২৬ মে ২০২৬, মঙ্গলবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
২৬ মে ২০২৬, মঙ্গলবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পদ্মশ্রী পাওয়ার পরে বেলাগাম কঙ্গনা,১৯৪৭স্বাধীনতা ভিক্ষা ছিল আসল স্বাধীনতা মিলেছে ২০১৪ সালে

  • নতুন গতি
  • আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২১, বৃহস্পতিবার
  • 5

নতুন গতি, ওয়েব ডেস্ক : ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করে নতুন বিতর্তে জড়ালেন অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত। সদ্যই পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছেন মোদী ভক্ত এই অভিনেত্রী, আর এবার সরাসরি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অপমান করে বসলেন কঙ্গনা! তেমনই অভিযোগ নেটিজেনদের, পিছিয়ে থাকেননি বিজেপি নেতা বরুণ গান্ধীও।

 

এক টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন কঙ্গনা। সেখানে অভিনেত্রী মন্তব্য করেন, ভারত আসল স্বাধীনতা পেয়েছে ২০১৪ সালে। এবং ১৯৪৭ সালে যে স্বাধীনতা এসেছিল সেটা আসলে ‘ভিক্ষা’। মোদীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার ক্ষমতায় এসেছিল ২০১৪ সালে,সেই মর্মেই কঙ্গনার এই মত। বিজেপি নেতা বরুণ গান্ধী কঙ্গনার এই মন্তব্য নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘এ ধরনের চিন্তাভাবনা পাগলামি, না দেশদ্রোহিতা!’ কঙ্গনার ওই বিতর্কিত মন্তব্যে ছেয়ে গেছে টুইটার-ফেসবুক। নেটিজেনরা তীব্র নিন্দা করছেন কঙ্গনার মানসিকতার। তাঁদের দাবি, কঙ্গনার এই মন্তব্য সেই সকল স্বাধীনতা সংগ্রামীর অপমান, যাঁরা দেশের স্বার্থে নিজেদের জীবন উত্সর্গ করেছিলেন।

 

আরএসএস কোনওদিন এই বিষয়টা গ্রহণ করতে পারেনি যে তাঁদের ব্রিটিশ প্রভুরা ১৯৪৭ সালে ভারত ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। ওদের দাসত্বে শেষ নেই। এটাতেও আশ্চর্য হই না, যে ওঁরা প্রায় ৫০ বছর ধরে তিরঙ্গা উত্তোলন করেনি। ২০১৪ সালে পরাধীনতা ফের ফিরে আসাটা ওদের কাছে আসল স্বাধীনতা, কঙ্গনা রানাওয়াত ওদেরই একজন’, টুইট করেন কংগ্রেস নেতা গৌরব পান্ধী।

 

এই মন্তব্যের জেরে আম আদমি পার্টির নেত্রী প্রীতি শর্মা মেনন কঙ্গনার নামে অভিযোগ দায়ের করেন মুম্বই পুলিশে। উস্কানিমূলক ও দেশবিরোধী মন্তব্য করেছেন কঙ্গনা, দাবি প্রীতির। কঙ্গনার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৫০৪, ৫০৫, এবং ১২৪এ ধারায় মামলা রুজু করবার জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন আপ নেত্রী।

 

অন্যদিকে কঙ্গনা রানাওয়াতকে ‘হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটি-র ফ্যান’ বলে কটাক্ষ করেন শিবসেনা নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী। সঙ্গে যোগ করেন, ‘ঝাঁসি কি রানি-সহ আমাদের মহান দেশভক্তরা দেশের জন্য যে আত্মত্যাগ করেছেন, যে রক্ত ঝরিয়েছেন, সবই এক মুহূর্তেই খারিজ করে দেওয়া হল নিজের প্রভুর প্রতি আনুগত্য দেখাতে’।

 

নিজের আসন্ন ছবি ‘তেজাস’-এর জন্য সদ্যই আন্দামানের কারাগারে পৌঁছেছিলেন কঙ্গনা, সেখানে বীর সাভারকারকে যে জেলে বন্দি রাখা হয়েছিল সেই কুঠুরিতে বেশখানিকটা সময় কাটান কঙ্গনা। এরপর তিনি জানিয়েছিলেন, ভারতের ইতিহাসে অনেকেই যোগ্য সম্মান পাননি, অথবা তাঁদের উপযুক্ত সম্মান থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়েই টাইমস নাও-কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে অভিনেত্রী ফের বলেন, ‘১৯৪৭-এ পাওয়া স্বাধীনতা আসলে ‘ভিক্ষা’। কঙ্গনা একথাও যোগ করেছেন, স্বাধীনতভাবে মত প্রকাশের জেরে ফের একবার তাঁর নামে ১০টা মামলা দায়ের হবে, এই বিষয়টিও অজানা নয় তাঁর।

