৩০ মে ২০২৬, শনিবার, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
৩০ মে ২০২৬, শনিবার, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ভাষা ও ধর্ম ভুলে তীর্থযাত্রীদের বিপদে সাহায্যে বাঙালীরা

আজিজুর রহমান : পূর্ব বর্ধমান,ভাষা ও জাতপাতের বিভাজন যেখানে আজও দেশের বহু প্রান্তে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু, সেখানে পূর্ব বর্ধমানে দেখা গেল এক ভিন্ন চিত্র। ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতদের সবরকম ভাবে সাহায্য করলেন বর্ধমানের বাংলা ভাষীরা। তাদের মধ্যে অধিকাংশই মুসলিম যুবক। ভাষা ও ধর্ম ভুলে ছুটে এসে উদ্ধার কাজে লাগলেন জিয়াউর রহমান, সেখ ওমর ফারুক, সেখ লালবাবু, সেখ ঝন্টু, আজিম মন্ডল, সহ অনেকেই। দুর্ঘটনাস্থলে পুলিশ আসার আগেই দৌড়ে এসে বাসের গেট শাবল দিয়ে খুলতে শুরু করেন। জানলার কাঁচ ভেঙে নিজেদের প্রানের ঝুঁকি নিয়ে আহতদের উদ্ধার করে বের করে আনেন। তারা জানিয়েছেন, গঙ্গাসাগর থেকে পূর্ণস্নান করে ৪৫ জন তীর্থযাত্রী নিয়ে বিহার ফিরছিল একটি বেসরকারি বাস। ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের বর্ধমান থানার নলা ফেরিঘাটের কাছে আসতেই নিয়ন্ত্রণ হারায় বাসটি। এরপরই দাড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। মুহূর্তের মধ্যে চিৎকার, আর্তনাদে ভরে ওঠে চারপাশ। ঘটনার জেরে দুমড়ে মুচড়ে যায় বাসটি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে কমবেশি ১০ জনের। গুরুতর আহত হয়েছেন ৩৫ জন। যাদের মধ্যে পাঁচটি শিশু রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে আহতদের উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। যখন বাংলা ভাষীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নির্যাতনের স্মিকার হচ্ছেন ঠিক সেই সময়ে ভাষা ও ধর্মের বিভেদ ভুলে মানবিকতা দেখালেন বর্ধমানের বাঙালীরা। মানবিকতায় এগিয়ে আসা এসব মানুষের অধিকাংশই বাংলা ভাষী। তবুও, ভাষা বা রাজ্যের সীমারেখা নয় তাঁদের কাছে বড় ছিল মানুষের জীবন রক্ষা। হিন্দু-মুসলিম একসঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে এই উদ্ধারকাজ চালিয়ে যান। এই ঘটনা ফের প্রমাণ করল, বাংলা ভাষীরা কেবল নিজের নয়, অন্যের দুঃসময়েও সমানভাবে পাশে দাঁড়ান। ভাষার বিভেদ নয়, মানবিকতাই তাঁদের আসল পরিচয়।

পরিকে উদ্ধার করে মায়ের হাতে ফিরিয়ে দিল রাজনগর থানার পুলিশ

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

ভাষা ও ধর্ম ভুলে তীর্থযাত্রীদের বিপদে সাহায্যে বাঙালীরা

আপডেট : ১৫ অগাস্ট ২০২৫, শুক্রবার

আজিজুর রহমান : পূর্ব বর্ধমান,ভাষা ও জাতপাতের বিভাজন যেখানে আজও দেশের বহু প্রান্তে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু, সেখানে পূর্ব বর্ধমানে দেখা গেল এক ভিন্ন চিত্র। ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতদের সবরকম ভাবে সাহায্য করলেন বর্ধমানের বাংলা ভাষীরা। তাদের মধ্যে অধিকাংশই মুসলিম যুবক। ভাষা ও ধর্ম ভুলে ছুটে এসে উদ্ধার কাজে লাগলেন জিয়াউর রহমান, সেখ ওমর ফারুক, সেখ লালবাবু, সেখ ঝন্টু, আজিম মন্ডল, সহ অনেকেই। দুর্ঘটনাস্থলে পুলিশ আসার আগেই দৌড়ে এসে বাসের গেট শাবল দিয়ে খুলতে শুরু করেন। জানলার কাঁচ ভেঙে নিজেদের প্রানের ঝুঁকি নিয়ে আহতদের উদ্ধার করে বের করে আনেন। তারা জানিয়েছেন, গঙ্গাসাগর থেকে পূর্ণস্নান করে ৪৫ জন তীর্থযাত্রী নিয়ে বিহার ফিরছিল একটি বেসরকারি বাস। ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের বর্ধমান থানার নলা ফেরিঘাটের কাছে আসতেই নিয়ন্ত্রণ হারায় বাসটি। এরপরই দাড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। মুহূর্তের মধ্যে চিৎকার, আর্তনাদে ভরে ওঠে চারপাশ। ঘটনার জেরে দুমড়ে মুচড়ে যায় বাসটি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে কমবেশি ১০ জনের। গুরুতর আহত হয়েছেন ৩৫ জন। যাদের মধ্যে পাঁচটি শিশু রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে আহতদের উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। যখন বাংলা ভাষীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নির্যাতনের স্মিকার হচ্ছেন ঠিক সেই সময়ে ভাষা ও ধর্মের বিভেদ ভুলে মানবিকতা দেখালেন বর্ধমানের বাঙালীরা। মানবিকতায় এগিয়ে আসা এসব মানুষের অধিকাংশই বাংলা ভাষী। তবুও, ভাষা বা রাজ্যের সীমারেখা নয় তাঁদের কাছে বড় ছিল মানুষের জীবন রক্ষা। হিন্দু-মুসলিম একসঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে এই উদ্ধারকাজ চালিয়ে যান। এই ঘটনা ফের প্রমাণ করল, বাংলা ভাষীরা কেবল নিজের নয়, অন্যের দুঃসময়েও সমানভাবে পাশে দাঁড়ান। ভাষার বিভেদ নয়, মানবিকতাই তাঁদের আসল পরিচয়।