২৯ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩
২৯ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

মৃত্যু মিছিল লেগেই আছে সুন্দরবন লাগোয়া এলাকায়

বাবলু হাসান লস্কর, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা :
বারে বারে আক্রান্ত হচ্ছে সুন্দরবনের মৎস্য জীবিরা। একটুও আশায়, জীবন জীবিকার সন্ধানে সুন্দরবনের মাছ, কাঁকড়া ধরতে যাচ্ছে তারা আর এই মাছ কাঁকড়া ধরার মুহূর্তে ঘটছে দুর্ঘটনা। বিশেষ করে কাঁকড়া ধরতে যাওয়ায় কাল হচ্ছে তাদের। দীর্ঘদিন চলা লকডাউনের জাঁতা কলের মধ্যে পড়া অসহায় মানুষগুলো বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় মান্ধাতার আমলের পেশায় নদী তে মাছ কাঁকড়া ধরার মুহূর্তে-বিভিন্ন ঘটনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে গাঙ্গেয় সুন্দরবন এলাকায় মানুষেরা বাঘ কিম্বা কুমিরে বা নদীতে নৌকাডুবির মতো ঘটনা কিম্বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে জীবন খোয়াতে হচ্ছে এদের। নদীর কাছাকাছিই থাকায় এই সমস্ত পেশায় এরা সিদ্ধহস্ত। পুরুষানুক্রমে মৎস্য শিকার কিংবা কাঁকড়া ধরার মধ্য দিয়ে জীবন জীবিকা চলে এদের। এই মুহূর্তে তারা-তাদের পরিবারের সদস্যদের মুখে অন্ন তুলে দিতে যেতে হচ্ছে সুন্দরবনের নদী কিম্বা খাঁড়িতে। কখনো বা তারা বৈধ কাগজপত্র নিয়ে সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভ অরণ্যে কিম্বা নদীতে কখনো বা মধু সংগ্রহ করার জন্য যাওয়ায় একের পর এক দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হচ্ছে। বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় জীবিকার সন্ধানে তাদের যেতে হয় সুন্দরবনে। আগের তুলনায় সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাঘের মানুষ মারার প্রবণতা বেড়েছে। বিগত দিনগুলির তুলনায় এই মুহূর্তে এক টার পর একটা দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে । বিপত্তি কোথাও কাঁকড়া ধরতে ধরতে এক সঙ্গী কে টেনে নিয়ে যাচ্ছে কখনো বা অধিক প্ররিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে পড়ায় নৌকায় বিশ্রাম নেওয়ার নিস্তব্ধ সময়ে বাঘমামা ঝাঁপিয়ে পড়ছে নৌকার উপরে।তাদের উপরে বারে বারে হামলা করছে বাঘু,তাতে কাউকে টেনে নিয়ে চলে যাচ্ছে গভীর জঙ্গলে। এক সাথে থাকা সঙ্গী দের তৎপরতায় ছিন্ন ভিন্ন দেহ নিয়ে চলে আসতে হচ্ছে তাদের এতে কেউবা বেঁচে ফিরছেন-কেউবা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। বাঘের তীক্ষ্ণ নখ বিষাক্ত লালা শরীরের যে সমস্ত জায়গায় লাগে,অতি শীঘ্রই সেখানে পচন ধরতে শুরু করে। প্রতিনিয়ত মৃত্যু মিছিল লেগে আছে। শংকর শী, গৌর চন্দ্র মিস্ত্রি, কাজল মল্লিক, শঙ্কর ভক্তা, সেলিম মোল্লা, শ্রীনিবাস মন্ডল, অসিত সরকার, অভয় মন্ডল সহ অনেকে এ বছরে আঠেরো জন মারা গিয়েছে বাঘের আক্রমণে,ও আট জন গুরুতর আহত আর স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারবে কি।বনদপ্তর এর উদাসীনতায় পরিবারগুলি বাঘের আক্রমণে আহত ও নিহত পরিবারগুলি সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত এই সমস্ত পরিবারের সদস্যদের নজরে রাখার মতো মানুষের অভাব।

