২৫ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
২৫ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

সাম্প্রদায়িকতাকে বঙ্গোপসাগরে বিসর্জন দাও মুরার‌‌ইয়ের সভায় বার্তা সামিরুল ইসলামের

 

নিজস্ব সংবাদদাতা- মঙ্গলবার বীরভূমের পাইকরে বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চ ও নিন্দা ও প্রতিবাদ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উদ্যোগে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মুরারই ও পাইকরের বিশিষ্ট মানুষজন এই আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন।এই আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চের সভাপতি ডঃ সামিরুল ইসলাম, বিজ্ঞানী ডঃ মুনকির হোসেন, বিশিষ্ট সমাজসেবী মেহেদী হাসান, ডক্টর রামিজ শেখ ছাড়াও নিন্দা ও প্রতিবাদ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সদস্যগণ।

বর্তমানে যেভাবে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প সারা ভারতবর্ষে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে তা এই সমাজটাকে ক্ষতবিক্ষত করছে।সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই করে ভারতবর্ষের ঐকতা ফিরিয়ে আনায় ছিল এই আলোচনা সভার মূল বিষয়।বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চের সভাপতি সামিরুল ইসলাম জানান সমষ্টির মাঝে সামাজিক মূল্যবোধের শুভ দিক জাগ্রত না হলে শুভ কোনো কিছুর সন্ধান আমরা পাব না। আগে ভাবতে হবে আমাদের ব্যক্তি জীবনের কর্মসাধনের ক্ষেত্রে নৈতিকতার কতটুকু সমন্বয় ঘটেছে। আমাদের ব্যক্তি জীবনের মাঝে যদি নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা না থাকে, দেখা যাবে সমষ্টির মধ্যেও নৈতিকতার বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে না।বাস্তব অবস্থার যদি আমরা বিচার-বিশ্লেষণ করতে যাই, তাহলে দেখতে পাব আমরা সাধারণ মানুষের দল ক্রমাগত ভয়াল এক অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছি। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে আমরা সুদূরপ্রসারী আলোক রেখায় স্নাত হয়ে আলোকিত মানুষ হতে পারছি না। লোভই বলি আর স্বার্থের কথাই বলি অর্থাৎ যা-ই বলি না কেন, আমাদের সেই লোভ লালসার আগুন এতটাই পুড়িয়ে ছারখার করছে যে, যার জন্য আজ আমরা নিজের জ্ঞান গরিমা সততার ওজন কিছুরই সঠিক হিসাব-নিকাশ করতে পারছি না।


আমরা কর্মক্ষেত্রে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে প্রতিদিনের যেসব কাজকর্ম সম্পাদন করছি, সেই কাজকর্মের মূল্যায়ন সঠিকভাবে করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। নিজের কর্মের কিংবা জ্ঞানের ওজন আমরা বুঝি না বলেই, আজ একজন মানুষ শত লেখাপড়া করেও অসৎকর্ম অর্থাৎ চরম নোংরামি করতেও দ্বিধাবোধ করেন না। আমরা দেশবাসী অদ্ভুত এক আঁধারের করতলে করতলগত হয়ে বসবাস করছি। রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বক্ষেত্রে অন্ধকার তার থাবা প্রসারিত করে যাচ্ছে। আজ যেন যার সুন্দর করে কথা বলার ক্ষমতা নেই, সেই সর্বত্র কথা বলছে। তার কথাই যেন আমরা বেশি করে শুনতে বাধ্য হচ্ছি কিংবা আমাদের তার কথা শুনতে বাধ্য করা হচ্ছে। আজ যার কোনো কিছু দেখে বিচার-বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা নেই, সেই হচ্ছে সব জটিল প্রশ্নের বিচার-বিশ্লেষক। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এই যে, অযোগ্য লোকের দেখানো কুৎসিত কোনো কিছুকে সুন্দর বলতে আমরা ব্যাকুল হয়ে থাকি। আরো ব্যাখ্যা করে বলা যায়, যার কিংবা যাদের কোনো কিছু বোঝানোর ক্ষমতা নেই, সেই রকম অজ্ঞানদের বোঝানো ব্যাখ্যাসমূহকে আমরা ধরে নিচ্ছি সঠিক আলোচিত বিচার-বিশ্লেষণ বলে। আমরা অলস এবং ভীতু। আমরা মেঘের বিদ্যুৎ রেখার মতো জ্বলে উঠে আবার নিভে যাই। তারপর বিশ্রী এক অন্ধকারের কাছে আত্মসমর্পণ করে বসে থাকি।

বিজ্ঞানী মুনকির হোসেনের কথায় নৈতিকতা কিংবা সামাজিক মূল্যবোধের কথা আমরা যাই বলি না কেন, আমাদের আগে ভাবতে হবে আমরা যে পথ ধরে হাঁটছি সেই পথের কথার সঙ্গে আমাদের নৈতিক জীবনের মিল কতটুকু আছে। নৈতিকতা নিয়ে একজন ব্যক্তি তখনই জোর গলায় কথা বলতে পারেন যখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজের কর্ম এবং নৈতিকতার মাঝে সমন্বয় ঘটিয়ে সুন্দরের মেলবন্ধন ঘটাতে পারেন। তাই আমাদের সকলের উচিত সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই করে একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা।

