নিউজ ডেস্ক: “দেশটা কোনও ধর্মশালা নয়। এখানে শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকরাই থাকবেন।” দিল্লিতে আইবির একটি কনফারেন্সে এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ‘জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল’ সংক্রান্ত এই সম্মেলনের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে আগামী দু’ দশক, অর্থাৎ ২০৪৭ সাল পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়েও ব্লু-প্রিন্ট পেশ করলেন তিনি। শাহ বলেন, “একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি সরাসরি তার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। দেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপদ পরিবেশ না থাকলে উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব নয়। ২০৪৭ সালের উন্নত ভারতের লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করা জরুরি।”
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ‘অনুপ্রবেশমুক্ত’ দেশ গঠনের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রচার চালিয়ে আসছে বিজেপি। সম্প্রতি দেশের সীমান্তবর্তী দুই রাজ্য বাংলা এবং আসামের নির্বাচনেও অনুপ্রবেশ নিয়ে সুর চড়িয়েছে তারা। যদিও বিষয়টিকে তাঁরা যে নির্বাচনী অ্যাজেন্ডার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চান না, এদিনের অনুষ্ঠান থেকে তা আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “এই দেশটা কোনও ধর্মশালা নয়। এই দেশে বসবাস করার এবং সুবিধা পাওয়ার অধিকার কেবল ভারতের নাগরিকদেরই রয়েছে।” অনুপ্রবেশকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা, দেশের অর্থনীতি এবং জনবিন্যাসের জন্য মারাত্মক হুমকি’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
তবে শুধু অনুপ্রবেশই নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোর দিকেও গুরুত্ব সহকারে নজর দেবার ব্যাপারে আলোকপাত করেছেন অমিত শাহ। তাঁর সাফ কথা, “আগের সরকারগুলো যদি মাদক পাচার, নকশালবাদ, উত্তর-পূর্বের অশান্তি নিয়ে সময় থাকতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করত, তাহলে হয়তো দেশকে এত কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হত না। দূরদর্শিতার অভাবেই দেশের সামনে এত কঠিন চ্যালেঞ্জ।” তিনি আরও যোগ করেন, “উন্নত ভারতের জন্য চায় দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার পরিকল্পনা। অন্তত ১৫-২০ বছরের জন্য নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণ করা দরকার।”
দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ভূমিকা কী, সেই বিষয়টিও এদিন ব্যাখ্যা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সিসিটিএনএস, আইসিজেএস, ন্যাটগ্রিড এবং নাফিস-এর মতো তথ্যভাণ্ডার যুক্ত করে এক শক্তিশালী গোয়েন্দা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হয়েছে।”
যারা একাধিক আর্থিক তছরুপের মামলায় অপরাধী এবং রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কগুলো থেকে নেওয়া ঋণ শোধ না করে বিদেশে পালিয়েছে, তাদের ফিরিয়ে আনার হুঁশিয়ারি দিয়ে শাহ বলেন, “২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ২৭৪ জন আর্থিক অপরাধ মামলায় অভিযুক্ত এবং পলাতককে বিদেশ থেকে ভারতে প্রত্যর্পণ বা নির্বাসিত করা সম্ভব হয়েছে।”
নতুন গতি 




























