মালদা: শিকলে বাঁধা এক তরতাজা তরুণকে টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছেন দাদা। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেই পড়ছে জুতোর আঘাত। পাশে দিদি থাকলেও কার্যত নীরব দর্শক। মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে এমনই এক মর্মান্তিক দৃশ্য ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল।
পুরাতন মালদার মহিষবাথানী এলাকার বাসিন্দা নুরুল হকের ছোট ছেলে সারিকুল ইসলাম (২৬)। পরিবারের দাবি, জন্মের পর থেকেই তাঁর মানসিক সমস্যা ছিল। মাত্র সাত মাস বয়সেই পরিবারের সদস্যরা তাঁর আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন। পরে চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাঁচি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। তবে দীর্ঘ চিকিৎসাতেও পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হয়নি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে একবার ১০ দিনের জন্য নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন সারিকুল। সেই ঘটনার পর থেকেই তাঁকে আরও কড়া নজরদারিতে রাখেন পরিবারের সদস্যরা। বুধবার প্রতিবন্ধী শংসাপত্রের জন্য সারিকুলকে নিয়ে মালদা মেডিকেল কলেজে আসেন পরিবারের লোকজন। কিন্তু হাসপাতাল চত্বরে তাঁকে সামলাতে গিয়ে কার্যত হিমশিম খেতে হয় পরিবারের সদস্যদের।
পরিবারের দাবি, সারিকুল নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছিলেন না। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাধ্য হয়েই তাঁকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। সেই অবস্থাতেই তাঁকে টেনে নিয়ে যেতে দেখা যায় তাঁর দাদাকে। প্রতিরোধ করলে জুতো দিয়ে মারধরের দৃশ্যও নজরে আসে। পাশে ছিলেন তাঁর দিদি, তবে তিনিও পরিস্থিতি থামাতে এগিয়ে আসেননি।
ঘটনাটি ফের প্রশ্ন তুলেছে—মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও মানবিকভাবে দেখভালের জন্য পরিবারের পাশে আরও কার্যকর সহায়তা ব্যবস্থা কতটা জরুরি।
নতুন গতি 


























