নাজমুস সাহাদাত, নতুন গতি, মালদহ: ভোটপর্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচনের আগে মালদহের ইংরেজবাজার ব্লকের দামোদরপুর এলাকার শান্তা দেব্যা হাইস্কুলে মোতায়েন করা হয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী, কিন্তু ভোট মিটে যাওয়ার পরও এখনও স্কুল চত্বরে রয়ে গেছে সেই বাহিনী। ফলে টানা প্রায় চার মাস ধরে বন্ধ রয়েছে স্কুলের পঠন-পাঠন। এতে চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন প্রায় ৮৫০ ছাত্রছাত্রী, উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবক ও শিক্ষক মহলেও।
শান্তা দেব্যা হাইস্কুলে প্রায় ৮৫০ জন ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে। এদের মধ্যে অধিকাংশই আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের সন্তান। অনেকেরই প্রাইভেট টিউশন নেওয়ার সামর্থ্য নেই। ফলে স্কুলের নিয়মিত পাঠদানই তাদের শিক্ষার প্রধান ভরসা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে স্কুল বন্ধ থাকায় সেই ভরসাও ভেঙে পড়েছে।
শুধু পাঠদানই নয়, কেন্দ্রীয় বাহিনীর অবস্থানের কারণে স্কুলে দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষাও নেওয়া সম্ভব হয়নি। অন্য স্কুলগুলিতে যেখানে নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে, সেখানে এই স্কুলের পড়ুয়ারা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পড়ুয়াদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। স্কুলে যেতে না পারায় অনেকেই পড়াশোনার ধারাবাহিকতা হারিয়ে ফেলছে। অভিভাবকদের দাবি, দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করে স্কুল খুলে দেওয়া হোক।
এ বিষয়ে শান্তা দেব্যা হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মনোজ মণ্ডল জানান, ভোটের আগেই স্কুলে কেন্দ্রীয় বাহিনী আসে। পরে গরমের ছুটির সময় বাহিনী সরে গেলেও ১ জুন থেকে স্কুলে পাঠদান শুরু হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই, ১৩ জুন ফের কেন্দ্রীয় বাহিনী স্কুলে এসে ওঠে। সেই সময় থেকেই পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে স্কুল।
তিনি বলেন, “দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। স্কুল বন্ধ থাকায় ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তারা অনেকটাই পিছিয়ে পড়ছে। দ্রুত স্কুল খুলে দেওয়ার জন্য আমরা জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছি।” মালদহ জেলা পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি জেলাশাসকের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জন্য বিকল্প জায়গা পাওয়া গেলে দ্রুত তাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে এবং স্কুলে স্বাভাবিক পঠন-পাঠন শুরু করার ব্যবস্থা করা হবে।
চার মাস ধরে একটি স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার উপর যে গভীর প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন পড়ুয়া, অভিভাবক এবং শিক্ষকরা।
নতুন গতি 























