২১ জুন ২০২৬, রবিবার, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩
২১ জুন ২০২৬, রবিবার, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩

‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গীরের পর এবার স্ত্রী, পুলিশের জালে রেজিনা বিবি

বিষ্ণুপুর: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা এলাকায় বহুল আলোচিত থানা হামলা-কাণ্ডে বড় সাফল্য পেল পুলিশ। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর অবশেষে জাহাঙ্গীর খানের স্ত্রী রেজিনা বিবিকে গ্রেফতার করল ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ। শনিবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে জুলপিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, ফলতা থানায় হামলা, উত্তেজনা ছড়ানো এবং অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর খানকে জোর করে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্রে রেজিনা বিবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

পুলিশের দাবি, ফলতা থানা চত্বরে ঘটে যাওয়া অশান্তির ঘটনার নেপথ্যে শুধু কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল সমর্থক নয়, বরং সুপরিকল্পিত একটি চক্র সক্রিয় ছিল। সেই চক্রের অন্যতম সংগঠক ছিলেন রেজিনা বিবি। অভিযোগ, তিনি নিজেই একদল লোকজনকে সংগঠিত করে থানায় নিয়ে আসেন এবং জাহাঙ্গীর খানকে মুক্ত করার দাবিতে চাপ সৃষ্টি করেন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একসময় তা পুলিশের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে পরিণত হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, হামলার সময় থানার বাইরে এবং ভিতরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করারও অভিযোগ রয়েছে। পুলিশকর্মীদের কাজে বাধা সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ। এই ঘটনায় একাধিক পুলিশকর্মী আহত হন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনার পরই থানায় দায়ের হয় একাধিক মামলা।
রেজিনা বিবির বিরুদ্ধে আগেই এফআইআর রুজু করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রয়েছে। শুধু তাই নয়, নতুন করে অস্ত্র আইন এবং বিস্ফোরক আইনের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, থানা ঘেরাওয়ের সময় হামলাকারীদের হাতে বিপজ্জনক অস্ত্র এবং বিস্ফোরক জাতীয় সামগ্রী থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। সেই সূত্র ধরেই আরও গভীর তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই রেজিনা বিবি আত্মগোপন করে ছিলেন। সম্ভাব্য একাধিক এলাকায় তল্লাশি চালানো হলেও প্রথমদিকে তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। অবশেষে গোপন সূত্রে খবর আসে যে তিনি জুলপিয়া এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে লুকিয়ে রয়েছেন। সেই খবরের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। পরিকল্পনা মাফিক অভিযান চালিয়ে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই তাকে আটক করা হয়।
তদন্তকারীদের অনুমান, রেজিনা বিবিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। বিশেষ করে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী কারা, কারা অর্থ বা লজিস্টিক সাহায্য দিয়েছিল, এবং ঘটনার দিন কারা সক্রিয়ভাবে হামলায় অংশ নিয়েছিল— সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য মিলতে পারে। ইতিমধ্যেই এই মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজন সন্দেহভাজনের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

পুলিশের একাংশের মতে, এই হামলা ছিল শুধুমাত্র তাৎক্ষণিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং প্রশাসনের উপর চাপ সৃষ্টি করে আইনকে প্রভাবিত করার একটি সংগঠিত চেষ্টা। সেই কারণে গোটা ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা ভাঙার যেকোনও প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন।

ধৃত রেজিনা বিবিকে আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে বলে সূত্রের খবর। তদন্ত যত এগোবে, ততই নতুন তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলতা থানা হামলা-কাণ্ডে রেজিনা বিবির গ্রেফতারি নিঃসন্দেহে তদন্তে নতুন মোড় আনল। পুলিশের আশা, এই গ্রেফতারির মাধ্যমে ঘটনার পেছনের বড় চক্রকে দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

রেললাইনের পাশে পড়ে যুবক, আত্মহত্যার চেষ্টা নাকি দুর্ঘটনা? ধোঁয়াশায় বামনহাট

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গীরের পর এবার স্ত্রী, পুলিশের জালে রেজিনা বিবি

আপডেট : ২০ জুন ২০২৬, শনিবার

বিষ্ণুপুর: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা এলাকায় বহুল আলোচিত থানা হামলা-কাণ্ডে বড় সাফল্য পেল পুলিশ। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর অবশেষে জাহাঙ্গীর খানের স্ত্রী রেজিনা বিবিকে গ্রেফতার করল ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ। শনিবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে জুলপিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, ফলতা থানায় হামলা, উত্তেজনা ছড়ানো এবং অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর খানকে জোর করে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্রে রেজিনা বিবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

পুলিশের দাবি, ফলতা থানা চত্বরে ঘটে যাওয়া অশান্তির ঘটনার নেপথ্যে শুধু কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল সমর্থক নয়, বরং সুপরিকল্পিত একটি চক্র সক্রিয় ছিল। সেই চক্রের অন্যতম সংগঠক ছিলেন রেজিনা বিবি। অভিযোগ, তিনি নিজেই একদল লোকজনকে সংগঠিত করে থানায় নিয়ে আসেন এবং জাহাঙ্গীর খানকে মুক্ত করার দাবিতে চাপ সৃষ্টি করেন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একসময় তা পুলিশের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে পরিণত হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, হামলার সময় থানার বাইরে এবং ভিতরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করারও অভিযোগ রয়েছে। পুলিশকর্মীদের কাজে বাধা সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ। এই ঘটনায় একাধিক পুলিশকর্মী আহত হন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনার পরই থানায় দায়ের হয় একাধিক মামলা।
রেজিনা বিবির বিরুদ্ধে আগেই এফআইআর রুজু করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রয়েছে। শুধু তাই নয়, নতুন করে অস্ত্র আইন এবং বিস্ফোরক আইনের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, থানা ঘেরাওয়ের সময় হামলাকারীদের হাতে বিপজ্জনক অস্ত্র এবং বিস্ফোরক জাতীয় সামগ্রী থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। সেই সূত্র ধরেই আরও গভীর তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই রেজিনা বিবি আত্মগোপন করে ছিলেন। সম্ভাব্য একাধিক এলাকায় তল্লাশি চালানো হলেও প্রথমদিকে তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। অবশেষে গোপন সূত্রে খবর আসে যে তিনি জুলপিয়া এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে লুকিয়ে রয়েছেন। সেই খবরের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। পরিকল্পনা মাফিক অভিযান চালিয়ে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই তাকে আটক করা হয়।
তদন্তকারীদের অনুমান, রেজিনা বিবিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। বিশেষ করে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী কারা, কারা অর্থ বা লজিস্টিক সাহায্য দিয়েছিল, এবং ঘটনার দিন কারা সক্রিয়ভাবে হামলায় অংশ নিয়েছিল— সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য মিলতে পারে। ইতিমধ্যেই এই মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজন সন্দেহভাজনের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

পুলিশের একাংশের মতে, এই হামলা ছিল শুধুমাত্র তাৎক্ষণিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং প্রশাসনের উপর চাপ সৃষ্টি করে আইনকে প্রভাবিত করার একটি সংগঠিত চেষ্টা। সেই কারণে গোটা ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা ভাঙার যেকোনও প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন।

ধৃত রেজিনা বিবিকে আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে বলে সূত্রের খবর। তদন্ত যত এগোবে, ততই নতুন তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলতা থানা হামলা-কাণ্ডে রেজিনা বিবির গ্রেফতারি নিঃসন্দেহে তদন্তে নতুন মোড় আনল। পুলিশের আশা, এই গ্রেফতারির মাধ্যমে ঘটনার পেছনের বড় চক্রকে দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।