২৫ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
২৫ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

সরকারি চাকরির লোভ দেখিয়ে অসংখ্য মানুষের সঙ্গে প্রতারণা, অপরাধীকে পাকড়াও করল নিউ আলিপুর থানার পুলিশ

নিজস্ব প্রতিনিধি : ঘটনার শুরু ২০১৫-তে। সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরই প্রতারণার কারবার ফেঁদে বসেছিলেন বেলঘরিয়ার বাসিন্দা অঞ্জন সেনগুপ্ত। নিজেকে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উচ্চপদস্থ অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়ে অসংখ্য মানুষকে সরকারি চাকরির টোপ দিতেন। শুধু চাকরিই নয়, কাঙ্ক্ষিত জায়গায় বদলির কথাও থাকত সেই টোপে। তবে বিনামূল্যে কী করে এত কিছু হবে? তাই ভাল চাকরি কিংবা ভাল জায়গায় বদলির প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে মোটা পরিমাণ টাকাও দিতে হত অঞ্জনবাবুকে। এবং সিংহভাগই অগ্রিম। টাকা দেওয়ার পরেও অবশ্য সরকারি চাকরি বা ভাল জায়গায় বদলির সুসংবাদ পাননি কেউই। আর এভাবেই ২০১৫-২০১৭, এই ২ বছরের মধ্যে অসংখ্য মানুষকে প্রতারণা করে গা ঢাকা দিয়েছিলেন অঞ্জন সেনগুপ্ত। স্কুলের শিক্ষক, অধ্যাপক, এমনকি পুলিশ অফিসাররাও ছিলেন প্রতারিতদের তালিকায়।

অঞ্জন সেনগুপ্তর বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগটি জমা পড়ে নিউ আলিপুর থানায়, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে। এক মহিলা জানান, সরকারি হাসপাতালে নার্সের চাকরি করে দেওয়ার টোপ দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে মোট ১০ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন অঞ্জন। একবারে পুরো টাকা নয়। কখনও নগদে, কখনও বা একাধিক অ্যাকাউন্টে পাঠাতে হয়েছিল টাকা। বলা বাহুল্য, সমস্ত টাকা দেওয়ার পরেও সরকারি হাসপাতালে চাকরি পাননি মহিলা বরং, অঞ্জন সেনগুপ্ত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগই বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

তদন্তে নামে নিউ আলিপুর থানার বিশেষ টিম। নিজের সমস্ত সম্পত্তি বেচে দিয়ে ততদিনে গা ঢাকা দিয়েছেন অঞ্জন। খোঁজ মেলেনি। কিন্তু তদন্তের সূত্রে উঠে এসেছিল আরও অসংখ্য প্রতারিত মানুষদের কথা। একই চিত্রনাট্যে তাঁদের থেকেও মোটা পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন অঞ্জন।

প্রায় ২ বছর কেটে গেলেও অঞ্জনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এমন সময়েই, অঞ্জনের পুরনো একটি মোবাইল নম্বরের হদিশ পান তদন্তকারী অফিসাররা। কল রেকর্ড যাচাই করে অফিসাররা দেখেন, সেই নম্বর থেকে করা শেষ ফোনের পরেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন অঞ্জন। কার নম্বরে শেষবার ফোন করেছিলেন, খতিয়ে দেখা হয়। দেখা যায়, নম্বরটি এখনও চালু এবং সেটি ব্যবহার করছেন অঞ্জনের স্ত্রী। প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়। অবশেষে খোঁজ মেলে অঞ্জনের লুকোনো ডেরার।

লুকোনো অবশ্য বলা যায় না মোটেই। শ্রীরামপুরের জগন্নাথ ঘাট রোডের একটা বাড়িতে গত এক বছর ধরে বহাল তবিয়তেই বাস করছিলেন অঞ্জন সেনগুপ্ত। অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার পরিচয় দিয়ে এলাকায় রীতিমতো সম্ভ্রমের পাত্র করে তুলেছিলেন নিজেকে। তৈরি করেছিলেন ভুয়ো পরিচয়পত্র।

জগন্নাথ ঘাট রোডের সেই বাড়ি থেকেই অঞ্জনকে দিনকয়েক আগে গ্রেপ্তার করেছে নিউ আলিপুর থানার বিশেষ টিম। এখনও অবধি অঞ্জনের মোট ১৪টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারী অফিসাররা। প্রতিটি অ্যাকাউন্টের লেনদেনই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

নিচে থাকল ধৃত অঞ্জন সেনগুপ্তর আগের ও বর্তমান চেহারার ছবি। তদন্তকারী অফিসারদের এবং বাজেয়াপ্ত হওয়া সামগ্রীর ছবিও থাকল।

