৩০ মে ২০২৬, শনিবার, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
৩০ মে ২০২৬, শনিবার, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিবর্তনের মাধ্যমে পরিবর্তিত বাঙালি সংস্কৃতি

নবাব মল্লিক, দক্ষিণ ২৪ পরগণা: বর্তমান প্রযুক্তি যত এগোচ্ছে মানুষ তত উন্নত থেকে উন্নততর হয়ে উঠছে।আর সাথে সাথে বদল ঘটছে মানুষের দৈনন্দিন জীবণযাপনের রীতিনীতির। ফলে দ্রুত বদলে যাচ্ছে সংস্কৃতির রূপ। ধরা যাক চড়ক উৎসবের কথাই, কি ছিল আর কী হল এ সম্পর্কে আলোকপাত করলেই বোঝা যাবে পরিবর্তনের পরিবর্তিত রূপটি। গ্রামবাংলার চড়ক উৎসব‌ যেটি বছরের শেষ লগ্নে অনুষ্ঠিত হয়। যার মাধ্যমে একটি বছরের সমাপ্তি ও অপর বছরের সূচনার মেলবন্ধন ঘটে। যদিও চড়ক হিন্দু সমাজের লোকসংস্কৃতি। পূজায় অংশগ্রহণকারী সন্ন্যাসীরা হিন্দুধর্মের কথিত নীচু সম্প্রদায়ের লোক।তাই এই পূজায় কখনও ব্রাহ্মনের প্রয়োজন পড়ে না। একটা সময় ছিল যখন চড়ক উৎসবে মা ঠাকুমারা বছরের শেষ দিনে মিলন উৎসবে মেতে উঠৎ সারা রাত্রি জুড়ে দেখত গাজন গান।

তবে এখন সে সব অতীত। চড়ক, বাংলা বর্ষবরণ ঢেকেছে হিন্দি ডিজে গানের রিমিক্স সুরে। কোথায় সন্ধ্যা থেকেই বসছে চটুল নাচগানের আয়োজন। স্বল্পবসনা নর্তকীর নৃত্যের তালে দুলছে আট থেকে আশি। মঞ্চে চলছে ভোজপুরি গান, হচ্ছে বাংলা বর্ষবরণ। তবে বাঙালি থেকে বং হয়ে ওঠা কিছু ব্যক্তির কথায় এটি না হলে যুগের সাথে তাল মেলানো যায়না। ও সব কমবয়সীদের জন্য। তাছাড়া এতো সবসময় হয় না, আপনাদের বাঙালি সংস্কৃতি গাজন তো রয়েছেই। এখানে বলা ভালো এ গাজন সে গাজন নয় এ গাজনের কথায় কথায় অশ্লীল ইঙ্গিত আর তীর্যক কথাবার্তা। সঙ্গে রয়েছে বাঙালির বাউল যার মাঝে চলছে “দমাদম মস্তকলন্দর”। বাউল সম্প্রদায়কে জিজ্ঞাসা করলেই সোজা উত্তর লোক যা চাচ্ছে তাই তারা করছেন। এ কথার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত বাঙালির সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটছে ধীরে ধীরে। এবং বিবর্তনের সেই বিখ্যাত সূত্র অনুযায়ী কালের অমোঘ নিয়মে পরবর্তিত পরিবেশে খাপ খাওয়াতে না পেরে ধীরে ধীরে বিলুপ্তি ঘটছে তার।

পরিকে উদ্ধার করে মায়ের হাতে ফিরিয়ে দিল রাজনগর থানার পুলিশ

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বিবর্তনের মাধ্যমে পরিবর্তিত বাঙালি সংস্কৃতি

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০১৯, সোমবার

নবাব মল্লিক, দক্ষিণ ২৪ পরগণা: বর্তমান প্রযুক্তি যত এগোচ্ছে মানুষ তত উন্নত থেকে উন্নততর হয়ে উঠছে।আর সাথে সাথে বদল ঘটছে মানুষের দৈনন্দিন জীবণযাপনের রীতিনীতির। ফলে দ্রুত বদলে যাচ্ছে সংস্কৃতির রূপ। ধরা যাক চড়ক উৎসবের কথাই, কি ছিল আর কী হল এ সম্পর্কে আলোকপাত করলেই বোঝা যাবে পরিবর্তনের পরিবর্তিত রূপটি। গ্রামবাংলার চড়ক উৎসব‌ যেটি বছরের শেষ লগ্নে অনুষ্ঠিত হয়। যার মাধ্যমে একটি বছরের সমাপ্তি ও অপর বছরের সূচনার মেলবন্ধন ঘটে। যদিও চড়ক হিন্দু সমাজের লোকসংস্কৃতি। পূজায় অংশগ্রহণকারী সন্ন্যাসীরা হিন্দুধর্মের কথিত নীচু সম্প্রদায়ের লোক।তাই এই পূজায় কখনও ব্রাহ্মনের প্রয়োজন পড়ে না। একটা সময় ছিল যখন চড়ক উৎসবে মা ঠাকুমারা বছরের শেষ দিনে মিলন উৎসবে মেতে উঠৎ সারা রাত্রি জুড়ে দেখত গাজন গান।

তবে এখন সে সব অতীত। চড়ক, বাংলা বর্ষবরণ ঢেকেছে হিন্দি ডিজে গানের রিমিক্স সুরে। কোথায় সন্ধ্যা থেকেই বসছে চটুল নাচগানের আয়োজন। স্বল্পবসনা নর্তকীর নৃত্যের তালে দুলছে আট থেকে আশি। মঞ্চে চলছে ভোজপুরি গান, হচ্ছে বাংলা বর্ষবরণ। তবে বাঙালি থেকে বং হয়ে ওঠা কিছু ব্যক্তির কথায় এটি না হলে যুগের সাথে তাল মেলানো যায়না। ও সব কমবয়সীদের জন্য। তাছাড়া এতো সবসময় হয় না, আপনাদের বাঙালি সংস্কৃতি গাজন তো রয়েছেই। এখানে বলা ভালো এ গাজন সে গাজন নয় এ গাজনের কথায় কথায় অশ্লীল ইঙ্গিত আর তীর্যক কথাবার্তা। সঙ্গে রয়েছে বাঙালির বাউল যার মাঝে চলছে “দমাদম মস্তকলন্দর”। বাউল সম্প্রদায়কে জিজ্ঞাসা করলেই সোজা উত্তর লোক যা চাচ্ছে তাই তারা করছেন। এ কথার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত বাঙালির সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটছে ধীরে ধীরে। এবং বিবর্তনের সেই বিখ্যাত সূত্র অনুযায়ী কালের অমোঘ নিয়মে পরবর্তিত পরিবেশে খাপ খাওয়াতে না পেরে ধীরে ধীরে বিলুপ্তি ঘটছে তার।