১৭ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
১৭ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

কলকাতার খুদে শিল্পীর তুলিতে বিশ্ব-শান্তির বার্তা, ছবি প্রদর্শিত রোমের কলোসিয়ামে

খান আরশাদ, নতুন গতি প্রতিবেদন:

কলকাতার ঐতিহ্যবাহী হিন্দু স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র সায়নদীপ প্রামাণিকের আঁকা ছবি এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের মুখ উজ্জ্বল করল। ইতালির রোমের বিশ্ববিখ্যাত ঐতিহাসিক কলোসিয়ামে প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে তার শান্তি বিষয়ক চিত্রকর্মটি।

ইতালির পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রক (MAECI) আয়োজিত “Children Draw Peace” উদ্যোগে এই কৃতিত্ব অর্জিত হয়েছে। এই মহৎ উদ্যোগটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছে স্টাজ্জেমা পৌরসভা (Municipality of Stazzema) এবং কালারস্ অফ পিস অ্যাসোসিয়েশন (Colors of Peace Association)। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান করেছে ইতালিয় কনস্যুলেট জেনারেল এবং ইতালির স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মিশনে ক্যালকাটা (Missione Calcutta)।

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল শিশুদের চোখ দিয়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার বার্তাকে তুলে ধরা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শিশুদের আঁকা ছবির মাধ্যমে যুদ্ধ নয়, শান্তির পক্ষে এক বিশ্বজনীন বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য।ইতালি কনস্যুলেটের অফিসিয়াল পেজে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।

হিরোশিমা দিবস উপলক্ষে এক বিশেষ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই প্রতিযোগিতায় জমা পড়া হাজার হাজার ছবির মধ্যে থেকে ভারতের কলকাতার হিন্দু স্কুলের ওই ছাত্র সায়নদীপের আঁকা ছবিটি অন্যতম সেরা হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলস্বরূপ ইতালির রোমের কলোসিয়াম আর্কিওলজিক্যাল পার্কের ঐতিহাসিক ‘ভিয়া সাকরা’ রোডে আয়োজিত ‘ড্রয়িংস অফ পিস’ প্রদর্শনীতে ছবিটি স্থান পায়। যা এক বিরল সম্মান অর্জন সায়নদীপের।

জানা গেছে, এই প্রদর্শনীর জন্য সারা বিশ্বের ১৫৩টি দেশের ক্ষুদে প্রতিযোগীদের আঁকা মাত্র ১,০০০টি ছবি নির্বাচিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৫০টি ছিল রোম শহরের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের আঁকা, বাকি ৭৫০টি কঠোরভাবে বাছাই করা হয় বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে। ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে কলকাতার এই ছাত্রের ছবিটি সেই তালিকায় জায়গা করে নেয়।

এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান করেছে কলকাতাস্থ ইতালির কনস্যুলেট জেনারেল এবং ইতালির স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মিশনে ক্যালকাটা (Missione Calcutta)।

সায়নদীপের ছবিটির মূল বিষয়বস্তু “যুদ্ধ ও পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা এবং একটি সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন”। ক্যানভাসকে মাঝখান থেকে দুই ভাগে ভাগ করে বৈপরীত্য ফুটিয়ে তুলেছে খুদে শিল্পী। বাম পাশে – সুস্থ ও সুন্দর পৃথিবী, যেখানে উজ্জ্বল সূর্য, নীল আকাশ, সবুজ গাছপালা, পরিষ্কার নদীতে শিশুরা খেলছে, একজন চারা রোপণ করছে। সেখানে পৃথিবী হাসিমুখে। ডান পাশে – বিধ্বস্ত ও দূষিত পৃথিবী। মেঘের ঘনঘটা, বজ্রপাত, অ্যাসিড বৃষ্টি, রকেট, ট্যাংক, বন্দুকধারী শিশু সৈনিক, ‘বম্ব’ লেখা সাইনবোর্ড এবং কান্নারত পৃথিবীর ছবি। এই ছবির মাধ্যমে শিল্পী বোঝাতে চেয়েছে, যুদ্ধ ও দূষণ কীভাবে আমাদের সুন্দর পৃথিবীকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

এই প্রদর্শনীই তার সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক পুরস্কার।

সম্প্রতি কলকাতায় ইতালির কনসাল জেনারেল জুলিয়ানো ফ্রানিয়াতো নিজে শংসাপত্র তুলে দেন সায়নদীপের হাতে। অন্যান্য দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইতালীয় ডেপুটি কনসাল জেনারেল ড্যানিয়েল প্যানফিলো, মিশনে ক্যালকাটার রাখী ব্যানার্জী, সায়নদীপের বাবা তারক নাথ প্রামাণিক।

 

উল্লেখ্য, সায়নদীপের দাদাও খুব ভালো চিত্রশিল্পী। সায়নদীপের বাবা একজন থ্যালাসেমিয়ার রোগী। এরকমই এক নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা সায়নদীপের প্রতিভা আজ ভারত ছাড়িয়ে পৌঁছলো বিশ্বের দরবারে। গর্বিত পশ্চিমবঙ্গবাসী, গর্বিত ভারতবাসী।

 

 

 

কলকাতার খুদে শিল্পীর তুলিতে বিশ্ব-শান্তির বার্তা, ছবি প্রদর্শিত রোমের কলোসিয়ামে

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

কলকাতার খুদে শিল্পীর তুলিতে বিশ্ব-শান্তির বার্তা, ছবি প্রদর্শিত রোমের কলোসিয়ামে

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার

খান আরশাদ, নতুন গতি প্রতিবেদন:

কলকাতার ঐতিহ্যবাহী হিন্দু স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র সায়নদীপ প্রামাণিকের আঁকা ছবি এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের মুখ উজ্জ্বল করল। ইতালির রোমের বিশ্ববিখ্যাত ঐতিহাসিক কলোসিয়ামে প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে তার শান্তি বিষয়ক চিত্রকর্মটি।

ইতালির পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রক (MAECI) আয়োজিত “Children Draw Peace” উদ্যোগে এই কৃতিত্ব অর্জিত হয়েছে। এই মহৎ উদ্যোগটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছে স্টাজ্জেমা পৌরসভা (Municipality of Stazzema) এবং কালারস্ অফ পিস অ্যাসোসিয়েশন (Colors of Peace Association)। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান করেছে ইতালিয় কনস্যুলেট জেনারেল এবং ইতালির স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মিশনে ক্যালকাটা (Missione Calcutta)।

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল শিশুদের চোখ দিয়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার বার্তাকে তুলে ধরা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শিশুদের আঁকা ছবির মাধ্যমে যুদ্ধ নয়, শান্তির পক্ষে এক বিশ্বজনীন বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য।ইতালি কনস্যুলেটের অফিসিয়াল পেজে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।

হিরোশিমা দিবস উপলক্ষে এক বিশেষ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই প্রতিযোগিতায় জমা পড়া হাজার হাজার ছবির মধ্যে থেকে ভারতের কলকাতার হিন্দু স্কুলের ওই ছাত্র সায়নদীপের আঁকা ছবিটি অন্যতম সেরা হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলস্বরূপ ইতালির রোমের কলোসিয়াম আর্কিওলজিক্যাল পার্কের ঐতিহাসিক ‘ভিয়া সাকরা’ রোডে আয়োজিত ‘ড্রয়িংস অফ পিস’ প্রদর্শনীতে ছবিটি স্থান পায়। যা এক বিরল সম্মান অর্জন সায়নদীপের।

জানা গেছে, এই প্রদর্শনীর জন্য সারা বিশ্বের ১৫৩টি দেশের ক্ষুদে প্রতিযোগীদের আঁকা মাত্র ১,০০০টি ছবি নির্বাচিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৫০টি ছিল রোম শহরের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের আঁকা, বাকি ৭৫০টি কঠোরভাবে বাছাই করা হয় বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে। ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে কলকাতার এই ছাত্রের ছবিটি সেই তালিকায় জায়গা করে নেয়।

এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান করেছে কলকাতাস্থ ইতালির কনস্যুলেট জেনারেল এবং ইতালির স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মিশনে ক্যালকাটা (Missione Calcutta)।

সায়নদীপের ছবিটির মূল বিষয়বস্তু “যুদ্ধ ও পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা এবং একটি সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন”। ক্যানভাসকে মাঝখান থেকে দুই ভাগে ভাগ করে বৈপরীত্য ফুটিয়ে তুলেছে খুদে শিল্পী। বাম পাশে – সুস্থ ও সুন্দর পৃথিবী, যেখানে উজ্জ্বল সূর্য, নীল আকাশ, সবুজ গাছপালা, পরিষ্কার নদীতে শিশুরা খেলছে, একজন চারা রোপণ করছে। সেখানে পৃথিবী হাসিমুখে। ডান পাশে – বিধ্বস্ত ও দূষিত পৃথিবী। মেঘের ঘনঘটা, বজ্রপাত, অ্যাসিড বৃষ্টি, রকেট, ট্যাংক, বন্দুকধারী শিশু সৈনিক, ‘বম্ব’ লেখা সাইনবোর্ড এবং কান্নারত পৃথিবীর ছবি। এই ছবির মাধ্যমে শিল্পী বোঝাতে চেয়েছে, যুদ্ধ ও দূষণ কীভাবে আমাদের সুন্দর পৃথিবীকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

এই প্রদর্শনীই তার সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক পুরস্কার।

সম্প্রতি কলকাতায় ইতালির কনসাল জেনারেল জুলিয়ানো ফ্রানিয়াতো নিজে শংসাপত্র তুলে দেন সায়নদীপের হাতে। অন্যান্য দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইতালীয় ডেপুটি কনসাল জেনারেল ড্যানিয়েল প্যানফিলো, মিশনে ক্যালকাটার রাখী ব্যানার্জী, সায়নদীপের বাবা তারক নাথ প্রামাণিক।

 

উল্লেখ্য, সায়নদীপের দাদাও খুব ভালো চিত্রশিল্পী। সায়নদীপের বাবা একজন থ্যালাসেমিয়ার রোগী। এরকমই এক নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা সায়নদীপের প্রতিভা আজ ভারত ছাড়িয়ে পৌঁছলো বিশ্বের দরবারে। গর্বিত পশ্চিমবঙ্গবাসী, গর্বিত ভারতবাসী।