২১ জুন ২০২৬, রবিবার, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩
২১ জুন ২০২৬, রবিবার, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩

ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানী ড. মহসিন নিহত সন্ত্রাসীর হামলায়

নতুন গতি ওয়েব ডেস্ক: হাইওয়ে দিয়ে দুর্বার গতিতে ছুটে চলছে কালোরা চার চাকা গাড়ি। পিছনের সিটে বসে দুই নিরাপত্তারক্ষী। আচমকাই ঝাঁকে ঝাঁকে ছুটে এল গুলি। কাচ ভেদ করে ঢুকে গেল কারও বুকে, কারও মাথায়। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই বোমা হামলা। ব্যস্ সব শেষ। গাড়ির সিটেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়লেন ‘ইরানের পরমাণু কর্মসূচির জনক’ বিশিষ্ট পদার্থ ও পরমাণু বিজ্ঞানী ড. মহসিন ফখরিজাদেহ। ট্যাক্সির পিছনের গেট ভেঙে রাস্তায় ছিটকে বেরিয়ে এল নিরাপত্তারক্ষীর একটা হাত। চালক সহ গাড়িতে থাকা ৪ জনের প্রাণই মুহূর্তের মধ্যে নিষ্প্রাণ হয়ে গেল। গাড়ির ভিতর থেকে রক্ত গড়িয়ে কালো পিচের রাস্তায় চাপ চাপ হয়ে জমে গেল। দুর্ঘটনাস্থল ইরানের রাজধানী তেহরানের অদূরে ভারমান্দের আব-সার্দ শহর। শুক্রবার বিকালে এই ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী ও অন্য তিনজনের মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে ফের উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। ২০১০-১২ সালের মধ্যে ইরানের ৪ পরমাণু বিজ্ঞানী গুপ্তহত্যার শিকার হন। সবক্ষেত্রেই ইসরাইলের দিকে অভিযোগের তির ওঠে।

উল্লেখ্য, ইরানের তরফে অভিযোগ করার আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলে দিয়েছেন, ইসরাইলি গুপ্তচর সংস্থা মোসাদই রয়েছে মহসিন খুনের নেপথ্যে। মোসাদের গোপন অ্যাজেন্ডা বিশেষজ্ঞ ইসরাইলি গবেষক, সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক ইয়োসি মেলমান প্রথম টু্ইট করে বলেন, ফখরিজাদেহকে খুন করেছে ইসরাইল। কারণ, মোসাদ অনেক বছর ধরেই তাদের হিটলিস্টে মোস্ট ওয়ান্টেড হিসেবে তাঁর নাম রেখেছিল। অনেক দিন ধরেই তাঁকে খুনের চেষ্টা চালাচ্ছিল মোসাদ। এই টু্ইটকে নিজের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে রি-টু্ইট করে ট্রাম্প বুঝিয়ে দিলেন যে, তিনিও বিশ্বাস করেন খুন করেছে মোসাদ। এই টু্ইট ও রি-টু্ইট প্রথম প্রকাশ করে নিউ ইয়র্ক টাইমস।

এ দিকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা সৈয়দ আলাতুল্লাহিল খামেনেয়ি বলেছেন, ইরানের গর্ব বিজ্ঞানী ফখরিজাদেহকে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। হত্যাকারী ও হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের চরম মাশুল দিতে হবে। তিনি এও বলেন, একজন মহাবিজ্ঞানীকে খুন করলে ইরানের বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও গবেষণা থমকে যাবে না। ইরানের নিউক্লিয়ার রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সংস্থার প্রধান ছিলেন মরহুম মহসিন ফখরিজাদেহ। প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি সরাসরি এই হত্যার জন্য ইসরাইল ও তাদের কুখ্যাত গুপ্তচর সংস্থা মোসাদকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। সন্ত্রাসী হামলা ও নৃশংস খুনের বদলা নেওয়ার অঙ্গীকারও করেছেন তিনি। বিদেশমন্ত্রী ড. মুহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, এভাবে কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়ে যুদ্ধের উসকানি ও প্ররোচনা দিচ্ছে ইসরাইল।