তারাতলায় বিপর্যয়, ভেঙে পড়লো বেসরকারি গুদামঘরের ছাদ

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

সরকারি চাকরির লোভ দেখিয়ে অসংখ্য মানুষের সঙ্গে প্রতারণা, অপরাধীকে পাকড়াও করল নিউ আলিপুর থানার পুলিশ

আপডেট : ২০ অগাস্ট ২০১৯, মঙ্গলবার

নিজস্ব প্রতিনিধি : ঘটনার শুরু ২০১৫-তে। সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরই প্রতারণার কারবার ফেঁদে বসেছিলেন বেলঘরিয়ার বাসিন্দা অঞ্জন সেনগুপ্ত। নিজেকে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উচ্চপদস্থ অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়ে অসংখ্য মানুষকে সরকারি চাকরির টোপ দিতেন। শুধু চাকরিই নয়, কাঙ্ক্ষিত জায়গায় বদলির কথাও থাকত সেই টোপে। তবে বিনামূল্যে কী করে এত কিছু হবে? তাই ভাল চাকরি কিংবা ভাল জায়গায় বদলির প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে মোটা পরিমাণ টাকাও দিতে হত অঞ্জনবাবুকে। এবং সিংহভাগই অগ্রিম। টাকা দেওয়ার পরেও অবশ্য সরকারি চাকরি বা ভাল জায়গায় বদলির সুসংবাদ পাননি কেউই। আর এভাবেই ২০১৫-২০১৭, এই ২ বছরের মধ্যে অসংখ্য মানুষকে প্রতারণা করে গা ঢাকা দিয়েছিলেন অঞ্জন সেনগুপ্ত। স্কুলের শিক্ষক, অধ্যাপক, এমনকি পুলিশ অফিসাররাও ছিলেন প্রতারিতদের তালিকায়।

অঞ্জন সেনগুপ্তর বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগটি জমা পড়ে নিউ আলিপুর থানায়, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে। এক মহিলা জানান, সরকারি হাসপাতালে নার্সের চাকরি করে দেওয়ার টোপ দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে মোট ১০ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন অঞ্জন। একবারে পুরো টাকা নয়। কখনও নগদে, কখনও বা একাধিক অ্যাকাউন্টে পাঠাতে হয়েছিল টাকা। বলা বাহুল্য, সমস্ত টাকা দেওয়ার পরেও সরকারি হাসপাতালে চাকরি পাননি মহিলা বরং, অঞ্জন সেনগুপ্ত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগই বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

তদন্তে নামে নিউ আলিপুর থানার বিশেষ টিম। নিজের সমস্ত সম্পত্তি বেচে দিয়ে ততদিনে গা ঢাকা দিয়েছেন অঞ্জন। খোঁজ মেলেনি। কিন্তু তদন্তের সূত্রে উঠে এসেছিল আরও অসংখ্য প্রতারিত মানুষদের কথা। একই চিত্রনাট্যে তাঁদের থেকেও মোটা পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন অঞ্জন।

প্রায় ২ বছর কেটে গেলেও অঞ্জনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এমন সময়েই, অঞ্জনের পুরনো একটি মোবাইল নম্বরের হদিশ পান তদন্তকারী অফিসাররা। কল রেকর্ড যাচাই করে অফিসাররা দেখেন, সেই নম্বর থেকে করা শেষ ফোনের পরেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন অঞ্জন। কার নম্বরে শেষবার ফোন করেছিলেন, খতিয়ে দেখা হয়। দেখা যায়, নম্বরটি এখনও চালু এবং সেটি ব্যবহার করছেন অঞ্জনের স্ত্রী। প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়। অবশেষে খোঁজ মেলে অঞ্জনের লুকোনো ডেরার।

লুকোনো অবশ্য বলা যায় না মোটেই। শ্রীরামপুরের জগন্নাথ ঘাট রোডের একটা বাড়িতে গত এক বছর ধরে বহাল তবিয়তেই বাস করছিলেন অঞ্জন সেনগুপ্ত। অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার পরিচয় দিয়ে এলাকায় রীতিমতো সম্ভ্রমের পাত্র করে তুলেছিলেন নিজেকে। তৈরি করেছিলেন ভুয়ো পরিচয়পত্র।

জগন্নাথ ঘাট রোডের সেই বাড়ি থেকেই অঞ্জনকে দিনকয়েক আগে গ্রেপ্তার করেছে নিউ আলিপুর থানার বিশেষ টিম। এখনও অবধি অঞ্জনের মোট ১৪টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারী অফিসাররা। প্রতিটি অ্যাকাউন্টের লেনদেনই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

নিচে থাকল ধৃত অঞ্জন সেনগুপ্তর আগের ও বর্তমান চেহারার ছবি। তদন্তকারী অফিসারদের এবং বাজেয়াপ্ত হওয়া সামগ্রীর ছবিও থাকল।