তারাতলায় বিপর্যয়, ভেঙে পড়লো বেসরকারি গুদামঘরের ছাদ

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

সাম্প্রদায়িকতাকে বঙ্গোপসাগরে বিসর্জন দাও মুরার‌‌ইয়ের সভায় বার্তা সামিরুল ইসলামের

আপডেট : ১৩ অগাস্ট ২০১৯, মঙ্গলবার

 

নিজস্ব সংবাদদাতা- মঙ্গলবার বীরভূমের পাইকরে বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চ ও নিন্দা ও প্রতিবাদ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উদ্যোগে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মুরারই ও পাইকরের বিশিষ্ট মানুষজন এই আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন।এই আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চের সভাপতি ডঃ সামিরুল ইসলাম, বিজ্ঞানী ডঃ মুনকির হোসেন, বিশিষ্ট সমাজসেবী মেহেদী হাসান, ডক্টর রামিজ শেখ ছাড়াও নিন্দা ও প্রতিবাদ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সদস্যগণ।

বর্তমানে যেভাবে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প সারা ভারতবর্ষে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে তা এই সমাজটাকে ক্ষতবিক্ষত করছে।সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই করে ভারতবর্ষের ঐকতা ফিরিয়ে আনায় ছিল এই আলোচনা সভার মূল বিষয়।বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চের সভাপতি সামিরুল ইসলাম জানান সমষ্টির মাঝে সামাজিক মূল্যবোধের শুভ দিক জাগ্রত না হলে শুভ কোনো কিছুর সন্ধান আমরা পাব না। আগে ভাবতে হবে আমাদের ব্যক্তি জীবনের কর্মসাধনের ক্ষেত্রে নৈতিকতার কতটুকু সমন্বয় ঘটেছে। আমাদের ব্যক্তি জীবনের মাঝে যদি নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা না থাকে, দেখা যাবে সমষ্টির মধ্যেও নৈতিকতার বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে না।বাস্তব অবস্থার যদি আমরা বিচার-বিশ্লেষণ করতে যাই, তাহলে দেখতে পাব আমরা সাধারণ মানুষের দল ক্রমাগত ভয়াল এক অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছি। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে আমরা সুদূরপ্রসারী আলোক রেখায় স্নাত হয়ে আলোকিত মানুষ হতে পারছি না। লোভই বলি আর স্বার্থের কথাই বলি অর্থাৎ যা-ই বলি না কেন, আমাদের সেই লোভ লালসার আগুন এতটাই পুড়িয়ে ছারখার করছে যে, যার জন্য আজ আমরা নিজের জ্ঞান গরিমা সততার ওজন কিছুরই সঠিক হিসাব-নিকাশ করতে পারছি না।


আমরা কর্মক্ষেত্রে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে প্রতিদিনের যেসব কাজকর্ম সম্পাদন করছি, সেই কাজকর্মের মূল্যায়ন সঠিকভাবে করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। নিজের কর্মের কিংবা জ্ঞানের ওজন আমরা বুঝি না বলেই, আজ একজন মানুষ শত লেখাপড়া করেও অসৎকর্ম অর্থাৎ চরম নোংরামি করতেও দ্বিধাবোধ করেন না। আমরা দেশবাসী অদ্ভুত এক আঁধারের করতলে করতলগত হয়ে বসবাস করছি। রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বক্ষেত্রে অন্ধকার তার থাবা প্রসারিত করে যাচ্ছে। আজ যেন যার সুন্দর করে কথা বলার ক্ষমতা নেই, সেই সর্বত্র কথা বলছে। তার কথাই যেন আমরা বেশি করে শুনতে বাধ্য হচ্ছি কিংবা আমাদের তার কথা শুনতে বাধ্য করা হচ্ছে। আজ যার কোনো কিছু দেখে বিচার-বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা নেই, সেই হচ্ছে সব জটিল প্রশ্নের বিচার-বিশ্লেষক। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এই যে, অযোগ্য লোকের দেখানো কুৎসিত কোনো কিছুকে সুন্দর বলতে আমরা ব্যাকুল হয়ে থাকি। আরো ব্যাখ্যা করে বলা যায়, যার কিংবা যাদের কোনো কিছু বোঝানোর ক্ষমতা নেই, সেই রকম অজ্ঞানদের বোঝানো ব্যাখ্যাসমূহকে আমরা ধরে নিচ্ছি সঠিক আলোচিত বিচার-বিশ্লেষণ বলে। আমরা অলস এবং ভীতু। আমরা মেঘের বিদ্যুৎ রেখার মতো জ্বলে উঠে আবার নিভে যাই। তারপর বিশ্রী এক অন্ধকারের কাছে আত্মসমর্পণ করে বসে থাকি।

বিজ্ঞানী মুনকির হোসেনের কথায় নৈতিকতা কিংবা সামাজিক মূল্যবোধের কথা আমরা যাই বলি না কেন, আমাদের আগে ভাবতে হবে আমরা যে পথ ধরে হাঁটছি সেই পথের কথার সঙ্গে আমাদের নৈতিক জীবনের মিল কতটুকু আছে। নৈতিকতা নিয়ে একজন ব্যক্তি তখনই জোর গলায় কথা বলতে পারেন যখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজের কর্ম এবং নৈতিকতার মাঝে সমন্বয় ঘটিয়ে সুন্দরের মেলবন্ধন ঘটাতে পারেন। তাই আমাদের সকলের উচিত সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই করে একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা।