২৭ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
২৭ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩

আজ নন্দীগ্রামে অনুঘটকের কাজ করতে পারে মুসলিম ভোট

নতুন গতি নিউজ ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ২য় দফার ভোট আজ। ভোটে নন্দীগ্রাম কে বলা হয় রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে হাই ভোল্টেজ জায়গা। তার আগে বুধবার নির্বাচন কমিশন নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে জারি করেছে ১৪৪ ধারা। সেই সঙ্গে আকাশপথে নজরদারি শুরু হয়েছে। হেলিকপ্টার চক্কর মারছে গোটা এলাকা। নন্দীগ্রাম জুড়ে এখন যুদ্ধের আবহ। এখন প্রশ্ন মমতা না শুভেন্দু জিতবেন কে?

প্রথমত বলে রাখা দরকার, নন্দীগ্রাম-১ ও নন্দীগ্রাম-২ নম্বর ব্লক মিলিয়ে নন্দীগ্রাম বিধানসভার ভোট। এ বারের নন্দীগ্রাম বিধানসভা নির্বাচনে সবচেয়ে বিশেষ অনুঘটকের কাজ করতে পারে মুসলিম ভোট। ২০১১ জনগণনা অনুযায়ী নন্দীগ্রাম-১ ব্লকে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৩৪ শতাংশ, আর নন্দীগ্রাম-২ ব্লকে মুসলিম জনসংখ্যা ১২ শতাংশ। গত ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, নন্দীগ্রাম-১ ব্লকে তৃণমূল কংগ্রেস ভোট পায় প্রায় ৭১.৭০ শতাংশ, বামেরা ২১.২০ শতাংশ ও বিজেপি ৫.৭২ শতাংশ। আর নন্দীগ্রাম-২ ব্লকে পেয়েছিল তৃণমূল ৫৯.৫ শতাংশ, বামেরা ৩৪.২৩ শতাংশ ও বিজেপি ৫.৭৪ শতাংশ।

কিন্তু ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে তার পরিবর্তন হয়। লোকসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম-১ ব্লকে তৃণমূল কংগ্রেস ভোট পায় প্রায় ৬৬.২৪ শতাংশ, বামেরা ৩.৭৯ শতাংশ ও বিজেপি ২৭.১০ শতাংশ। আর নন্দীগ্রাম-২ ব্লকে পেয়েছিল তৃণমূল ৫৭.৩৭ শতাংশ, বামেরা ৫.৬০ শতাংশ ও বিজেপি ৩৪.৫০ শতাংশ। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে মুসলিম আধিক্য থাকা নন্দীগ্রাম-১ ব্লকে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের ভোট ৫ শতাংশ কমলেও নন্দীগ্রাম-২ ব্লকে কমেছে মাত্র ২ শতাংশ। ফলে লোকসভায় সেভাবে ভরাডুবি হয়নি তৃণমূলের। যদিও বুথের নিরিখে দেখা যায় তাহলে দেখা যাবে ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমুল কংগ্রেস নন্দীগ্রামে ২৬৪টি বুথে এগিয়েছিল। আর ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে ২৪৪টি বুথে এগিয়েছি। বিজেপি ২০১৬ বিধানসভা ভোটে কল্কে না পেলেও লোকসভা নির্বাচনে ৩৪টি বুথে এগিয়েছিল। সেক্ষেত্রে তাদের এই জয়ের মূলে ছিল বাম ভোটে ধস। বিধানসভার নিরিখে বামেদের ভোট ৩৪.২৩ শতাংশ থেকে লোকসভা ভোটে নেমে এসেছিল ৫.৬ শতাংশ। তাই বামেরা তাদের জমিন কিছুটা ফিরে পেলে আখেরে তৃণমূলের লাভ। তবে পরিসংখ্যান বলছে ২০১৯-এর লোকসভা নির্বোচনে বিজেপির ভোট বাড়লেও তৃণমূলের কিন্তু হিন্দু ভোট তেমন কমেনি, প্রায় অটুট ছিল মুসলিম ভোট।

তাই সেই বিজেপি ৩৪টা থেকে কতটা এগোতে পারবেন শুভেন্দু সেটাই প্রশ্ন। কারণ, ৩৪টি বুথ থেকে এক লাফে অন্তত আরও ১০০টি বুথে এগিয়ে যেতে না পারলে শুভেন্দুর পক্ষে পাল্লা নেওয়া মুশকিল। যেহেতু মমতা প্রার্থী তাই এতগুলো বুথে এগনো প্রায় অসম্ভব মনে হওয়ায় মমতাই যে অনেক এগিয়ে তা পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে।

সিউড়িতে ধর্ষণ অভিযোগে বিজেপি নেতা গ্রেফতার, চাঞ্চল্য বীরভূমে

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

আজ নন্দীগ্রামে অনুঘটকের কাজ করতে পারে মুসলিম ভোট

আপডেট : ১ এপ্রিল ২০২১, বৃহস্পতিবার

নতুন গতি নিউজ ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ২য় দফার ভোট আজ। ভোটে নন্দীগ্রাম কে বলা হয় রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে হাই ভোল্টেজ জায়গা। তার আগে বুধবার নির্বাচন কমিশন নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে জারি করেছে ১৪৪ ধারা। সেই সঙ্গে আকাশপথে নজরদারি শুরু হয়েছে। হেলিকপ্টার চক্কর মারছে গোটা এলাকা। নন্দীগ্রাম জুড়ে এখন যুদ্ধের আবহ। এখন প্রশ্ন মমতা না শুভেন্দু জিতবেন কে?

প্রথমত বলে রাখা দরকার, নন্দীগ্রাম-১ ও নন্দীগ্রাম-২ নম্বর ব্লক মিলিয়ে নন্দীগ্রাম বিধানসভার ভোট। এ বারের নন্দীগ্রাম বিধানসভা নির্বাচনে সবচেয়ে বিশেষ অনুঘটকের কাজ করতে পারে মুসলিম ভোট। ২০১১ জনগণনা অনুযায়ী নন্দীগ্রাম-১ ব্লকে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৩৪ শতাংশ, আর নন্দীগ্রাম-২ ব্লকে মুসলিম জনসংখ্যা ১২ শতাংশ। গত ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, নন্দীগ্রাম-১ ব্লকে তৃণমূল কংগ্রেস ভোট পায় প্রায় ৭১.৭০ শতাংশ, বামেরা ২১.২০ শতাংশ ও বিজেপি ৫.৭২ শতাংশ। আর নন্দীগ্রাম-২ ব্লকে পেয়েছিল তৃণমূল ৫৯.৫ শতাংশ, বামেরা ৩৪.২৩ শতাংশ ও বিজেপি ৫.৭৪ শতাংশ।

কিন্তু ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে তার পরিবর্তন হয়। লোকসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম-১ ব্লকে তৃণমূল কংগ্রেস ভোট পায় প্রায় ৬৬.২৪ শতাংশ, বামেরা ৩.৭৯ শতাংশ ও বিজেপি ২৭.১০ শতাংশ। আর নন্দীগ্রাম-২ ব্লকে পেয়েছিল তৃণমূল ৫৭.৩৭ শতাংশ, বামেরা ৫.৬০ শতাংশ ও বিজেপি ৩৪.৫০ শতাংশ। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে মুসলিম আধিক্য থাকা নন্দীগ্রাম-১ ব্লকে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের ভোট ৫ শতাংশ কমলেও নন্দীগ্রাম-২ ব্লকে কমেছে মাত্র ২ শতাংশ। ফলে লোকসভায় সেভাবে ভরাডুবি হয়নি তৃণমূলের। যদিও বুথের নিরিখে দেখা যায় তাহলে দেখা যাবে ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমুল কংগ্রেস নন্দীগ্রামে ২৬৪টি বুথে এগিয়েছিল। আর ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে ২৪৪টি বুথে এগিয়েছি। বিজেপি ২০১৬ বিধানসভা ভোটে কল্কে না পেলেও লোকসভা নির্বাচনে ৩৪টি বুথে এগিয়েছিল। সেক্ষেত্রে তাদের এই জয়ের মূলে ছিল বাম ভোটে ধস। বিধানসভার নিরিখে বামেদের ভোট ৩৪.২৩ শতাংশ থেকে লোকসভা ভোটে নেমে এসেছিল ৫.৬ শতাংশ। তাই বামেরা তাদের জমিন কিছুটা ফিরে পেলে আখেরে তৃণমূলের লাভ। তবে পরিসংখ্যান বলছে ২০১৯-এর লোকসভা নির্বোচনে বিজেপির ভোট বাড়লেও তৃণমূলের কিন্তু হিন্দু ভোট তেমন কমেনি, প্রায় অটুট ছিল মুসলিম ভোট।

তাই সেই বিজেপি ৩৪টা থেকে কতটা এগোতে পারবেন শুভেন্দু সেটাই প্রশ্ন। কারণ, ৩৪টি বুথ থেকে এক লাফে অন্তত আরও ১০০টি বুথে এগিয়ে যেতে না পারলে শুভেন্দুর পক্ষে পাল্লা নেওয়া মুশকিল। যেহেতু মমতা প্রার্থী তাই এতগুলো বুথে এগনো প্রায় অসম্ভব মনে হওয়ায় মমতাই যে অনেক এগিয়ে তা পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে।