৩১ মে ২০২৬, রবিবার, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
৩১ মে ২০২৬, রবিবার, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

করোনা দেখিয়ে দিল, ডাক্তারের প্রতি কারোর কোন দায় নেই। সকলের প্রতি দায় শুধু ডাক্তারের | বার্তা সাম্প্রতিক

করোনা দেখিয়ে দিল, ডাক্তারের প্রতি কারোর কোন দায় নেই। সকলের প্রতি দায় শুধু ডাক্তারের | বার্তা সাম্প্রতিক

সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়

আকাশ সমান অশিক্ষা, সাগর সমান স্বার্থপরতা চিনতে শেখায় না সত্যিকারের ভগবানকে !! আজ ত ডাক্তারই ভগবান!  এরাই ভগবান!! কাল আবার এঁদের  পেটানো হবে!! তখন চুপ করে থাকবে সুশীল সমাজ। বুদ্ধিজীবী ভুলে যান চশমাটা কোথায় রেখেছেন খুঁজে পেতে। আর দাবা খেলে যান রাজনীতিবিদ, মিঠি পান মুখে দিয়ে চাল দেন হিন্দু কিংবা মুসলিম ঘোড়া খেতে।

তখন ও  এন আর এসে এক লরি টুপি পরা লোক ডাক্তার মেরে  ঘুরে বেড়ায়। আবার শিশু বাঁচিয়ে জেলের ঘানি টানে ডাক্তার কাফিল খান। আলিগরের ছাত্র যখন মানুষ বাঁচাতে দেশ বাঁচাতে কিট আবিষ্কার করে , তখন তো কেউ ভাবে না , ইনশাআল্লাহ, ভারত তেরে টুকরো হঙ্গে স্লোগানটি  কখনো কোনো মুসলিম দিতে পারে না। তারাই এগুলো বলতে সাহস পায় যাদের পিছনে রাজনীতির খুঁটি থাকে। আর অন্যদের মারার জন্য তাদেরকে শুধু বলতে পাঠানো হয়। তারপর সেটা নিয়েই চলে ঘোড়া কেনা বেচা হায় ভগবান! হে আল্লাহ! O God!  তোমাকে বাঁচাবে কে? মানুষকে বাঁচায় তো ডাক্তার! তুমি কি বাঁচাবে  অমানুষের হাত থেকে? আজও ডাক্তার নার্স ppe পায় নি। ওরা মরলে?   মানুষকে বাঁচাবে কে? তাহলে আসুন।সমবেদনা আর সহমর্মিতার চাইতেও  ডাক্তারের প্রয়োজনের পাশে দাঁড়াই। আওয়াজ তুলি আসুন ডাক্তার বাঁচান। ডাক্তার নার্স সকল স্বাস্থ্যকর্মীকে সবার আগে সুরক্ষা দিন।

আজকে এমন একটা দিনেই কথা বলতে হচ্ছে এইসব যেদিনটা তো ডাক্তারদের জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে। চোখ দিয়ে জল বেরোবে সেই মানুষটার কথা ভেবে ডাক্তারি করতে এসে যিনি নিজের পরিবার ত্যাগ করে গত ২৫ দিন ধরে একটানা ডিউটি করে শেষপর্যন্ত করোনা সংক্রমণে মারা গেলেন, অথচ তাঁর মৃত্যুর পর সংক্রমণ ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে তাঁর এলাকার মানুষজন অন্তিম সংস্কার টুকু করতে দিতে চাইল না। দক্ষিণ ভারতের এই ঘটনাটি সারাদেশের সব ডাক্তারদের জন্য কিন্তু অন্তিম পরিণতি হতে পারে —-  একটা সমাজে বাস করছি আমরা।

এই রাজ্যের বহু ডাক্তার করোনা রোগীদের বাঁচাতে এসে নিজেরাই এখন কোয়ারেন্টাইনে ! চিকিৎসাধীন। সরকার কী করছে এদের জন্য? এসব নিয়ে ভাবতে হবে।কিন্তু একবারও কি ভেবেছেন আমাদের মিডিয়া কি এই চিকিৎসাধীন ডাক্তারদের  চিকিৎসা কেমন চলছে তাই  নিয়ে কোন খবর ছাপে? মিডিয়া দেয় সমাজের কাছে এনে তাদের সুখ দুঃখ পাওয়া না পাওয়া যন্ত্রনা খবর?

আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ, মিডিয়া, রাজনীতিবিদ, সমাজ প্রভুরা কি জানে তাদের সামাজিক কোন দায় আছে ডাক্তারদের প্রতি? শুধু ডাক্তারদেরই দায় থাকবে সমাজের প্রতি? রাষ্ট্র কোন  দায়  নেয় ডাক্তারের?

আজকের ঘটনা। দিল্লিতে ভারতের সবচাইতে বড় হাসপাতাল। সেখানে ডাক্তাররা প্রাণের ভয়ে চিকিৎসা করছেন। তাদের যথেষ্ট পরিমাণ সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। বারবার বলার পরও সরকারের কাছ থেকে কোনরকম সুরাহা না পেয়ে শেষে চিকিৎসকরা হুমকি দেন।তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ডাক্তারকে কেউ মারলে তার জেল হবে সাত বছরের। তার ফাইন হবে ৫ লাখ।

ডাক্তাররা জানে, কোন ও একজন বা দুজন মারতে আসে না। মারতে আসে এই সমাজের রাজনীতি আশ্রিত দুর্বৃত্ত। তাই এইসব আইন সেই সময় কখনো প্রয়োগ করা হয় না। উল্টে ডাক্তারদের আন্দোলন বন্ধ করার জন্য সরকার জরুরি পরিষেবা আইন জারি করে। যাদেরকে জরুরী পরিষেবা দিতে হয় তাদের প্রাণের রক্ষা করবার জন্য ন্যূনতম সুরক্ষা ব্যবস্থা করা হয় না। এই আমাদের দেশ!!

তবুও আমরা ইউরোপ-আমেরিকার থেকে অনেক ভাল চিকিৎসা পাচ্ছি। তাই করোনায়  মরছে কম, তার পরেও জোটে না ডাক্তারদের জন্য পি পি ই।  জোটে না তাদের রাতে থাকার জায়গা! শেষে সরকারকে বলতে হচ্ছে, যেন না তাড়ানো হয়!! সত্যি কত অপাংক্তেয় আমাদের ডাক্তার!!

বাড়িয়ালা দিচ্ছে তাড়িয়ে জুনিয়ার ডাক্তার, নার্স, তাদের অপরাধ?  করোনা র  মত মহামারীর বিরুদ্ধে তারা রুখে দাঁড়িয়েছে,এটাই অপরাধ?

তথ্যসূত্র : বার্তা সাম্প্রতিক

ইন্দ্রনীল সেনের ঘনিষ্ঠ ভদ্রেশ্বর পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

করোনা দেখিয়ে দিল, ডাক্তারের প্রতি কারোর কোন দায় নেই। সকলের প্রতি দায় শুধু ডাক্তারের | বার্তা সাম্প্রতিক

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২০, রবিবার

করোনা দেখিয়ে দিল, ডাক্তারের প্রতি কারোর কোন দায় নেই। সকলের প্রতি দায় শুধু ডাক্তারের | বার্তা সাম্প্রতিক

সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়

আকাশ সমান অশিক্ষা, সাগর সমান স্বার্থপরতা চিনতে শেখায় না সত্যিকারের ভগবানকে !! আজ ত ডাক্তারই ভগবান!  এরাই ভগবান!! কাল আবার এঁদের  পেটানো হবে!! তখন চুপ করে থাকবে সুশীল সমাজ। বুদ্ধিজীবী ভুলে যান চশমাটা কোথায় রেখেছেন খুঁজে পেতে। আর দাবা খেলে যান রাজনীতিবিদ, মিঠি পান মুখে দিয়ে চাল দেন হিন্দু কিংবা মুসলিম ঘোড়া খেতে।

তখন ও  এন আর এসে এক লরি টুপি পরা লোক ডাক্তার মেরে  ঘুরে বেড়ায়। আবার শিশু বাঁচিয়ে জেলের ঘানি টানে ডাক্তার কাফিল খান। আলিগরের ছাত্র যখন মানুষ বাঁচাতে দেশ বাঁচাতে কিট আবিষ্কার করে , তখন তো কেউ ভাবে না , ইনশাআল্লাহ, ভারত তেরে টুকরো হঙ্গে স্লোগানটি  কখনো কোনো মুসলিম দিতে পারে না। তারাই এগুলো বলতে সাহস পায় যাদের পিছনে রাজনীতির খুঁটি থাকে। আর অন্যদের মারার জন্য তাদেরকে শুধু বলতে পাঠানো হয়। তারপর সেটা নিয়েই চলে ঘোড়া কেনা বেচা হায় ভগবান! হে আল্লাহ! O God!  তোমাকে বাঁচাবে কে? মানুষকে বাঁচায় তো ডাক্তার! তুমি কি বাঁচাবে  অমানুষের হাত থেকে? আজও ডাক্তার নার্স ppe পায় নি। ওরা মরলে?   মানুষকে বাঁচাবে কে? তাহলে আসুন।সমবেদনা আর সহমর্মিতার চাইতেও  ডাক্তারের প্রয়োজনের পাশে দাঁড়াই। আওয়াজ তুলি আসুন ডাক্তার বাঁচান। ডাক্তার নার্স সকল স্বাস্থ্যকর্মীকে সবার আগে সুরক্ষা দিন।

