বছর আগে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হওয়া আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম বড় অঘটন ঘটানোর পর, এবার তাদের পারফরম্যান্সে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত দেখা যায়নি—বরং টানা ষষ্ঠবারের মতো তারা গ্রুপ পর্ব পার হতে ব্যর্থ হয়েছে।

সৌদি কোচ জর্জিওস দানিস বলেছেন, আরব লিগে যখন এমন সব তারকা খেলোয়াড় খেলেন, তখন প্রতিযোগিতা যত তীব্র হয়, আমাদের খেলোয়াড়রাও ততটাই ভালো হয়ে ওঠেন। তবে জাতীয় দলের হয়ে খেলার বিষয়টি ভিন্ন, কারণ জাতীয় দলে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর জন্য বিশেষ এক মানসিকতার প্রয়োজন হয়।

এখন বিদেশি তারকা খেলোয়াড়দের দলে ভেড়ানোর হার কমেছে এবং নেইমারের মতো আরও বড় বড় নাম ইতোমধ্যে চলে গেছে। সৌদি আরবে প্রতিভা বিকাশের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইউএস সকারের স্পোর্টিং ডিরেক্টর ম্যাট ক্রকারকে নিয়ে আসা হয়েছে এবং গত তিন বছরে যুব পর্যায়ে বিনিয়োগ দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিপুল অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে সৌদি আরব ও কাতার যেখানে ক্রীড়াজগতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, সেখানে ইরান ১৯৭৮ সাল থেকেই বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের জেরে প্রস্তুতি ও যাতায়াত সংক্রান্ত নানা জটিলতার মোকাবিলা
করতে হয়েছে তাদের। এরপরও তিনটি ম্যাচ ড্র করার সুবাদে ‘সেরা তৃতীয় দল’ হিসেবে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। বিশ্বকাপে সাতবার অংশ নিলেও তারা কখনোই গ্রুপ পর্বের গণ্ডি পেরোতে পারেনি।

৪০ বছরের ব্যবধানে দুবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ইরাকের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। ৪৮ দলের বিশাল পরিসরের বিশ্বকাপে যখন কেপ ভার্দে বা কঙ্গোর মতো দেশগুলোর ইতিহাস গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তখন উপসাগরীয় দেশগুলো এখনও তাদের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় রয়েছে।