৩০ মে ২০২৬, শনিবার, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
৩০ মে ২০২৬, শনিবার, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

খনি-শিল্পাঞ্চলে শান্তিতে ঈদুজ্জোহা পালিত

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ আসানসোলঃ পশ্চিম বর্ধমান জেলার খনি-শিল্পাঞ্চলে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিতে পালিত হল ঈদ উল আজহা । রাণীগঞ্জ, আসানসোল, দূর্গাপুরের সর্বত্রই ছিল উৎসবের ছবি, ঈদুজ্জোহার নামায সকাল সকাল সম্পন্ন হয়। এলাকার প্রাচীন গ্রাম নিমশায় উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হয় ঈদ উল আজহা ।

নিমশার মানুষ ঈদ ও ঈদ উল আজহা’র নামায পড়তে যান আলীনগর গ্রামে, যে গ্রামে কোনও মুসলিম পরিবার নেই। ১০০ শতাংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসছে এই ঐতিহ্যধারা। স্বাধীনতার পরে বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনেও তার ছেদ পড়েনি । স্থানীয় মানুষজনের অভিমত, সমাজের সম্প্রীতি রক্ষায় হিন্দু – মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের আন্তরিক ইচ্ছাই এর মূল কারণ। তিনশো বছরেরও অধিক প্রাচীন এই জনপদে হিন্দু – মুসলমান বসবাস করছেন পাশাপাশি, কখনও কোনও অশান্তির নজির নেই।
স্থানীয় অধিবাসীদের অনেকে জানান, যেখানে নামায পড়া হয়, সেটি আসলে একটা ঝাঁও বা ঝামা পাথরের তৈরি পাহাড়। শোনা যায়, ব্রিটিশ শাসন কালে নীলকর সাহেবদের নীল চাষের বিরুদ্ধে স্থানীয় আয়মাদার আলী সাহেব কয়েকটি চূড়া তৈরি করেন । এই চূড়াটি হল তার অন্যতম। তাঁরই নামে গ্রামের নাম আলীনগর বলে শোনা যায়। এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে নামায পড়তে যাওয়া সব বয়সের মানুষের এক বিরাট আনন্দের। পাহাড়ের উপর নামায পড়ার মধ্যেও রয়েছে এক ভিন্ন অনুভূতি। বৃষ্টি না হলে মানুষ এখানেই নামায পড়তে বেশি আগ্রহী। তিন হাজারের অধিক মানুষ নামাযের জামাতে অংশ নেন। ইমামতি করেন নিমশা মদীনা মসজিদের ঈমাম হাফিজ সৈয়দ সদুরুদ্দিন আহমেদ। নামায শেষে মানুষ ভালবাসার আলিঙ্গনে আবদ্ধ হন ।

খনি-শিল্পাঞ্চলে শান্তিতে ঈদুজ্জোহা পালিত

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

খনি-শিল্পাঞ্চলে শান্তিতে ঈদুজ্জোহা পালিত

আপডেট : ৩০ মে ২০২৬, শনিবার

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ আসানসোলঃ পশ্চিম বর্ধমান জেলার খনি-শিল্পাঞ্চলে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিতে পালিত হল ঈদ উল আজহা । রাণীগঞ্জ, আসানসোল, দূর্গাপুরের সর্বত্রই ছিল উৎসবের ছবি, ঈদুজ্জোহার নামায সকাল সকাল সম্পন্ন হয়। এলাকার প্রাচীন গ্রাম নিমশায় উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হয় ঈদ উল আজহা ।

নিমশার মানুষ ঈদ ও ঈদ উল আজহা’র নামায পড়তে যান আলীনগর গ্রামে, যে গ্রামে কোনও মুসলিম পরিবার নেই। ১০০ শতাংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসছে এই ঐতিহ্যধারা। স্বাধীনতার পরে বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনেও তার ছেদ পড়েনি । স্থানীয় মানুষজনের অভিমত, সমাজের সম্প্রীতি রক্ষায় হিন্দু – মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের আন্তরিক ইচ্ছাই এর মূল কারণ। তিনশো বছরেরও অধিক প্রাচীন এই জনপদে হিন্দু – মুসলমান বসবাস করছেন পাশাপাশি, কখনও কোনও অশান্তির নজির নেই।
স্থানীয় অধিবাসীদের অনেকে জানান, যেখানে নামায পড়া হয়, সেটি আসলে একটা ঝাঁও বা ঝামা পাথরের তৈরি পাহাড়। শোনা যায়, ব্রিটিশ শাসন কালে নীলকর সাহেবদের নীল চাষের বিরুদ্ধে স্থানীয় আয়মাদার আলী সাহেব কয়েকটি চূড়া তৈরি করেন । এই চূড়াটি হল তার অন্যতম। তাঁরই নামে গ্রামের নাম আলীনগর বলে শোনা যায়। এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে নামায পড়তে যাওয়া সব বয়সের মানুষের এক বিরাট আনন্দের। পাহাড়ের উপর নামায পড়ার মধ্যেও রয়েছে এক ভিন্ন অনুভূতি। বৃষ্টি না হলে মানুষ এখানেই নামায পড়তে বেশি আগ্রহী। তিন হাজারের অধিক মানুষ নামাযের জামাতে অংশ নেন। ইমামতি করেন নিমশা মদীনা মসজিদের ঈমাম হাফিজ সৈয়দ সদুরুদ্দিন আহমেদ। নামায শেষে মানুষ ভালবাসার আলিঙ্গনে আবদ্ধ হন ।