রাজনগরে উদ্ধার অজ্ঞাত পরিচয় মহিলার পচাগলা দেহ

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

মৃত্যু মিছিল লেগেই আছে সুন্দরবন লাগোয়া এলাকায়

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২১, শনিবার

বাবলু হাসান লস্কর, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা :
বারে বারে আক্রান্ত হচ্ছে সুন্দরবনের মৎস্য জীবিরা। একটুও আশায়, জীবন জীবিকার সন্ধানে সুন্দরবনের মাছ, কাঁকড়া ধরতে যাচ্ছে তারা আর এই মাছ কাঁকড়া ধরার মুহূর্তে ঘটছে দুর্ঘটনা। বিশেষ করে কাঁকড়া ধরতে যাওয়ায় কাল হচ্ছে তাদের। দীর্ঘদিন চলা লকডাউনের জাঁতা কলের মধ্যে পড়া অসহায় মানুষগুলো বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় মান্ধাতার আমলের পেশায় নদী তে মাছ কাঁকড়া ধরার মুহূর্তে-বিভিন্ন ঘটনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে গাঙ্গেয় সুন্দরবন এলাকায় মানুষেরা বাঘ কিম্বা কুমিরে বা নদীতে নৌকাডুবির মতো ঘটনা কিম্বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে জীবন খোয়াতে হচ্ছে এদের। নদীর কাছাকাছিই থাকায় এই সমস্ত পেশায় এরা সিদ্ধহস্ত। পুরুষানুক্রমে মৎস্য শিকার কিংবা কাঁকড়া ধরার মধ্য দিয়ে জীবন জীবিকা চলে এদের। এই মুহূর্তে তারা-তাদের পরিবারের সদস্যদের মুখে অন্ন তুলে দিতে যেতে হচ্ছে সুন্দরবনের নদী কিম্বা খাঁড়িতে। কখনো বা তারা বৈধ কাগজপত্র নিয়ে সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভ অরণ্যে কিম্বা নদীতে কখনো বা মধু সংগ্রহ করার জন্য যাওয়ায় একের পর এক দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হচ্ছে। বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় জীবিকার সন্ধানে তাদের যেতে হয় সুন্দরবনে। আগের তুলনায় সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাঘের মানুষ মারার প্রবণতা বেড়েছে। বিগত দিনগুলির তুলনায় এই মুহূর্তে এক টার পর একটা দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে । বিপত্তি কোথাও কাঁকড়া ধরতে ধরতে এক সঙ্গী কে টেনে নিয়ে যাচ্ছে কখনো বা অধিক প্ররিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে পড়ায় নৌকায় বিশ্রাম নেওয়ার নিস্তব্ধ সময়ে বাঘমামা ঝাঁপিয়ে পড়ছে নৌকার উপরে।তাদের উপরে বারে বারে হামলা করছে বাঘু,তাতে কাউকে টেনে নিয়ে চলে যাচ্ছে গভীর জঙ্গলে। এক সাথে থাকা সঙ্গী দের তৎপরতায় ছিন্ন ভিন্ন দেহ নিয়ে চলে আসতে হচ্ছে তাদের এতে কেউবা বেঁচে ফিরছেন-কেউবা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। বাঘের তীক্ষ্ণ নখ বিষাক্ত লালা শরীরের যে সমস্ত জায়গায় লাগে,অতি শীঘ্রই সেখানে পচন ধরতে শুরু করে। প্রতিনিয়ত মৃত্যু মিছিল লেগে আছে। শংকর শী, গৌর চন্দ্র মিস্ত্রি, কাজল মল্লিক, শঙ্কর ভক্তা, সেলিম মোল্লা, শ্রীনিবাস মন্ডল, অসিত সরকার, অভয় মন্ডল সহ অনেকে এ বছরে আঠেরো জন মারা গিয়েছে বাঘের আক্রমণে,ও আট জন গুরুতর আহত আর স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারবে কি।বনদপ্তর এর উদাসীনতায় পরিবারগুলি বাঘের আক্রমণে আহত ও নিহত পরিবারগুলি সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত এই সমস্ত পরিবারের সদস্যদের নজরে রাখার মতো মানুষের অভাব।