১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

ভাঙড় রত্ন সম্মাননা পেলেন শিক্ষক-সাহিত্যিক মহম্মদ মফিজুল ইসলাম

  • নতুন গতি
  • আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার
  • 15

নিজস্ব সংবাদদাতা, নতুন গতি, ভাঙড়, ১৩ সেপ্টেম্বর: শিক্ষকতার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চা ও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সক্রিয় ভূমিকার জন্য ‘ভাঙড় রত্ন স্মারক সম্মাননা-২০২৬’-এ সম্মানিত হলেন শিক্ষক-সাহিত্যিক মহম্মদ মফিজুল ইসলাম। রবিবার পোলেরহাটে জনসেবা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত রক্তদান শিবির ও সামাজিক কর্মসূচির মঞ্চে তাঁর হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

শিক্ষা ও সমাজের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত এই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে ভাঙড়ের খামারাইত অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করার পাশাপাশি পড়ুয়াদের বিদ্যালয়মুখী করে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁর উদ্যোগের কথা অনুষ্ঠানে উঠে আসে। বিদ্যালয়ছুট শিশুদের ফের শিক্ষার পরিসরে ফিরিয়ে আনার কাজেও তিনি সক্রিয় ছিলেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

তবে তাঁর কর্মপরিসর শুধু বিদ্যালয়েই সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘ সময় ধরে বাংলা সাহিত্য ও সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত মহম্মদ মফিজুল ইসলাম কবিতা, প্রবন্ধ এবং উত্তর সম্পাদকীয় লেখার মাধ্যমে সমাজ, সংস্কৃতি ও মানুষের নানা বিষয় তুলে ধরেছেন। বাংলা ভাষা ও বাঙালির সামাজিক-সাংস্কৃতিক চেতনা নিয়ে তাঁর লেখালেখিও নিয়মিত। তাঁর পরিকল্পনা, সম্পাদনা ও নিজস্ব হাতের লেখায় প্রকাশিত দেওয়াল পত্রিকা ‘লাইম লাইট’ও তাঁর সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।

জনসেবা ফাউন্ডেশনের এই অনুষ্ঠানে মূলত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বার্তাই প্রাধান্য পায়। রক্তদান শিবিরে শতাধিক মানুষ স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। মহিলা রক্তদাতাদের অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো। সামাজিক দায়বদ্ধতার এমন একটি কর্মসূচির সঙ্গে শিক্ষক-সাহিত্যিকের সম্মাননা যুক্ত হওয়ায় অনুষ্ঠানটি ভিন্ন তাৎপর্য পায়।

আয়োজকদের বক্তব্য, এলাকার শিক্ষা, সাহিত্য, সাংবাদিকতা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের অবদানের বিষয়টি বিবেচনা করেই মহম্মদ মফিজুল ইসলামকে এ বছরের ‘ভাঙড় রত্ন’ সম্মানের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। তাঁর কর্মজীবনের বিভিন্ন দিককে একসঙ্গে মূল্যায়ন করেই এই স্বীকৃতি বলে জানানো হয়।

সম্মাননা পাওয়ার পরে মহম্মদ মফিজুল ইসলাম বলেন, ভাঙড়ের মাটিতে থেকে মানুষের জন্য কাজ করার যে সুযোগ তিনি পেয়েছেন, এই সম্মান তারই স্বীকৃতি। শিক্ষকতা, সাহিত্য ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা তাঁর দীর্ঘদিনের। এই পুরস্কার ভবিষ্যতে আরও বেশি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন সাংবাদিক সাদ্দাম হোসেন মিদ্দে। তাঁর সাবলীল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। রক্তদান, সামাজিক উদ্যোগ এবং সম্মাননা প্রদান—তিনটি পর্ব মিলিয়ে এ দিনের কর্মসূচি এলাকায় বিশেষ সাড়া ফেলে।

শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করে সাহিত্য ও সাংবাদিকতার বিস্তৃত পরিসরে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা মহম্মদ মফিজুল ইসলামের হাতে ‘ভাঙড় রত্ন’ সম্মাননা তুলে দেওয়াকে তাঁর বহুমুখী কর্মযাত্রার স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকে।

