৩১ অগাস্ট ২০২৬, সোমবার, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
৩১ অগাস্ট ২০২৬, সোমবার, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

সরকারি ত্রাণের ত্রিপল বিতরণে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে মানিকচকে রাজনৈতিক চাপানউতোর

পার্থ ঝা,মানিকচক: গঙ্গাভাঙন ও বন্যায় বিপর্যস্ত এলাকায় সরকারি ত্রাণের ত্রিপল বিতরণে টাকা নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদার মানিকচক ব্লকে। অভিযোগ, সরকারি ত্রাণের ত্রিপল নিতে গেলে উপভোক্তাদের কাছ থেকে ৫০ টাকা, কোথাও আবার ১০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এই অভিযোগের একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যদিও ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা আমাদের সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে যাচাই করা হয়নি। ঘটনাটি মানিকচক ব্লকের হিরানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত গোদাই এলাকার ১ নম্বর বুথের বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই বুথের নির্দল সদস্য সুবিতা মাহাতোর স্বামী নিমাই মাহাতো সরকারি ত্রাণের ত্রিপল বিতরণের সময় উপভোক্তাদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্তমানে গদাই এলাকা বন্যা ও গঙ্গাভাঙনের কবলে। বহু পরিবারের ঘরবাড়ি ও চাষের জমি নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি ত্রাণের ত্রিপল পাওয়ার জন্য বাড়ি পিছু ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। তাঁদের প্রশ্ন, সর্বস্ব হারিয়ে এই টাকা তাঁরা কোথা থেকে দেবেন? টাকা দিতে না পারলে তাঁদের সরকারি ত্রাণের ত্রিপল দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা। যদিও অন্যদিকে নির্দল সদস্যের স্বামী নিমাই মাহাতো পুরো অভিযোগটা অস্বীকার করেন।
ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই সরব হয়েছেন মানিকচক বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল। তিনি সরকারি ত্রাণসামগ্রী বিতরণে কোনও ধরনের ‘কাটমানি’ বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ভাঙনকবলিত মানুষের জন্য তিনি বিধায়ক হিসেবে প্রায় সাড়ে ৬০০টি সরকারি ত্রাণের ত্রিপল পাঠিয়েছেন। কয়েকটি বুথের মানুষের মধ্যে সেগুলি বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় নয়, ভাঙনকবলিত এলাকার প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক মানুষের কাছে সরকারি ত্রাণের ত্রিপল পৌঁছে দেওয়া উচিত বলেও জানান তিনি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিধায়ক।
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তদন্ত শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত জেলাশাসক জানিয়েছেন, বিডিওকে দিয়ে ঘটনার তদন্ত করানো হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি ত্রাণসামগ্রী বিতরণে সত্যিই টাকা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। তবে অভিযোগ ও ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই মানিকচকের ভাঙনকবলিত এলাকায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

“প্রে ফর নেপাল” চুঁচুড়ায় মানবতার বার্তা নারী শক্তি’র

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

সরকারি ত্রাণের ত্রিপল বিতরণে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে মানিকচকে রাজনৈতিক চাপানউতোর

আপডেট : ৩১ অগাস্ট ২০২৬, সোমবার
পার্থ ঝা,মানিকচক: গঙ্গাভাঙন ও বন্যায় বিপর্যস্ত এলাকায় সরকারি ত্রাণের ত্রিপল বিতরণে টাকা নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদার মানিকচক ব্লকে। অভিযোগ, সরকারি ত্রাণের ত্রিপল নিতে গেলে উপভোক্তাদের কাছ থেকে ৫০ টাকা, কোথাও আবার ১০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এই অভিযোগের একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যদিও ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা আমাদের সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে যাচাই করা হয়নি। ঘটনাটি মানিকচক ব্লকের হিরানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত গোদাই এলাকার ১ নম্বর বুথের বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই বুথের নির্দল সদস্য সুবিতা মাহাতোর স্বামী নিমাই মাহাতো সরকারি ত্রাণের ত্রিপল বিতরণের সময় উপভোক্তাদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্তমানে গদাই এলাকা বন্যা ও গঙ্গাভাঙনের কবলে। বহু পরিবারের ঘরবাড়ি ও চাষের জমি নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি ত্রাণের ত্রিপল পাওয়ার জন্য বাড়ি পিছু ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। তাঁদের প্রশ্ন, সর্বস্ব হারিয়ে এই টাকা তাঁরা কোথা থেকে দেবেন? টাকা দিতে না পারলে তাঁদের সরকারি ত্রাণের ত্রিপল দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা। যদিও অন্যদিকে নির্দল সদস্যের স্বামী নিমাই মাহাতো পুরো অভিযোগটা অস্বীকার করেন।
ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই সরব হয়েছেন মানিকচক বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল। তিনি সরকারি ত্রাণসামগ্রী বিতরণে কোনও ধরনের ‘কাটমানি’ বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ভাঙনকবলিত মানুষের জন্য তিনি বিধায়ক হিসেবে প্রায় সাড়ে ৬০০টি সরকারি ত্রাণের ত্রিপল পাঠিয়েছেন। কয়েকটি বুথের মানুষের মধ্যে সেগুলি বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় নয়, ভাঙনকবলিত এলাকার প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক মানুষের কাছে সরকারি ত্রাণের ত্রিপল পৌঁছে দেওয়া উচিত বলেও জানান তিনি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিধায়ক।
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তদন্ত শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত জেলাশাসক জানিয়েছেন, বিডিওকে দিয়ে ঘটনার তদন্ত করানো হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি ত্রাণসামগ্রী বিতরণে সত্যিই টাকা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। তবে অভিযোগ ও ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই মানিকচকের ভাঙনকবলিত এলাকায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।