কোর্টপাড়ায় শোকের ছায়া! না ফেরার দেশে বর্ষীয়ান আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

পদ্মশ্রী পাওয়ার পরে বেলাগাম কঙ্গনা,১৯৪৭স্বাধীনতা ভিক্ষা ছিল আসল স্বাধীনতা মিলেছে ২০১৪ সালে

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২১, বৃহস্পতিবার

নতুন গতি, ওয়েব ডেস্ক : ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করে নতুন বিতর্তে জড়ালেন অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত। সদ্যই পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছেন মোদী ভক্ত এই অভিনেত্রী, আর এবার সরাসরি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অপমান করে বসলেন কঙ্গনা! তেমনই অভিযোগ নেটিজেনদের, পিছিয়ে থাকেননি বিজেপি নেতা বরুণ গান্ধীও।

 

এক টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন কঙ্গনা। সেখানে অভিনেত্রী মন্তব্য করেন, ভারত আসল স্বাধীনতা পেয়েছে ২০১৪ সালে। এবং ১৯৪৭ সালে যে স্বাধীনতা এসেছিল সেটা আসলে ‘ভিক্ষা’। মোদীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার ক্ষমতায় এসেছিল ২০১৪ সালে,সেই মর্মেই কঙ্গনার এই মত। বিজেপি নেতা বরুণ গান্ধী কঙ্গনার এই মন্তব্য নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘এ ধরনের চিন্তাভাবনা পাগলামি, না দেশদ্রোহিতা!’ কঙ্গনার ওই বিতর্কিত মন্তব্যে ছেয়ে গেছে টুইটার-ফেসবুক। নেটিজেনরা তীব্র নিন্দা করছেন কঙ্গনার মানসিকতার। তাঁদের দাবি, কঙ্গনার এই মন্তব্য সেই সকল স্বাধীনতা সংগ্রামীর অপমান, যাঁরা দেশের স্বার্থে নিজেদের জীবন উত্সর্গ করেছিলেন।

 

আরএসএস কোনওদিন এই বিষয়টা গ্রহণ করতে পারেনি যে তাঁদের ব্রিটিশ প্রভুরা ১৯৪৭ সালে ভারত ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। ওদের দাসত্বে শেষ নেই। এটাতেও আশ্চর্য হই না, যে ওঁরা প্রায় ৫০ বছর ধরে তিরঙ্গা উত্তোলন করেনি। ২০১৪ সালে পরাধীনতা ফের ফিরে আসাটা ওদের কাছে আসল স্বাধীনতা, কঙ্গনা রানাওয়াত ওদেরই একজন’, টুইট করেন কংগ্রেস নেতা গৌরব পান্ধী।

 

এই মন্তব্যের জেরে আম আদমি পার্টির নেত্রী প্রীতি শর্মা মেনন কঙ্গনার নামে অভিযোগ দায়ের করেন মুম্বই পুলিশে। উস্কানিমূলক ও দেশবিরোধী মন্তব্য করেছেন কঙ্গনা, দাবি প্রীতির। কঙ্গনার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৫০৪, ৫০৫, এবং ১২৪এ ধারায় মামলা রুজু করবার জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন আপ নেত্রী।

 

অন্যদিকে কঙ্গনা রানাওয়াতকে ‘হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটি-র ফ্যান’ বলে কটাক্ষ করেন শিবসেনা নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী। সঙ্গে যোগ করেন, ‘ঝাঁসি কি রানি-সহ আমাদের মহান দেশভক্তরা দেশের জন্য যে আত্মত্যাগ করেছেন, যে রক্ত ঝরিয়েছেন, সবই এক মুহূর্তেই খারিজ করে দেওয়া হল নিজের প্রভুর প্রতি আনুগত্য দেখাতে’।

 

নিজের আসন্ন ছবি ‘তেজাস’-এর জন্য সদ্যই আন্দামানের কারাগারে পৌঁছেছিলেন কঙ্গনা, সেখানে বীর সাভারকারকে যে জেলে বন্দি রাখা হয়েছিল সেই কুঠুরিতে বেশখানিকটা সময় কাটান কঙ্গনা। এরপর তিনি জানিয়েছিলেন, ভারতের ইতিহাসে অনেকেই যোগ্য সম্মান পাননি, অথবা তাঁদের উপযুক্ত সম্মান থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়েই টাইমস নাও-কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে অভিনেত্রী ফের বলেন, ‘১৯৪৭-এ পাওয়া স্বাধীনতা আসলে ‘ভিক্ষা’। কঙ্গনা একথাও যোগ করেছেন, স্বাধীনতভাবে মত প্রকাশের জেরে ফের একবার তাঁর নামে ১০টা মামলা দায়ের হবে, এই বিষয়টিও অজানা নয় তাঁর।