নিজস্ব সংবাদদাতা: ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী কুনওয়ার বিজয় শাহ। এমনকি সুপ্রিম কোর্ট মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেওয়ার পরেও মধ্যপ্রদেশ সরকারকে সিদ্ধান্তে অনড়। বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার কোনওভাবেই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করতে রাজি নয়। এই মামলা চালানোর অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছেন রাজ্যপাল মঙ্গুভাই প্যাটেলও। সোমবার গভীর রাতে রাজ্য মন্ত্রিসভার সুপারিশ তিনি অনুমোদন করেন।
কেন্দ্র সরকার অপারেশন সিঁদুরের অগ্রভাগে যে মহিলা ব্রিগেডকে সামনে রেখেছিল, কর্নেল সুফিয়া কুরেশি ছিলেন তার অন্যতম। অপারেশনের পর সাংবাদিক বৈঠক করে প্রচারের আলোয় উঠে এসেছিলেন এই সেনানায়িকা। ভারতীয় সেনাবাহিনীর এমনই এক চরিত্রকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করে বসেন মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী কুনওয়ার বিজয় শাহ। তাঁর বিরুদ্ধে মধ্যপ্রদেশ সরকারকে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব সিদ্ধান্ত নেন, তারা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলায় অনুমতি দেবে না।
মধ্যপ্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৫ আগস্ট বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা হয়। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, মামলা করা হবে না। সেই সিদ্ধান্ত পাঠানোও হয়েছিল রাজ্যপালের কাছে। তিনিও মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছেন। এখন সুপ্রিম কোর্ট এই নির্দেশ দেওয়ার পর সরকার জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তারা সুপ্রিম কোর্টে তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানাবে।
কিন্তু কেন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলায় রাজি নয় সরকার? সরকারের এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে কয়েকটি কারণ। সেগুলি বিবেচনা করেই কোর্টের নির্দেশের বিপক্ষে হাঁটতে চলেছে তারা। সরকারের যুক্তি… এক, ঘটনার পরে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ জানাননি। দুই, পুলিশও এফআইআর দায়ের করেনি। তিন, মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সরাসরি কর্নেল সোফিয়া কুরেশির নাম নেননি। চার, মন্ত্রীর মন্তব্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হয়নি। পাঁচ, মন্ত্রী অতীতে একাধিকবার তাঁর মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। তাই পরিস্থিতি বিবেচনা করে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করা সমীচীন নয় বলে সরকার মনে করে।
উল্লেখ্য, কর্নেল সোফিয়া কুরেশি অপারেশন সিঁদুরের সাংবাদিক বৈঠক করার পরে মধ্যপ্রদেশের ওই মন্ত্রী মন্তব্য করেছিলেন, ”যারা আমাদের বোনেদের বৈধব্য দিয়েছে, তাদেরই এক বোনকে আমরা পাঠিয়েছি তাদেরই শিক্ষা দিতে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই বিতর্ক তৈরি হয়। সিট গঠন করে তদন্ত শুরু হয়। কিন্তু সিটের অনুরোধ সত্ত্বেও মামলার ছাড়পত্র দিতে দেরি করা হয় বলে অভিযোগ। কেন দেরি, তা নিয়ে আগেই প্রশ্ন তুলেছিল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ। এখন ফের মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা চালাতে নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত।
মন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্যের পর মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট ২০২৫ সালের ১৪ মে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি গ্রহণ করে পুলিশকে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেয়। পরে ইন্দোর জেলার মানপুর থানায় মামলা দায়ের হয়। সেই এফআইআর তৈরি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে হাই কোর্ট এবং তদন্তের উপর নজরদারি শুরু করে। এরপর বিজয় শাহ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। ২০২৫-এর ১৯ মে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে গ্রেফতার থেকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেয় এবং তদন্তের জন্য তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি গঠন করে।
নতুন গতি 




















