১৪ অগাস্ট ২০২৬, শুক্রবার, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
১৪ অগাস্ট ২০২৬, শুক্রবার, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

উচ্ছেদের বিরোধিতা জানিয়ে ফাঁসির মঞ্চ গড়ে প্রতীকী বিক্ষোভ

নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: ৪০০টি বাড়িতে উচ্ছেদের নোটিশ দিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে ঘরবাড়ি সরানোর নির্দেশ দেয় রেল। তাদের সাফ কথা, নির্দেশ না মানা হলে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ভেঙে দেওয়া হবে ঘরবাড়ি। এর প্রতিবাদ জানাতে মঙ্গলবার ফুলবাড়ি–১ গ্রাম পঞ্চায়েতের রামনগর মজদুর বস্তি উচ্ছেদ বিরোধী নাগরিক কমিটি ফাঁসির মঞ্চ গড়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানায়। বাসিন্দাদের তরফ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, পুনর্বাসন ছাড়া সরবেন না তাঁরা। শুধু তাই নয়, আন্দোলন করতে গিয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি হতেও প্রস্তুত, প্রতীকীভাবে ফাঁসির দড়ি গলায় দিয়ে এমনটাও জ্বালানো হয়েছে।

জানা গিয়েছে, উচ্ছেদের নোটিশ পাওয়া বাসিন্দারা বিকেলে পাকুড়তলা মোড়ও অবরোধ করেন। ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবস হওয়ায় ফাঁসির মঞ্চ গড়ে প্রতীকী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে নাগরিক কমিটি। কমিটির আহ্বায়ক আশিস রায় বলেছেন, “পুনর্বাসন ছাড়া আমরা এক ইঞ্চি জায়গাও ছাড়ব না। রেল শক্তি খাটিয়ে আমাদের তোলার চেষ্টা করলে আমরা জীবন দিয়ে সেই উচ্ছেদ অভিযান প্রতিহত করব। বাঁশবাড়িতে রাজ্য সরকারের তরফে আমাদের বসানো হয়েছে।” অবরোধের খবর পেয়ে এনজেপি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলায় অবরোধ ওঠে। নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক জয় লোধ বলেন, “রেল পুনর্বাসন ছাড়াই সর্বত্র উচ্ছেদের নোটিশ দিচ্ছে। বাসিন্দারা এখানে কয়েক দশক ধরে বাস করছেন। জলপাইগুড়িতে বন্যার সময় অনেককে সেখান থেকে সরিয়ে জেলা প্রশাসন বাঁশবাড়িতে বসায়। পুনর্বাসন ছাড়া আমরা কাউকেই ওঠাতে দেব না।”

শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৬, ৭, ২৪ এবং ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইনের পাশে থাকা বস্তিবাসীদেরও রেল নোটিশ দিয়েছে। বেআইনিভাবে রেলের জমি দখল করে বসবাসের অভিযোগে ওই ওয়ার্ডগুলির বাসিন্দাদের শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছিল। নথিপত্রও জমা দেন তাঁরা। এরপর থেকেই বাসিন্দাদের মধ্যে উচ্ছেদ ঘিরে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। বাগরাকোটের পাইকারি সবজি বাজারের ৩০৬টি দোকানেও নোটিশ দিয়েছে রেল। সেখানকার ব্যবসায়ীদের ২১ অগাস্ট ডাকা হয়েছে কাটিহারে ডিআরএম অফিসে। এই অবস্থায় শিলিগুড়ি পুরনিগম ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের পরিকল্পনা, আগামী ১৭ অগাস্ট নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের এডিআরএম অফিসে বিক্ষোভ দেখানো।

আলীনগরে মহামায়া পূজোয় উৎসব

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

উচ্ছেদের বিরোধিতা জানিয়ে ফাঁসির মঞ্চ গড়ে প্রতীকী বিক্ষোভ

আপডেট : ১৩ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার

নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: ৪০০টি বাড়িতে উচ্ছেদের নোটিশ দিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে ঘরবাড়ি সরানোর নির্দেশ দেয় রেল। তাদের সাফ কথা, নির্দেশ না মানা হলে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ভেঙে দেওয়া হবে ঘরবাড়ি। এর প্রতিবাদ জানাতে মঙ্গলবার ফুলবাড়ি–১ গ্রাম পঞ্চায়েতের রামনগর মজদুর বস্তি উচ্ছেদ বিরোধী নাগরিক কমিটি ফাঁসির মঞ্চ গড়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানায়। বাসিন্দাদের তরফ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, পুনর্বাসন ছাড়া সরবেন না তাঁরা। শুধু তাই নয়, আন্দোলন করতে গিয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি হতেও প্রস্তুত, প্রতীকীভাবে ফাঁসির দড়ি গলায় দিয়ে এমনটাও জ্বালানো হয়েছে।

জানা গিয়েছে, উচ্ছেদের নোটিশ পাওয়া বাসিন্দারা বিকেলে পাকুড়তলা মোড়ও অবরোধ করেন। ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবস হওয়ায় ফাঁসির মঞ্চ গড়ে প্রতীকী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে নাগরিক কমিটি। কমিটির আহ্বায়ক আশিস রায় বলেছেন, “পুনর্বাসন ছাড়া আমরা এক ইঞ্চি জায়গাও ছাড়ব না। রেল শক্তি খাটিয়ে আমাদের তোলার চেষ্টা করলে আমরা জীবন দিয়ে সেই উচ্ছেদ অভিযান প্রতিহত করব। বাঁশবাড়িতে রাজ্য সরকারের তরফে আমাদের বসানো হয়েছে।” অবরোধের খবর পেয়ে এনজেপি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলায় অবরোধ ওঠে। নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক জয় লোধ বলেন, “রেল পুনর্বাসন ছাড়াই সর্বত্র উচ্ছেদের নোটিশ দিচ্ছে। বাসিন্দারা এখানে কয়েক দশক ধরে বাস করছেন। জলপাইগুড়িতে বন্যার সময় অনেককে সেখান থেকে সরিয়ে জেলা প্রশাসন বাঁশবাড়িতে বসায়। পুনর্বাসন ছাড়া আমরা কাউকেই ওঠাতে দেব না।”

শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৬, ৭, ২৪ এবং ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইনের পাশে থাকা বস্তিবাসীদেরও রেল নোটিশ দিয়েছে। বেআইনিভাবে রেলের জমি দখল করে বসবাসের অভিযোগে ওই ওয়ার্ডগুলির বাসিন্দাদের শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছিল। নথিপত্রও জমা দেন তাঁরা। এরপর থেকেই বাসিন্দাদের মধ্যে উচ্ছেদ ঘিরে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। বাগরাকোটের পাইকারি সবজি বাজারের ৩০৬টি দোকানেও নোটিশ দিয়েছে রেল। সেখানকার ব্যবসায়ীদের ২১ অগাস্ট ডাকা হয়েছে কাটিহারে ডিআরএম অফিসে। এই অবস্থায় শিলিগুড়ি পুরনিগম ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের পরিকল্পনা, আগামী ১৭ অগাস্ট নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের এডিআরএম অফিসে বিক্ষোভ দেখানো।