আজকে এমন একটা দিনেই কথা বলতে হচ্ছে এইসব যেদিনটা তো ডাক্তারদের জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে। চোখ দিয়ে জল বেরোবে সেই মানুষটার কথা ভেবে ডাক্তারি করতে এসে যিনি নিজের পরিবার ত্যাগ করে গত ২৫ দিন ধরে একটানা ডিউটি করে শেষপর্যন্ত করোনা সংক্রমণে মারা গেলেন, অথচ তাঁর মৃত্যুর পর সংক্রমণ ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে তাঁর এলাকার মানুষজন অন্তিম সংস্কার টুকু করতে দিতে চাইল না। দক্ষিণ ভারতের এই ঘটনাটি সারাদেশের সব ডাক্তারদের জন্য কিন্তু অন্তিম পরিণতি হতে পারে —-  একটা সমাজে বাস করছি আমরা।

এই রাজ্যের বহু ডাক্তার করোনা রোগীদের বাঁচাতে এসে নিজেরাই এখন কোয়ারেন্টাইনে ! চিকিৎসাধীন। সরকার কী করছে এদের জন্য? এসব নিয়ে ভাবতে হবে।কিন্তু একবারও কি ভেবেছেন আমাদের মিডিয়া কি এই চিকিৎসাধীন ডাক্তারদের  চিকিৎসা কেমন চলছে তাই  নিয়ে কোন খবর ছাপে? মিডিয়া দেয় সমাজের কাছে এনে তাদের সুখ দুঃখ পাওয়া না পাওয়া যন্ত্রনা খবর?

আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ, মিডিয়া, রাজনীতিবিদ, সমাজ প্রভুরা কি জানে তাদের সামাজিক কোন দায় আছে ডাক্তারদের প্রতি? শুধু ডাক্তারদেরই দায় থাকবে সমাজের প্রতি? রাষ্ট্র কোন  দায়  নেয় ডাক্তারের?

আজকের ঘটনা। দিল্লিতে ভারতের সবচাইতে বড় হাসপাতাল। সেখানে ডাক্তাররা প্রাণের ভয়ে চিকিৎসা করছেন। তাদের যথেষ্ট পরিমাণ সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। বারবার বলার পরও সরকারের কাছ থেকে কোনরকম সুরাহা না পেয়ে শেষে চিকিৎসকরা হুমকি দেন।তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ডাক্তারকে কেউ মারলে তার জেল হবে সাত বছরের। তার ফাইন হবে ৫ লাখ।

ডাক্তাররা জানে, কোন ও একজন বা দুজন মারতে আসে না। মারতে আসে এই সমাজের রাজনীতি আশ্রিত দুর্বৃত্ত। তাই এইসব আইন সেই সময় কখনো প্রয়োগ করা হয় না। উল্টে ডাক্তারদের আন্দোলন বন্ধ করার জন্য সরকার জরুরি পরিষেবা আইন জারি করে। যাদেরকে জরুরী পরিষেবা দিতে হয় তাদের প্রাণের রক্ষা করবার জন্য ন্যূনতম সুরক্ষা ব্যবস্থা করা হয় না। এই আমাদের দেশ!!

তবুও আমরা ইউরোপ-আমেরিকার থেকে অনেক ভাল চিকিৎসা পাচ্ছি। তাই করোনায়  মরছে কম, তার পরেও জোটে না ডাক্তারদের জন্য পি পি ই।  জোটে না তাদের রাতে থাকার জায়গা! শেষে সরকারকে বলতে হচ্ছে, যেন না তাড়ানো হয়!! সত্যি কত অপাংক্তেয় আমাদের ডাক্তার!!

বাড়িয়ালা দিচ্ছে তাড়িয়ে জুনিয়ার ডাক্তার, নার্স, তাদের অপরাধ?  করোনা র  মত মহামারীর বিরুদ্ধে তারা রুখে দাঁড়িয়েছে,এটাই অপরাধ?

তথ্যসূত্র : বার্তা সাম্প্রতিক