দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: দুর্গাপুজোর ভিআইপি পাস নিয়ে দুর্নীতি এবং আর্থিক তছরুপের অভিযোগের রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারির পর বড় হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। তিনি দাবি করেন, “ঠিক সময়ে বড় জায়গাতেও হাত পড়বে”। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বলেন, “ওঁর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ ছিল। তদন্ত চলছে। ইডি, পুলিশ সকলেই তদন্ত করছিল। মমতা ব্যানার্জির প্রত্যক্ষ মদতে, একই গাড়িতে ঘুরতেন, একই সঙ্গে গান করতেন। তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার। আইনি প্রক্রিয়া চলবে।” তাঁর সংযোজন, “মমতা ব্যানার্জি, ইন্দ্রনীল সেন একে অন্যের পরিপূরক ছিলেন। যা পরিণতি হওয়ার হচ্ছে।” এরপরই তাঁর হুঁশিয়ারি, “সবে তো চা-বিস্কুট। এখনও ব্রেকফাস্ট হয়নি। প্রাতিষ্ঠানিক চোরেদের সব জেলে যেতে হবে। ঠিক সময়ে বড় জায়গাতেও হাত পড়বে।”
প্রসঙ্গত, ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে বউবাজার থানায় ‘মাস আর্ট’ নামক এক সংস্থার দ্বারা দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো ও ভিআইপি পাস বিক্রি ও কোটি কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ রয়েছে, যা দায়ের করেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ট্রাভেল এজেন্ট। সেই অভিযোগের তদন্ত করছে লালবাজারের গোয়েন্দা শাখা। অন্যদিকে, পাস বিক্রি নিয়ে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্টের আওতায় মামলার তদন্ত শুরু করেছে ইডি।
উল্লেখ্য, ২০২২ থেকে ২০২৪এর মধ্যে ১ লক্ষ্যেরও বেশি প্রিভিউ কার্ড বিক্রি করেছিল ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থা, যা বাড়ে দ্বিগুণ শুধু তাই নয়, ডোনার কার্ডও বিক্রি হয়েছিল বিপুল অর্থ। সেই ৬০ কোটি টাকার অংশ আদৌ কোনও পুজো কমিটির অ্যাকাউন্টে গিয়েছিল কিনা, তা নিয়ে ইন্দ্রনীলকে আগেই জেরা করেছে ইডি। এমনকি তাঁর হুগলির বাড়িতেও চলেছিল তল্লাশি এবং তদন্ত শুরু করেছিল পুলিশ। আগাম জামিনের আবেদন নিয়ে তিনি কলকাতা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থও হয়েছিলেন। তবে তা খারিজ করে দেওয়া হয়। বুধবার তিনি সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেন। সেখান থেকে বেরোনোর পরই আটক হয়েছেন লালবাজারের গোয়েন্দা সেলের হাতে। এক্ষেত্রে দেখার যে পরবর্তীতে কী ঘটে।
নতুন গতি 











