২৪ অগাস্ট ২০২৬, সোমবার, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩
২৪ অগাস্ট ২০২৬, সোমবার, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩

ইথানল উৎপাদনের জ্বালায় বাজারে চিনির দাম অগ্নিমূল্য 

নিজস্ব প্রতিবেদন: কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের ইথানল নীতির কোপ এসে পড়েছে মধ্যবিত্তের হেঁশেলে। পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর সরকারি নীতির ফলেই আজ চিনির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম হু হু করে বাড়ছে বাজারে। এখন আখের রস চিনির উৎপাদনে নয়, সরাসরি ইথানল তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে বাজারে চিনির জোগান কম। তার ফলে বাড়ছে চিনির দাম। উৎসবের মরসুমের আগেই এই মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ও মিষ্টি ব্যবসায়ীরা পড়েছে বড়সড় সংকটের মুখে।
কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন নীতি হল, পেট্রোলে ইথানল মেশানো। তাই আখের রস থেকে ইথানল উৎপাদনে জোর দিয়েছে সরকার। তার ফলেই ঘটছে চিনির ঘাটতি। আখ থেকে চিনি কম তৈরি হচ্ছে। বাজারে চিনির আমদানি কম। খুচরো বাজারে চিনির দাম রেকর্ড বৃদ্ধি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে বিতর্ক। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, ভারতকে এখন চিনি আমদানির কথা ভাবতে হচ্ছে। অথচ এই ভারত চিনি রফতানির দেশ বলে পরিচিত। পরবর্তী পদক্ষেপে চাপে পড়ে চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার বিকল্প উৎস হিসেবে ভুট্টা বা চাল থেকে ইথানল তৈরির কথা ভাবছে। দাম কমাতে নীতি সংশোধনের চাপ বাড়াচ্ছে।
সমস্ত রাজ্যেই চিনির দাম অতিমাত্রায় বেড়েছে। কোথাও কোথাও চিনির দাম প্রতি কেজিতে বেড়ে হয়েছে ৬৫ টাকা। গত ১৫ দিনে চিনির দাম ১৫টাকা বেড়েছে। তার মধ্যে চাহিদার তুলনায় চিনির জোগান অর্ধেক। রাখিবন্ধন, গণেশ উৎসব, জন্মাষ্টমী, পুজো এবং দীপাবলির আগে চিনির দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। সম্প্রতি ‘চিনি মণ্ডি’র রিপোর্টে প্রকাশ, আখচাষ কম হয়নি দেশে। তারপরও উৎপাদন কম চিনির। কারণ ব্য়াখ্যা করতে গিয়ে ব্যবসায়ীরাই জানাচ্ছেন, চিনিকলগুলি এই মুহূর্তে ইথানল উৎপাদনে বেশি ঝুঁকেছে। ইথানলের জন্য আখ চলে যাচ্ছে। কারণ সেখানে মুনাফা বেশি। ই-২০ পেট্রোল ও অ্যালকোহল উৎপাদনকারীদের চাহিদার জোগান দিতে গিয়ে চিনির উৎপাদনে কোপ পড়ছে। এখন চিনির দাম বাড়লে উৎসবের মরশুমে মিষ্টির দামও বাড়বে। সরকার এখন ব্যবসায়ীদের চিনি মজুতের সীমা বেঁধে জোগান সমস্যা মেটাতে তৎপর, কিন্তু ইথানলে যে সমস্ত উৎপাদিত আখ চলে যাচ্ছে, সে ব্যাপারে ভ্রুক্ষেপ নেই কেন্দ্রের। ব্যবসায়ীদের বলা হয়েছে ১০ টনের বেশি চিনি মজুত করতে পারবে না। ১৫ দিনের বেশি স্টক মজুত রাখা যাবে না। কিন্তু তার মধ্যেও চিনির দামবৃদ্ধি আটকানো যাচ্ছে না। প্রসেসিং মিলে যাওয়ার আগেই প্রতি কুইন্টাল চিনির দাম ৫৪০০-৫৫০০ টাকায় পৌঁছে গিয়েছে। চিনিকলগুলি আর চিনি উৎপাদন করছে না শুধু। আখ থেকে ইথানল তৈরিতে বেশি মনোযোগী তারা। পেট্রোলে ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করাই তাদের উদ্দেশ্য। ইথানল উৎপাদনের ফলে চিনিকলগুলি আয়ের নতুন রাস্তা খুঁজে পেয়েছে। তাই চিনি উৎপাদনে তাঁদের মতি নেই।

ইথানল উৎপাদনের জ্বালায় বাজারে চিনির দাম অগ্নিমূল্য 

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

ইথানল উৎপাদনের জ্বালায় বাজারে চিনির দাম অগ্নিমূল্য 

আপডেট : ২৪ অগাস্ট ২০২৬, সোমবার
নিজস্ব প্রতিবেদন: কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের ইথানল নীতির কোপ এসে পড়েছে মধ্যবিত্তের হেঁশেলে। পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর সরকারি নীতির ফলেই আজ চিনির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম হু হু করে বাড়ছে বাজারে। এখন আখের রস চিনির উৎপাদনে নয়, সরাসরি ইথানল তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে বাজারে চিনির জোগান কম। তার ফলে বাড়ছে চিনির দাম। উৎসবের মরসুমের আগেই এই মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ও মিষ্টি ব্যবসায়ীরা পড়েছে বড়সড় সংকটের মুখে।
কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন নীতি হল, পেট্রোলে ইথানল মেশানো। তাই আখের রস থেকে ইথানল উৎপাদনে জোর দিয়েছে সরকার। তার ফলেই ঘটছে চিনির ঘাটতি। আখ থেকে চিনি কম তৈরি হচ্ছে। বাজারে চিনির আমদানি কম। খুচরো বাজারে চিনির দাম রেকর্ড বৃদ্ধি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে বিতর্ক। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, ভারতকে এখন চিনি আমদানির কথা ভাবতে হচ্ছে। অথচ এই ভারত চিনি রফতানির দেশ বলে পরিচিত। পরবর্তী পদক্ষেপে চাপে পড়ে চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার বিকল্প উৎস হিসেবে ভুট্টা বা চাল থেকে ইথানল তৈরির কথা ভাবছে। দাম কমাতে নীতি সংশোধনের চাপ বাড়াচ্ছে।
সমস্ত রাজ্যেই চিনির দাম অতিমাত্রায় বেড়েছে। কোথাও কোথাও চিনির দাম প্রতি কেজিতে বেড়ে হয়েছে ৬৫ টাকা। গত ১৫ দিনে চিনির দাম ১৫টাকা বেড়েছে। তার মধ্যে চাহিদার তুলনায় চিনির জোগান অর্ধেক। রাখিবন্ধন, গণেশ উৎসব, জন্মাষ্টমী, পুজো এবং দীপাবলির আগে চিনির দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। সম্প্রতি ‘চিনি মণ্ডি’র রিপোর্টে প্রকাশ, আখচাষ কম হয়নি দেশে। তারপরও উৎপাদন কম চিনির। কারণ ব্য়াখ্যা করতে গিয়ে ব্যবসায়ীরাই জানাচ্ছেন, চিনিকলগুলি এই মুহূর্তে ইথানল উৎপাদনে বেশি ঝুঁকেছে। ইথানলের জন্য আখ চলে যাচ্ছে। কারণ সেখানে মুনাফা বেশি। ই-২০ পেট্রোল ও অ্যালকোহল উৎপাদনকারীদের চাহিদার জোগান দিতে গিয়ে চিনির উৎপাদনে কোপ পড়ছে। এখন চিনির দাম বাড়লে উৎসবের মরশুমে মিষ্টির দামও বাড়বে। সরকার এখন ব্যবসায়ীদের চিনি মজুতের সীমা বেঁধে জোগান সমস্যা মেটাতে তৎপর, কিন্তু ইথানলে যে সমস্ত উৎপাদিত আখ চলে যাচ্ছে, সে ব্যাপারে ভ্রুক্ষেপ নেই কেন্দ্রের। ব্যবসায়ীদের বলা হয়েছে ১০ টনের বেশি চিনি মজুত করতে পারবে না। ১৫ দিনের বেশি স্টক মজুত রাখা যাবে না। কিন্তু তার মধ্যেও চিনির দামবৃদ্ধি আটকানো যাচ্ছে না। প্রসেসিং মিলে যাওয়ার আগেই প্রতি কুইন্টাল চিনির দাম ৫৪০০-৫৫০০ টাকায় পৌঁছে গিয়েছে। চিনিকলগুলি আর চিনি উৎপাদন করছে না শুধু। আখ থেকে ইথানল তৈরিতে বেশি মনোযোগী তারা। পেট্রোলে ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করাই তাদের উদ্দেশ্য। ইথানল উৎপাদনের ফলে চিনিকলগুলি আয়ের নতুন রাস্তা খুঁজে পেয়েছে। তাই চিনি উৎপাদনে তাঁদের মতি নেই।