রেললাইনের পাশে পড়ে যুবক, আত্মহত্যার চেষ্টা নাকি দুর্ঘটনা? ধোঁয়াশায় বামনহাট

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানী ড. মহসিন নিহত সন্ত্রাসীর হামলায়

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২০, রবিবার

নতুন গতি ওয়েব ডেস্ক: হাইওয়ে দিয়ে দুর্বার গতিতে ছুটে চলছে কালোরা চার চাকা গাড়ি। পিছনের সিটে বসে দুই নিরাপত্তারক্ষী। আচমকাই ঝাঁকে ঝাঁকে ছুটে এল গুলি। কাচ ভেদ করে ঢুকে গেল কারও বুকে, কারও মাথায়। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই বোমা হামলা। ব্যস্ সব শেষ। গাড়ির সিটেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়লেন ‘ইরানের পরমাণু কর্মসূচির জনক’ বিশিষ্ট পদার্থ ও পরমাণু বিজ্ঞানী ড. মহসিন ফখরিজাদেহ। ট্যাক্সির পিছনের গেট ভেঙে রাস্তায় ছিটকে বেরিয়ে এল নিরাপত্তারক্ষীর একটা হাত। চালক সহ গাড়িতে থাকা ৪ জনের প্রাণই মুহূর্তের মধ্যে নিষ্প্রাণ হয়ে গেল। গাড়ির ভিতর থেকে রক্ত গড়িয়ে কালো পিচের রাস্তায় চাপ চাপ হয়ে জমে গেল। দুর্ঘটনাস্থল ইরানের রাজধানী তেহরানের অদূরে ভারমান্দের আব-সার্দ শহর। শুক্রবার বিকালে এই ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী ও অন্য তিনজনের মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে ফের উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। ২০১০-১২ সালের মধ্যে ইরানের ৪ পরমাণু বিজ্ঞানী গুপ্তহত্যার শিকার হন। সবক্ষেত্রেই ইসরাইলের দিকে অভিযোগের তির ওঠে।

উল্লেখ্য, ইরানের তরফে অভিযোগ করার আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলে দিয়েছেন, ইসরাইলি গুপ্তচর সংস্থা মোসাদই রয়েছে মহসিন খুনের নেপথ্যে। মোসাদের গোপন অ্যাজেন্ডা বিশেষজ্ঞ ইসরাইলি গবেষক, সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক ইয়োসি মেলমান প্রথম টু্ইট করে বলেন, ফখরিজাদেহকে খুন করেছে ইসরাইল। কারণ, মোসাদ অনেক বছর ধরেই তাদের হিটলিস্টে মোস্ট ওয়ান্টেড হিসেবে তাঁর নাম রেখেছিল। অনেক দিন ধরেই তাঁকে খুনের চেষ্টা চালাচ্ছিল মোসাদ। এই টু্ইটকে নিজের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে রি-টু্ইট করে ট্রাম্প বুঝিয়ে দিলেন যে, তিনিও বিশ্বাস করেন খুন করেছে মোসাদ। এই টু্ইট ও রি-টু্ইট প্রথম প্রকাশ করে নিউ ইয়র্ক টাইমস।

এ দিকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা সৈয়দ আলাতুল্লাহিল খামেনেয়ি বলেছেন, ইরানের গর্ব বিজ্ঞানী ফখরিজাদেহকে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। হত্যাকারী ও হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের চরম মাশুল দিতে হবে। তিনি এও বলেন, একজন মহাবিজ্ঞানীকে খুন করলে ইরানের বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও গবেষণা থমকে যাবে না। ইরানের নিউক্লিয়ার রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সংস্থার প্রধান ছিলেন মরহুম মহসিন ফখরিজাদেহ। প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি সরাসরি এই হত্যার জন্য ইসরাইল ও তাদের কুখ্যাত গুপ্তচর সংস্থা মোসাদকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। সন্ত্রাসী হামলা ও নৃশংস খুনের বদলা নেওয়ার অঙ্গীকারও করেছেন তিনি। বিদেশমন্ত্রী ড. মুহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, এভাবে কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়ে যুদ্ধের উসকানি ও প্ররোচনা দিচ্ছে ইসরাইল।