ভাঙড় রত্ন সম্মাননা পেলেন শিক্ষক-সাহিত্যিক মহম্মদ মফিজুল ইসলাম

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

ভাঙড় রত্ন সম্মাননা পেলেন শিক্ষক-সাহিত্যিক মহম্মদ মফিজুল ইসলাম

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার

নিজস্ব সংবাদদাতা, নতুন গতি, ভাঙড়, ১৩ সেপ্টেম্বর: শিক্ষকতার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চা ও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সক্রিয় ভূমিকার জন্য ‘ভাঙড় রত্ন স্মারক সম্মাননা-২০২৬’-এ সম্মানিত হলেন শিক্ষক-সাহিত্যিক মহম্মদ মফিজুল ইসলাম। রবিবার পোলেরহাটে জনসেবা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত রক্তদান শিবির ও সামাজিক কর্মসূচির মঞ্চে তাঁর হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

শিক্ষা ও সমাজের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত এই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে ভাঙড়ের খামারাইত অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করার পাশাপাশি পড়ুয়াদের বিদ্যালয়মুখী করে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁর উদ্যোগের কথা অনুষ্ঠানে উঠে আসে। বিদ্যালয়ছুট শিশুদের ফের শিক্ষার পরিসরে ফিরিয়ে আনার কাজেও তিনি সক্রিয় ছিলেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

তবে তাঁর কর্মপরিসর শুধু বিদ্যালয়েই সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘ সময় ধরে বাংলা সাহিত্য ও সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত মহম্মদ মফিজুল ইসলাম কবিতা, প্রবন্ধ এবং উত্তর সম্পাদকীয় লেখার মাধ্যমে সমাজ, সংস্কৃতি ও মানুষের নানা বিষয় তুলে ধরেছেন। বাংলা ভাষা ও বাঙালির সামাজিক-সাংস্কৃতিক চেতনা নিয়ে তাঁর লেখালেখিও নিয়মিত। তাঁর পরিকল্পনা, সম্পাদনা ও নিজস্ব হাতের লেখায় প্রকাশিত দেওয়াল পত্রিকা ‘লাইম লাইট’ও তাঁর সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।

জনসেবা ফাউন্ডেশনের এই অনুষ্ঠানে মূলত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বার্তাই প্রাধান্য পায়। রক্তদান শিবিরে শতাধিক মানুষ স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। মহিলা রক্তদাতাদের অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো। সামাজিক দায়বদ্ধতার এমন একটি কর্মসূচির সঙ্গে শিক্ষক-সাহিত্যিকের সম্মাননা যুক্ত হওয়ায় অনুষ্ঠানটি ভিন্ন তাৎপর্য পায়।

আয়োজকদের বক্তব্য, এলাকার শিক্ষা, সাহিত্য, সাংবাদিকতা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের অবদানের বিষয়টি বিবেচনা করেই মহম্মদ মফিজুল ইসলামকে এ বছরের ‘ভাঙড় রত্ন’ সম্মানের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। তাঁর কর্মজীবনের বিভিন্ন দিককে একসঙ্গে মূল্যায়ন করেই এই স্বীকৃতি বলে জানানো হয়।

সম্মাননা পাওয়ার পরে মহম্মদ মফিজুল ইসলাম বলেন, ভাঙড়ের মাটিতে থেকে মানুষের জন্য কাজ করার যে সুযোগ তিনি পেয়েছেন, এই সম্মান তারই স্বীকৃতি। শিক্ষকতা, সাহিত্য ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা তাঁর দীর্ঘদিনের। এই পুরস্কার ভবিষ্যতে আরও বেশি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন সাংবাদিক সাদ্দাম হোসেন মিদ্দে। তাঁর সাবলীল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। রক্তদান, সামাজিক উদ্যোগ এবং সম্মাননা প্রদান—তিনটি পর্ব মিলিয়ে এ দিনের কর্মসূচি এলাকায় বিশেষ সাড়া ফেলে।

শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করে সাহিত্য ও সাংবাদিকতার বিস্তৃত পরিসরে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা মহম্মদ মফিজুল ইসলামের হাতে ‘ভাঙড় রত্ন’ সম্মাননা তুলে দেওয়াকে তাঁর বহুমুখী কর্মযাত্রার স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকে।